পটুয়াখালীকে করোনামুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসকের কাছে খোলা চিঠি

প্রকাশিতঃ ৫:২৮ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ৯ এপ্রিল ২০

সময় জার্নাল প্রতিবেদক: চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। দিন দিন বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে আঘাত হেনেছে করোনা। আক্রান্ত আর লাশের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় পটুয়াখালী জেলাকে করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে জেলা প্রশাসকের কাছে ফেসবুকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন গলাচিপা থানার বাসিন্দা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী আবু নাঈম নোমান। সময় জার্নালের পাঠকদের জন্য চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

বরাবর,
জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী।

আমি আবু নাঈম নোমান আপনার জেলাধীন গলাচিপা থানার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দু চারটি কথা বলতে চাই। আশা করি ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সেটা দৃশ্যমান। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো করোনার কারনে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে প্রায়। আমরা তাদের তুলনায় এই ঘনবসতি ছোট দেশে কিছুই না!

পরিসংখ্যান বলছে, করোনা যেখানে ছড়াচ্ছে সেখানে চক্রবৃদ্ধি হারে ছড়াচ্ছে। তবে সম্ভাবনার দিক হলো এখনো দেশের ৪৩টি জেলা করোনা মুক্ত, তার মধ্যে আমাদের পটুয়াখালী একটি।

পটুয়াখালী যেহেতু এখনো করোনা মুক্ত, এখন জেলা প্রশাসনের উচিত নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনে নির্দয় আচরণ করা। যত সমস্যাই থাকুক কোনো ভাবেই আর একটি মানুষকেও পটুয়াখালী ঢুকতে দেয়া উচিত না। আশপাশের জেলা থেকে পটুয়াখালী ঢুকার নদী ও স্থলপথ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

বিশেষ করে ঢাকা থেকে আসা তরমুজের ট্রলারগুলো বিশেষ নজরদারিতে রাখা উচিৎ। গত ২৬ তারিখ থেকে পটুয়াখালীতে কয়েক হাজার লোক প্রবেশ করেছে তরমুজের ট্রলারে করে অবৈধভাবে। আপনি শুনলে অবাক হবেন যে, তরমুজ টানার নাম করে অনেক ট্রলার ব্যবসায়ী জনপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে মানুষ বহন করতেছে। স্থানীয় থানা পুলিশ নিরব ভুমিকা পালন করছে, নদী পথে তাদের কোন নজর নেই।।

আরো আবেদন করছি যে, পটুয়াখালীর মহাসড়কগুলোতে নিয়মিত জীবাণূনাশক দেয়া এবং পণ্য নিয়ে যে কোনো গাড়ি ঢুকলে আগে জিবাণুমুক্ত করা এখন সময়ের দাবী।

জেলার অভ্যন্তরে আক্রান্ত লোকজন ঢুকে পড়ার পর একাজগুলো করলেও জনগণ আর কোনো সুফল পাবে না। বরং বড় হতে থাকবে লাশের সারি। প্লিজ আপনারা অগ্রীম ব্যবস্থা নিন।

প্রিয় জেলা প্রশাসক,
সৃষ্টি কর্তার পরে আপনার জিম্মায় আমার পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী তথা পটুয়াখালী জেলার সকলকে রাখলাম। পরিস্থিতি এখনো আপনার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আমি বিশ্বাস করি আপনি এখনো চাইলে আল্লাহর অশেষ রহমতে পটুয়াখালী জেলা সংক্রমণ না হওয়া নাগরিকদের নিরাপদ রাখতে পারবেন।মানবতার স্বার্থে এখন কিছুটা অমানবিক হবেন সেটাই প্রত্যাশা আপনার কাছে।

প্রশাসনের পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জনগণ সোচ্চার ও স্থানীয় সাংবাদিক ভাইয়েরা গুরুত্ব দিবেন বলে আশা রাখি।

#ঘরে_থাকুন
#নিরাপদ_থাকুন

জনস্বার্থে
আবু নাঈম নোমান
গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ