দিনাজপুরে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে ১০৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

প্রকাশিতঃ ৮:০৯ অপরাহ্ণ, রবি, ২২ মার্চ ২০

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
করোনা ভাইরাসেরে ঝুঁকি এড়াতে দিনাজপুর জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ১০৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তারা সবাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। রবিবার দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, দিনাজপুরে শনিবার (২২ মার্চ) পর্যন্ত নতুন করে ৪৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ১০৯ জন হয়েছে। গত শনিবার এই সংখ্যা ছিল ৬৫ জন। আর সুস্থ হওয়ায় ইতোমধ্যে ২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় (২১ মার্চ শনিবার বিকেল ৫টা হতে ২২ মার্চ রবিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত) নতুন করে ৪৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা দাড়িয়েছে ১০৯ জনে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে দিনাজপুর সদর উপজেলায় ১৪ জন, বোচাগঞ্জে ৯ জন, কাহারোলে ৮ জন, বীরগঞ্জে ১১ জন, খানসামায় ৪ জন, চিরিরবন্দরে ৫ জন, পার্বতীপুরে ২২ জন, ফুলবাড়ীতে ১৪ জন, বিরামপুরে ৪ জন, নবাবগঞ্জে ৪ জন, হাকিমপুরে ৬ জন ও ঘোড়াঘাট উপজেলায় ৪ জন। তবে তারা সবাই ভাল রয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস।

এ দিকে জেলা প্রশাসক শহরে মাইকিং করে পরবর্তি আদেশ না দেয়া পর্যন্ত সবধরনে সভা সমাবেশ বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছেন। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেয়া হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে এবং জেলার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে শুধুমাত্র সরকারী কর্মকান্ড পরিচালনা ও করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত দাপ্তরিক কর্মকান্ড ব্যতিত দিনাজপুর জেলায় সকল ধরনের সমাবেশ, সেমিনার, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড যেমন-মেলা, গানের আসর এবং কমিউনিটি সেন্টার, পিকনিক স্পট, বিনোদন পার্ক, কোচিং সেন্টার, ক্লাবসমূহে গণজমায়েত, ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেমন-ওয়াজ মাহফিল, নামযজ্ঞ (হরিবাসর), কীর্তনসহ সকল প্রকার গণজমায়েত পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার জন্য বলা হলো এবং প্রয়োজন ব্যতিত বাড়ীর বাইরে যাওয়া ও একই সাথে হোটেল রেষ্টুরেন্টে লোক সমাগম সীমিত রাখার জন্য বলা হরো।”

ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, “ চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়/বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা/বিক্রেতাদের রশিদ গ্রহণ/প্রদান করার জন্য এবং বিক্রেতাদের প্রতিজন ক্রেতার নিকট সর্বোচ্চ ২৫ (পচিঁশ) কেজি চাল বিক্রির জন্য অনুরোধ করা হলো। এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” গত ২১ মার্চ শনিবার জেলা শহরে মাইকিং করে এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ