প্রস্তুতি ঈদ বাজারে : ইসলামপুরে বেড়েছে ব্যস্ততা

প্রকাশিতঃ ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ১৪ মে ১৯

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে রাজধানীর পুরান ঢাকার ইসলামপুরে। কাপড়ের এই পাইকারি মার্কেট ঘিরে সারা দেশের খুচরা ব্যবসায়িদের চলছে ঈদ বাজারের প্রস্তুতি।

ঈদের সাথে নতুন জামার সম্পর্ক জড়িয়ে থাকায় পুরান ঢাকার এই এলাকাটি এখন জমজমাট। ঈদ ঘিরে বাণ্যিজ্যে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যবসায়িদের। দোকানে দোকানে মিলছে এক খণ্ডের ডায়না ওড়না থেকে শুরু করে ছাপা শাড়ি, হাতে রঙ করা শাড়ি, কম্পিউটারে ডিজাইন করা শাড়ি, বোরকা, লুঙ্গিসহ আরও অনেক কিছু।

সারাদেশ থেকে আসা খুচরা ব্যাবসায়ীদের পদচারণায় কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে পুরান ঢাকার থান কাপড়ের ঐতিহ্যবাহী পাইকারি বাজার ইসলামপুর।

ইসলামপুরে বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির নিবন্ধন করা ছোট-বড় দোকান রয়েছে প্রায় চার হাজার। এর বাইরে আরও অন্তত ছয় হাজার ছোট ও মাঝারি দোকান রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিদিন এই বাজারে গড়ে ৫০ কোটি টাকার কাপড়ের বাণিজ্য হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে ঈদ মৌসুমে তা শতকোটি টাকায় ওঠে। এবারও সর্বাধিক বিক্রির আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্রেতা চাহিদা পূরণে দেশীয় কাপড়ের পাশাপাশি ভারত ও চীন থেকে আনা কাপড়ে দোকান সাজিয়েছেন দোকানিরা। বৈচিত্র্যময় পণ্য ও সুলভ মূল্যের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাপড় কিনতে আসছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

ইসলামপুরে বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে ছোট বড় প্রায় ১০ হাজার কাপড়ের দোকান। ঈদ সামনে রেখে শবেবরাতের পর থেকে মূলত ইসলামপুরে বেচাকেনা শুরু হয়। চলে ১৫ রমজান পর্যন্ত।

বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের সমারোহ, গুণগত মান ও সুলভ মূল্য হওয়ায় সব শ্রেণির ক্রেতার কাছে জনপ্রিয় পুরান ঢাকার ইসলামপুর বাজার। সারা বছরই এখানে থাকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের আনাগোনা।

দেশি-বিদেশি সব ধরনের কাপড়ের দেখা মিলবে ইসলামপুরে। তবে এবার দেশি কাপড়ের থেকে ভারত ও চীনা কাপড়ের প্রাধান্য তুলনামূলক বেশি। এর কারণ হিসেবে দোকানিরা বলেন দেশি কাপরের দাম তুলনামূলক একটু বেশি হওয়ায় ভারত ও চীনা কাপরের চাহিদা বেশি।

শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিস, ওড়না, বোরকা, গজ কাপড়সহ কোনো কিছুরই কমতি নেই এখানে। সব ধরনের কাপড়ের মজুদ থাকায় এখানে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কম দাম ও বৈচিত্র্যের কারণে পছন্দসই কাপড়ে ঈদের পোশাক বানাতে আসছেন সাধারণ ক্রেতারাও।

দেশের বিভিন্নস্থান থেকে খুচরা দোকানদাররা এরই মধ্যে প্রতিনিয়তই আসছেন এবং অর্ডার করছেন। বিভিন্ন ফেব্রিক্স শো-রুম মালিকরা বলছেন, ইসলামপুরের কাপড়ের ব্যবসার বড় অংশই এখন দেশি কাপড়ের দখলে। একসময় বিদেশ থেকে আমদানি করা কাপড়ের পাইকারি বাজার ছিল ইসলামপুরে।

ইসলামপুরের পোশাকের দোকানগুলোতে মান ও কাজ ভেদে ৬৫০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকায় মিলছে দেশি থ্রিপিস। সেলাই ছাড়া থ্রিপিস মিলছে ৫৫০ থেকে ১৫০০ টাকা। নানা কারুকাজ ও রঙের পাঞ্জাবি মিলছে ৩৫০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত।

এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভাল না থাকায় গেল কয়েক মাস ব্যবসা ভাল যায়নি ব্যবসায়ীদের। ঈদের আগে ভালো বেচা-কেনায় সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশা তাদের।

ইসলামপুর মূল সড়কের দু’পাশের মার্কেটে রয়েছে কয়েকশ’ শাড়ি কাপড়ের দোকান। মাঝামাঝি স্থানের মার্কেটে বিক্রি হয় চাদর, থ্রিপিস, স্যুট ও মার্কিন কাপড়। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন মূল সড়ক ছাপিয়ে আশপাশের সড়ক ও লেনেও স্থান করে নিয়েছে।

আশেক লেন, সৈয়দ আওলাদ হোসেন রোডসহ নবাববাড়িতে রয়েছে বিশাল সব কাপড়ের মার্কেট। ইসলাম পল্গাজা, হাজি কে হাবিবুল্লাহ মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে দেশি-বিদেশি শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি ও নারীদের জামার গজ কাপড়।

হোসেন মার্কেটের ঠিক সামনেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আহসান মঞ্জিল (মিউ.) সুপার মার্কেট। এখন চায়না মার্কেট নামেই সর্বাধিক পরিচিত।

এক কালার, সালোয়ার-কামিজ, আনস্টিচ থ্রিপিস, পাজামা-পাঞ্জাবি, শার্ট, স্যুট, প্যান্ট, বোরকার গজ কাপড় ছাড়াও দেশি পর্দা ও সোফার কভারের কাপড়ের দোকান। পল্গাজা মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে গার্মেন্ট ক্যাটাগরির গজ কাপড়। গজ কাপড়ের আরেক মার্কেট গুলশান আরা সিটি।

এখানকার শোরুমগুলোতে মিলছে শিফন জর্জেট, টিস্যু, ভেলভেট, জিন্সসহ ডেনিমের গজ কাপড়। চাদরের গজ কাপড় মিলবে দৌলত কমপেল্গক্স এবং ভারতীয় আনস্টিচ থ্রিপিসের জন্য হায়াৎ দোলন কমপ্লেক্স বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ।

আদেল কমপ্লেক্স, হাকিম ম্যানশন, আমির মার্কেটসহ বেশ কিছু মার্কেটে রয়েছে দেশি শাড়ি-কাপড়ের দোকান। পাকিজা, নন্দিনী প্রিন্ট শাড়ি কাপড়ের শোরুম রয়েছে এই মার্কেটগুলোতে। জাকাতের শাড়ি কাপড় পাওয়া যাবে এখানকার দোকানগুলোতে।

ইসলাপমপুরের পাশাপাশি উর্দু রোডেও চলছে জমজমাট বেচাকেনা। তবে রাস্তা খারাপ ও যানজটের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বিদেশি পোশাকের বাজার দখল নিয়ে চিন্তিত এখানকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী।

ঢ/এমএম

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ