দুটি লক্ষ্যে ট্রেনের তেল রেশনিং বন্ধের উদ্যোগ

প্রকাশিতঃ ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২১ মে ২০

মাহবুব কবীর মিলন, অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়:

আমার মতে ট্রেন ইঞ্জিনের তেলের রেশনিং প্রথা উঠিয়ে দেয়া উচিৎ। তেলের হিসেব পাই পাই করে নেয়ার সিস্টেম চালু করা প্রয়োজন। লোকো শেড হতে কত লিটার তেল, কবে কখন, কোন লোকোতে কত লিটার তেল ভরা হল, সেটার হিসেব এবং তথ্য যেমন অটোমেডেট বা ডিজিটালাইজ হবে, তেমনি প্রত্যেক লোকোতে জিপিএস ফুয়েল ট্র‍্যাকার থাকবে।

লোকোশেড থেকে কত লিটার তেল ভরা হল ইঞ্জিনে, লোকোর ফুয়েল ট্যাংকে কত লিটার গেল, তা মিলিয়ে নেয়া যাবে রিমোটলি। অর্থাৎ যে কোন কর্মকর্তা এসব কিছু তার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে মনিটর করতে পারবেন।

এলএম যাত্রা শেষে কত লিটার তেল সহ লোকো বুঝিয়ে দিলেন, তার হিসেবও থাকবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

সেই সাথে থাকবে কত লিটার তেল কেনা হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসেব।

তখন থাকবে না ফুয়েল রেশনিং। এলএম সাহেবরা নিশ্চিন্তে নির্ধারিত গতিতে ট্রেন চালাতে পারবেন। থাকবে না তেল বাঁচাবার মানসিকতা, থাকবে না তেল চুরি।

ট্রেন যত জোরে চলবে, তত তেল খরচ হয় তত বেশি। কোঠার বাইরে বেশি তেল খরচ হলে তা এলএম সাহেবদের বেতন থেকে কেটে নেয়া হয়। ট্রেন যত স্লো চলবে, তত তেল বেঁচে যাবে।

তেল চুরি করার জন্য যেমন ট্রেন স্লো চালিয়ে তেল সেইভ করতে হবে, তেমন তেল যাতে বেশি খরচ না হয়, তার জন্য নির্ধারিত গতির চেয়ে কম চালাতে হয়। কারণ বেশি খরচ হলেই, তার দাম পকেট থেকে দিতে হয়।

এই রেশনিং প্রথা একটা দুষ্ট চক্রের সৃষ্টি করেছে। আপনারা অনেকেই জানেন না, ট্রেন গতি না পাবার একটি বড় কারণ এই তেল রেশনিং। আর চুরি, সেটা অন্য বিষয়।

পরিবর্তন আনতে হবে। আনা সম্ভব। মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন সবাই।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।