প্রতি ৮ সেকেন্ডে একজন করে মারা যাচ্ছে ডায়াবেটিসে!

প্রকাশিতঃ ৩:০৮ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ১৪ নভেম্বর ১৯

শোয়েব আহমেদ: IDF (International Diabetes Federation) এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রতি ৮ সেকেন্ডে একজন ডায়াবেটিস কিংবা এর কমপ্লিকেশন এর কারণে মারা যাচ্ছে। এবছরেই তাদের আরেকটি প্রতিবেদন বলছে- বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় পৌনে এক কোটি (৭০ লক্ষ)। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যারা আক্রান্ত তাদের ৫৭ শতাংশই জানেন না যে তাদের ডায়াবেটিস রয়েছে।

ডায়াবেটিস কি?
সহজ কথায়- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ‘ডায়াবেটিস’ বা ‘বহুমূত্র রোগ’। তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতিই হল এ রোগের মূল কথা। ইনসুলিন উৎপাদন বা ইনসুলিনের কাজ করার ক্ষমতা-এর যেকোনো একটি বা দুটোই যদি না হয়, তাহলে রক্তে বাড়তে থাকে গ্লুকোজ। আর একে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ঘটে নানা রকম জটিলতা, দেহের টিস্যু ও যন্ত্র বিকল হতে থাকে।

কখন বুঝবেন আপনার লক্ষণগুলো ডায়াবেটিসের দিকে যাচ্ছে?
ঘন ঘন প্রস্রাব;
অধিক তৃষ্ণা এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া;
অতিশয় দুর্বলতা;
সার্বক্ষণিক ক্ষুধা;
স্বল্প সময়ে দেহের ওজন হ্রাস;
চোখে ঝাপসা দেখা;
ঘন ঘন সংক্রমণ;
দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া;
সহজে শরীরের কোন অংশের ক্ষত বা ঘা শুকাতে দেরি হওয়া ইত্যাদি।

৪০ বছর বা তারপরে সাধারণত যে ধরণের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয় তা হচ্ছে মূলত টাইপ-২ বা ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস’। টাইপ-২ রোগীরা শরীরে যে ইনসুলিন উৎপন্ন হয়, তাকে ব্যবহার করতে পারে না। রোগির অবস্থা বিবেচনা করে ব্যায়াম ও খাদ্যবিধির পরিবর্তন, মুখে খাওয়ার ওষুধ, এমনকি প্রয়োজনে ইনসুলিন ইনজেকশনের সাহায্যে এর চিকিৎসা করা হয়।

বিশ্বজুড়ে ২৪৬ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগীর ৯০ শতাংশের বেশি হল টাইপ-২ ডায়াবেটিস। তবে আশার কথা এইযে, শতকরা ৫০ ভাগ টাইপ-২ ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস প্রতিরোধযোগ্য। এর জন্য প্রয়োজন প্রাত্যহিক লাইফস্টাইলে কিছু পরিবর্তন আনা।

যেমন: মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় পানীয় টাইপ-২ এর ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলো যথা সম্ভব কম খাওয়া।
খাবারে চর্বির ধরনও গুরুত্বপূর্ণ; স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাটি এসিড ঝুঁকি বাড়ায় পক্ষান্তরে পলি-আনস্যাচুরেটেড ও মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ঝুঁকি কমায়। এজন্য ফার্স্ট ফুড জাতীয় খাবার কম খাওয়া।
অত্যধিক পরিমাণ সাদা ভাত খাওয়াও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
শারীরিক পরিশ্রম না করা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের অন্যতম বড় একটি কারণ।
এছাড়া এলকোহল, ধুমপান ইত্যাদি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডায়াবেটিসের অন্য আরো একটি টাইপ হলো- টাইপ-১ ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস, সাধারণ শিশুদের কিংবা ইয়াং এইজে হয়ে থাকে অগ্নাশয় হতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন উৎপাদন না হওয়ার কারণে।
গর্ভাবস্থায় যেই ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস দেখা যায় তাকে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস বলা হয়। এজন্য গর্ভবতি মায়েদের ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং এর চিকিৎসা নেওয়া জরুরি অন্যথায় বাচ্চা বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মানোর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

এইবার বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‌’Diabetes : Protect your Family’

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও সচেতনতার ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবারের যে গুরু ভুমিকাটি রয়েছে এর গুরুত্ব সবার সামনে তুলে ধরা। আসুন, ডায়াবেটিস নিয়ে সচেতন হই।

লেখক: শিক্ষার্থী, এনাম মেডিকেল কলেজ।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ