ধর্ষণের একক কোন কারণ নেই; আছে রিস্ক ফ্যাক্টর

প্রকাশিতঃ ৯:১৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১৩ অক্টোবর ২০

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন (নির্বাহী পরিচালক, বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও অধ্যাপক, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি) :

সব জায়গায় ধর্ষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এখন অনন্ত জলিলকে প্ল্যান করে ধুলাই দিচ্ছে তথাকথিত প্রগতিশীলরা, যারা মূলত ধর্ষক গড়ার কারিগড়! এরা প্রচন্ড ডাবল স্টান্ডার্ড।

কারণের দিক দিয়ে ধর্ষণ এবং ক্যান্সারের মধ্যে মিল রয়েছে। ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কোন কারন নেই। ধূমপান করলে যে ক্যান্সার হয় তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু ধূমপায়ীদের মাঝে ক্যান্সার প্রবনতা বেশী দেখা যায়। তাই অন্যান্য রোগের মত (যেমন কোভিড, ডায়রিয়া) ক্যান্সারের কারন নেই। যেসমস্ত কারণ/ফ্যাক্টের জন্য ক্যান্সার হতে পারে তাদেরকে রিস্ক ফ্যাক্টর/ঝুকিপূর্ন ফ্যাক্টর বলে। অনেকগুলো ফ্যাক্টর এক সাথে কাজ করলে ক্যান্সার দেখা দেয়।

তেমনিভাবে ধর্ষণের একক কোন কারণ নেই; আছে রিস্ক ফ্যাক্টর। ক্যান্সারের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পায় ১০-২০ বছর প্রয়োজন। তেমনিভাবে ধর্ষণকামীতাও silent mode এ থাকতে পারে। পরিবেশ বা অবস্থার প্রেক্ষিতে তা জাগে উঠতে পারে।

মোটাদাগে ধর্ষণের রিস্ক ফ্যাক্টর কী কী হতে পারে-
———-
১। পর্ণগ্রাফি/অশ্লীল মুভি (এটা নিয়ে প্রগতিশীলরা তেমন সোচ্চার নয়)

২। ড্রাগ (ইয়াবা, গাজা এবং মদ)- ম্যাক্সিমাম ধর্ষকদের দেখলে ড্রাগ এডিক্টেড লাগে। এরা গর্হিত কাজ করেও অনুশোচনায় ভোগে না। অনেক রিসার্চে তা প্রমান রয়েছে।

৩। বিচারহীনতা। ক্ষমতার অপব্যবহাকারীদের মধ্যে ড্রাগ নেয়ার প্রবনতা বেশী। তাই ধর্ষক তাদের মধ্য বেশী দেখা যায়। এজন্য নষ্ট পলিটিশিয়ানদের মধ্যে খারাপ কাজ করার প্রবনতা বেশী দেখা যায়।

৪। অশালীন পোষক-পরিচ্ছদ। বিদেশের সুইমিং পুলেও ছেলেদের টিজ করতে দেখেছি। যারা বলে পোষাকের সাথে যৌনতার কোন সম্পর্ক নেই, তারা জেনে-বুঝে মিথ্যা বলে।

৫। খারাপ বন্ধু। গ্রুপে কেউ সিগারেট না খেলে অন্যান্যরা প্রভাবিত করে। তেমনিভাবে ধর্ষকদের সাথে সাধারন ছেলে-পেলে মিশলে সেও ধর্ষক হয়ে উঠতে পারে।

হয়ত আরো অনেক কারণ রয়েছে। সিগারেট যেমন অনেক ক্যান্সারের বড় রিস্ক ফ্যাক্টর, তেমনিভাবে পর্ণগ্রাফি ধর্ষণের বড় রিস্ক ফ্যাক্টর বলে মনে হয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।