প্রশাসনের নিরবতায় লালপুরে জমজমাট হাট

প্রকাশিতঃ ৬:৩১ অপরাহ্ণ, বুধ, ২২ এপ্রিল ২০

ইসহাক আলী, নাটোর : প্রশাসনের নিরবতায় নাটোরের লালপুরে কাদিমচিলান ইউনিয়নের চাঁদপুর হাট হাজার হাজার লোকের সমাগমে জমজমাট, নেই কোনো সামাজিক দুরত্ব। সপ্তাহের রবিবার ও বুধবার হাটবারে এই ইউনিয়নের বাইরের অন্য এলাকারও ব্যাপক লোকজনের সমাগম হয় এই হাটে। এখানে জেলার বাহির থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন পেঁয়াজ, রশুন, গম, ধান ও পাট বেচাকেনা করতে। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার সামাজিক দুরত্বকে সব চাইতে গুরুত্ব দিলেও এখানে তার বালাই নাই।

সরকারের নিয়ম-নীতি না মেনে কিছু অসৎ ব্যক্তি শুধু নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা চিন্তা করে নিয়মিত বসাচ্ছেন হাট বাজার। প্রশাসনকে জানিয়েও কোন প্রতিকার মিলছে না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এলাকাবাসী জানান , বিশ্বের উন্নত ও বৃহৎ রাষ্ট্রগুলো যেখানে নিজেদের লকডাউন করেও সুরক্ষিত করতে পারছে না, সরকার যেখানে সকল কিছুর চেয়ে করোনাকে গুরুত্ব দিয়ে নানান কর্মসূচী দিয়ে সেখানে নাটোরের লালপুরের বিভিন্ন জায়গাতে ঈদের মত হাট আতংক ও আশংকা বাড়াচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে সরোজমিনে গিয়েও এর প্রমাণ মিলেছে। হাটে গিয়ে দেখা যায় হাটের ইজারদারেরা সবাইকে সময় দিয়ে রেখেছে ভোর ৪টা থেকে সকাল ৭ পর্যন্ত। ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মজনুর রহমান হাটের মধ্যে মাঝে মাঝে মাইকিং করছে কেউ ধূমপান করবেন না, ধূমপান করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা, সবাই সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন। তাড়াতাড়ি হাটের বেচাকেনা শেষ করুন দরকার হলে আবার সামনের হাটে বেচাকেনা করবেন বেশি সময় আর হাট চলবেনা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, করোনাভাইরাস আসার পরে সারাদেশে ঝুকিপূর্ণ ঘোষণার পরও এই হাটে সরকারি নিষেধ কোনোদিন মানা হচ্ছেনা। এগুলো প্রশাসনের কাছে জানানো হলে তারা হাট ভাঙ্গার পর ঘটনাস্থলে আসেন । প্রশাসনের এমন ভূমিকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে হাটের ইজারদারের এক সদস্য ইছাহক আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার প্রয়োজন আছে হাটে কেনাবেচার কিন্তু সামাজিক দুরত্ব আমরা মানতে বললেও কেউ তা মানছে না। যদি না মানে তাহলে আমাদের কি করার আছে সেটা আমরা নিজেই বুঝতে পারছি না। তবে এর পরে থেকে আমরা অন্য জায়গায় হাট বসাবো।

এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মুল বানীন দ্যুতির কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি তবে যদি এমন অবস্থা চলতে থাকে তাহলে আমি পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ