পীড়িত মনে কৃতজ্ঞতা!!!!আমরা বেঁচে আছি!!!এমন জন্মদিন চাই না!!

প্রকাশিতঃ ১২:৪০ অপরাহ্ণ, সোম, ১৩ এপ্রিল ২০

মানিক মুনতাসির : পুরো পৃথিবীই আজ থেমে গেছে। মানবজাতিই যেখানে অস্তিত্ব সংকটে। এরপরও বর্বরতা থামেনি এই সোনার দেশে। চারিদিকে চাল চোরের দাপট। ক্ষুধার্ত মানুষের হাহাকার। কিন্তু এসবকিছু টলাতে পারেনি ত্রাণ চোরদের। এজন্যই হয়তো ত্রাণের ট্রাক লুট করছে পীড়িত,ক্ষুধার্ত মানুষ।

এখনো ধর্ষণ হচ্ছে।থেমে নেই চুরি ডাকাতি। মানুষ শিক্ষা নেয় না। এক মুহুর্তও ভাবে না, যে নি:শ্বাসের বিশ্বাস নেই।

অথচ বিশ্বাস নেই নিজের প্রতিও। সন্তানকে আদর করতে গেলেও ভয় লাগে। আদরের নামে ভাইরাস ছড়াচ্ছি না তো! টেস্ট বাড়ানো জরুরি। কেউই নিরাপদ নই।

একজন আরেকজনের পা কেটে হাতে নিয়ে উল্লাস করে। ঠুনকো ঘটনায় দুপক্ষের মারামরিতে নিহত হচ্ছে নিজেরাই।সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা পারলে মিছিল দিচ্ছে।লোক দেখানো ভাল কাজের জন্য পাগল আমরা সবাই। ত্রাণ দিয়ে ছবি তুলে আত্মপ্রচার করি। কিন্তু একবারও ভাবি না হয়তো আজই মারা যাবো!

আমরা কি বেঁচে আছি? না বোধ হয়। মানুষের মাঝে মনুষত্ব নেই। দেহে প্রাণ আছে। তেজ নেই।শুধুই দম্ভ।কতজন না খেয়ে থাকে তার খবর কেউ কি রাখি? পুরো বিশ্ব নাস্তনাবুদ। কিন্তু বাঙ্গালির ঘুম ভাঙ্গেনি এখনো।

এমন পরিস্থিতেও ডাক্তার চিকিৎসা দিতে চায় না। হাসপাতাল রোগি নেয় না। মুর্দা খাটিয়া পায় না। খোদ আমেরিকাতেও লাশ পড়ে থাকে শোবার ঘরেই।

মানুষ মরছে। আরো হয়তো মরবে।

সাংবাদিকদের ঝুকি আছে এ কথা আমাদের রাষ্ট্রই স্বীকার করে না। তবে কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। তিনি সেটা স্বীকার করেছেন।

প্রতিটা মুহুর্তই এখন আতঙ্কের। কিন্তু একটা গ্রুপ যেন কিছুই মানছে না। তাদের থামাবে কে? কারফিউ দিলে কি সমাধান আসবে। দিয়ে দিন না মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এদের থামানো দরকার। ঘরে ফেরানো জরুরি। চোরদের থামানো আরো জরুরি।

খুব জানতে ইচ্ছে করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ‘পা’ কাটাদের বিরুদ্ধে কি কোন অ্যাকশন নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন? হয়তো নিয়েছে কিংবা নয়। অ্যাকশন না নিলে বর্বরতা থামবে কিভাবে?

জীবন থেকে চলে গেল চারটা দশক। কৃতজ্ঞতা ভাই, বন্ধু, স্বজন, শুভাকাঙ্খি, সহকর্মী সবার প্রতি। সবাইকে রিপ্লাই দিতে পারিনি। দু:খিত। ভাল থাকুন সকলে। ভাল থাক পৃথিবী। আবারো প্রাণ ফিরে পাক বিশ্ব। এমন জন্মদিন কখনই চাই না। আল্লাহ তুমি ফিরে তাকাও। মুক্তি দাও এই মহামারী থেকে।

লেখক : সাংবাদিক, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ