পরীক্ষার অনুমতি পেলো গণস্বাস্থ্যের কিট

প্রকাশিতঃ ৬:১৬ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ৩০ এপ্রিল ২০

স্টাফ রিপোর্টার : গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষকদের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস পরীক্ষার ‘জি র‍্যাপিড ডট ব্লট’ কিট পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

আজ বৃহস্পতিবার ওষুধ প্রশাসন থেকে চিঠি দিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে তা জানানো হয়েছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের কিট পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) অথবা আইসিডিডিআর,বির যে কোন একটিতে পরীক্ষা করার কথা বলেছে।’

অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বিএসএমএমইউর উপাচার্যকেও চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে বলেও জানান ডা. জাফরুল্লাহ।

গণস্বাস্থ্যের করোনা কিট পরীক্ষা নিয়ে গত কয়েকদিনের বিতর্কের পর এটিকে একটি ‍উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘কিট পরীক্ষার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) ৫০ হাজার টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ইতোমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।’

‘বিএমআরসির একটি বড় কমিটি আছে। কমিটির সদস্যরা বৈঠক করে এই আবেদন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন। মৌখিকভাবে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আজকে অনলাইনে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, যেহেতু অনেক বড় কমিটি তাই সবাইকে অনলাইনে এক করতে পারেনি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে তারা জানিয়েছে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে,’ বলে জানান তিনি।

ট্রায়ালের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমানও। তিনি বলেন, বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআর,বিতে অথবা দুই জায়গাতেই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের ট্রায়াল কার্যক্রম (কার্যকারিতা পরীক্ষা বা পারফরমেন্স ট্রায়াল) চালানো হবে। তারা এ দুই জায়গাতে করতে চেয়েছেন, আমরা তাদের ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, পারফরমেন্স ট্রায়ালের পর তার ফলাফল আমাদের দিলে আমরা তা মূল্যায়ন করবো, এরপরের ধাপে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া।

তার মানে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য আপনারা অনুমতি দেননি, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এর তো এখনও রেজিস্ট্রেশনই হয়নি, বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদন তো তার আগে দেওয়া যায় না। তার আগে ট্রায়াল করে দেখতে হবে সেটা কার্যকর, নাকি নয়, ভালো নাকি খারাপ।

যদি ভালো হয় তাহলে রেজিস্ট্রেশন হবে, আর যদি কার্যকর না হয় তাহলে রেজিস্ট্রেশনই হবে না। কিট ভালো কাজ করে কিনা সেটা দেখতে হবে আগে, সেটা দেখার জন্যই পারফরমেন্স ট্রায়াল। এ বিষয়ে ভালো রিপোর্ট আসলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াতে যাবো।’

গত ২৫ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের কাছে করোনা টেস্টের কিট হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে ওষুধ প্রশাসনের কাছে কিটের ট্রায়াল চালানোর অনুমতির জন্য দেনদরবার করে আসছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ শুরু করে। গণস্বাস্থ্য অভিযোগ তোলে ওষুধ প্রশাসন কিটের ট্রায়ালের বিষয়ে সহায়তা করছে না। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। এর আগে ১৭ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পরীক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় কিট উৎপাদনের কথা জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। পরে ১৯ মার্চ কিট উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ‘জিআর র‌্যাপিড ডট ব্লট ইমিউনোঅ্যাসি’ কিট তৈরি করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল। দলের অন্য সদস্যরা হলেন ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন, ড. ফিরোজ আহমেদ।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ