ফের আইসিইউতে এটিএম শামসুজ্জামান

প্রকাশিতঃ ২:১২ পূর্বাহ্ণ, সোম, ২৭ মে ১৯

বিনোদন ডেস্ক : হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাবার কারণে আবারও আজগর আলী হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে বরেণ্য অভিনয় শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামানকে। রবিবার রাতে এই তথ্য জানিয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামানের মেয়ে কোয়েল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে আব্বার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, এরপর ডাক্তার তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেছে। তবে তার অবস্থা সিরিয়াস কিছু না। আব্বার হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। কেবিনে তো আর সার্বক্ষণিক ডাক্তার থাকেন না। তাই ডাক্তার চাইছেন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে। আসলে আব্বাকে নিয়ে ডাক্তার কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। এ জন্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিইউতে রেখেছেন। আমাদের বলেছেন টেনশন করার মতো কিছু না।’

রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামান। কোয়েল আহমেদ বলেন, ‘আব্বা কথা বলতে পারছেন, নিজে নিজে খেতে পারছেন। অধিক সতর্কতার জন্যই মূলত আইসিইউতে রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে ডাক্তারের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে বুঝতে পারব। তবে আব্বার এখন বয়স হয়েছে। তার খাওয়াদাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। মাঝে মাঝেই শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় আব্বাকে এখনই বাড়িতে নিয়ে যেতে চাই না। এখান থেকে হয়তো আমরা পিজি হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারি। তবে আজগর আলী হাসপাতালের ডাক্তারেরা ভীষণ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।’

গত ২৬ এপ্রিল শ্বাসকষ্ট, পেট ফাঁপা ও বমির সমস্যার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এটিএম শামসুজ্জামানকে। পরদিন অস্ত্রোপচার করা হয় তার। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে ফের লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় ৭৭ বছর বয়সী এ অভিনেতাকে। এরপর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসা সহায়তায় ১০ লাখ টাকা দেন।

এটিএম শামসুজ্জামান নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা। এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুক ও প্রবীর মিত্রের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন এটিএম শামসুজ্জামান। পরিচালনা করেছেন ‘এবাদত’ নামের একটি চলচ্চিত্র।

১৯৬৫ সালের দিকে সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন। তবে মাইলফলক ধরা হয় ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রটি। কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে?’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’র জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক পান। এটিএম শামসুজ্জামানকে সর্বশেষ সিনেমার পর্দায় অভিনয় করতে দেখা গেছে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু পরিচালিত ‘আলফা’ চলচ্চিত্রে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ