নতুন সড়ক আইন সংশোধন সম্ভব নয়: কাদের

প্রকাশিতঃ ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, সোম, ২৫ নভেম্বর ১৯

নিউজ ডেস্ক: নতুন সড়ক পরিবহন আইন এই মুহূর্তে সংশোধন করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন বহাল রেখেই সহনীয় মাত্রায় তা প্রয়োগ করা হবে বলে।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক আইনের সমস্যা সমাধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছি। যখন পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে আমার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তারা তাদের দাবি জানিয়েছেন, আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। এ মুহূর্তে কিছু করা সম্ভব নয়। সংসদে যেহেতু আইন পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বিষয়টি আলোচনা করব।

আইন সংশোধনীর ইঙ্গিত ও বাস্তবায়নে পিছু হটায় এটি মেনে না চলার প্রবণতায় জনমনে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন কোথায় হলো? জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হয়েছে। পরিবর্তন করতে হলে সংসদেই আবার নিয়ে যেতে হবে। সেটা আমরা বলছি তারা (পরিবহন সংশ্লিষ্টরা) দাবি করেছে, সেটা আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।

আইন তো আর কোরআন আর বাইবেল নয় যে, এটাতে সংশোধনের সুযোগ নেই। যদি যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের মতো বাস্তব কোনো যুক্তিসঙ্গত, ন্যায়সঙ্গত বিষয় থাকে সেটা অবশ্যই বিবেচনা করা হবে। কিন্তু যাচাই-বাছাই করার আগে তাদের দাবি নিয়ে আমি তো এখন হুট করে কোনো মন্তব্য করতে পারি না, যে আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন হবে।

আইন মেনে না চলার প্রবণতার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করি এখন আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়ছে। একটা ভয়ভীতি কাজ করছে। যে যাই বলুক আইনের প্রয়োগটা বন্ধ করা হয়নি। কিছু কিছু বিষয়ে বাস্তবতার স্বার্থে শৈথিল্য দেখানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন প্রয়োগে যতটা সহনীয়ভাবে দেখা যায় দেখব। যখন অচলাবস্থা হয় তখন মিডিয়াও বলে ভোগান্তি হচ্ছে। সব বন্ধ হলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। বাস্তবতার নিরিখে রয়ে-সয়ে চলতে হবে। কারণ বাস্তবতা ভিন্ন। আইনের বিধি হয়ে গেলে অনেক কিছু সমাধান হবে। সবার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত তো চাপিয়ে দেয়া হয়নি, সবার সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরিবহন নেতাদের কাছে সরকার জিম্মি কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারও কাছে কেউ জিম্মি নয়। পরিবহনের সঙ্গে দুদিনের অবস্থা বিচার করে দেখেন। মিডিয়া বিষয়টি নিয়ে তিবাচকভাবে আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে এক সপ্তাহ অচলাবস্থা হলে মিডিয়ার সুর পাল্টে যাবে। প্রথম দু-তিনদিন আপনারা আইনের পক্ষে থাকবেন। পণ্য সরবরাহ বন্ধ হলে কী হবে? কাজেই আমাদের হট অ্যান্ড কোল্ড গ্রো করে এগিয়ে যেতে হবে।

সরকার পরিবহন নেতাদের জন্য পিছু হটল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, পিছু হটার বিষয় নেই, যা বাস্তব, দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী যে বিষয় নিয়ে আমাদের অবস্থান নেয়া দরকার, আইনি ব্যবস্থা রেখে জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশে তো ধর্মঘট নেই, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে পারি তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে। কিন্তু তাতে যা হবে তা কি বাস্তবসম্মত হতো।

পরিবহন নেতাদের সিদ্ধান্তের বাইরেও ধর্মঘট হয়েছে, এখানে নানা মেরুকরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, দ্রুত বিআরটিএতে এ বিষয়ে কাজ হবে। জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; দ্রুত জনবল সংকট সমাধান হবে। চালক তৈরির জন্য বিরাট প্রকল্প আছে, বিআরটিসি ও বিআরটিএ উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ চালক সৃষ্টিতে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জন্যই সড়ক আইন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ