নিজ উদ্যোগে বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন কাউন্সিলর এনামুল হক আবুল

প্রকাশিতঃ ৪:০১ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৩ এপ্রিল ২০

সময় জার্নাল প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের কারণে বেকার হওয়া হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত ত্রাণ চুরি করতে যখন ব্যস্ত জনপ্রতিনিধিরা ঠিক সে সময় তার বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে রাজধানীতে। রাজধানীর পল্টন, গুলিস্তান, শান্তিনগর, চামেলীবাগ এলাকার অসহায় হতদরিদ্র পরিবারগুলোর বাসায় সরকারি ও নিজস্ব অর্থায়নে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর ও পল্টন থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এনামুল হক আবুল।

দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে কর্মহীন অসহায় মানুষদের নিরাপদ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ওয়ার্ডের কর্মহীনদের তালিকা করে বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। এ ছাড়াও দলমত নির্বিশেষে এ ওয়ার্ডে অবস্থিত সকল রাজনৈতিক দলের প্রধান কার্যালয়ের কর্মচারিদেরকে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন এই কাউন্সিলর। যে সকল ব্যক্তিরা লজ্জায় ত্রাণের জন্য বলতে পারেন না, তারা কাউন্সিলরের নিজস্ব ফেসবুক পেইজে ভোটার আইডি পাঠিয়ে দিলে বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। লকডাউনের পর থেকে তিনি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রেখেছেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় ওয়ার্ডের সকল অলিগলিতে প্রতিনিয়ত তার পক্ষ থেকে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিরতণ করছেন জনসচেতনতামূলক লিফলেট। গুরুত্বপূণ স্থানে রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা।

শান্তিনগরের বাসিন্দা সাইফুল আলম বলেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে অনেক জনপ্রতিনিধি ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। কিন্তু এই এলাকার বর্তমান কাউন্সিলর এনামুল হক আবুল তার ওয়ার্ডের ছিন্নমূল মানুষ থেকে শুরু করে সকল হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সবচেয়ে ভাল দিক হলো তিনি সবার বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এনামুল হক আবুল বলেন, আমি এখনো কাউন্সিলরের দায়িত্ব পাইনি; কিন্তু সবসময়ের ন্যায় এখনও ওয়ার্ডের জনগণের জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা জানেন করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারিতে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশেও এর সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় প্রত্যেকে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এতেই সংক্রমণ থেকে বাঁচা সম্ভব। তাই আমি উদ্যোগ নিয়েছি যাতে ত্রাণ বিতরণের নামে কোন প্রকার জনসমাগম না হয় সে জন্য তালিকা করে বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি। অনেকে এই সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে কিন্তু লজ্জায় ত্রাণের কথা বলতে পারে না। সে সকল লোকদের একটা তালিকা করেছি। আমার লোকজন দিয়ে তাদের বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশন যে ত্রাণ দিয়েছে তার বাহিরে আমি নিজ অর্থায়নে এই পর্যন্ত ৫ শত লোককে ত্রাণ দিয়েছি। এখনও ১ হাজার ৫ শত লোককে দেওয়ার মতো ত্রাণ মজুদ আছে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। রমজান মাসে যাতে কর্মহীন ও হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দিতে পারি সে পরিকল্পনা করে রেখেছি। সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ