বাগেরহাটে সাড়ে ৮ হাজার গর্ভবতী মা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

প্রকাশিতঃ ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, বুধ, ২২ এপ্রিল ২০

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট : বাগেরহাটে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় গর্ভবতি প্রায় সাড়ে আট হাজার মা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। এইসব গর্ভবতি মায়েদের ঘরবন্দি থেকে সাবধানে চলাফেরা করতে পরামর্শ দিয়েছে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। এসব মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠ কর্মীরা। গর্ভকালীন সময়ে যেসব মায়েদের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেবে তাদের চিকিৎসার জন্য মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসকরা প্রস্তুত রয়েছেন।

বাগেরহাট জেলার ৯ উপজেলায় ৮ হাজার ৪৩১ মা গর্ভবতি (সন্তান সম্ভবা) রয়েছেন। এর মধ্যে বাগেরহাট সদরে এক হাজার ৫৩৩ জন, চিতলমারীতে ৮৯০, মোল্লাহাটে ৮৭০, ফকিরহাটে এক হাজার ৫৮, রামপালে ৫৩৭, মোড়েলগঞ্জে এক হাজার ৪৯১, শরণখোলাতে ৫৯০, কচুয়ায় ৫৫৬ এবং মোংলাতে ৮১৬ জন।

বাগেরহাটের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সামাদ বলেন, গর্ভবতি মায়েদের সেবা দেয়ার জন্য ২৪ ঘন্টা হাসপাতাল খোলা রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারনে অতিপ্রয়োজন ছাড়া কোন গর্ভবতি মা এখানে সেবা নিতে আসছেন না। তবে তাদের সেবা দিতে এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রস্তুত আছে। গর্ভবতি মায়েদের সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, সামাজিক দুরত্ব মেনে চলাফেরা করবে। একজন গর্ভবতি মাকে অন্তত চার বার চেকআপ করা প্রয়োজন, মা ও তার গর্ভের শিশুর রক্ত সঞ্চালন ও হার্টবিট, এই মায়ের ডেলিভারী কবে নাগাদ হবে এসব সেবা নিতে তারা এখানে নিয়মিত আসছেন। এই মায়েরা তাদের সুরক্ষার জন্য পুষ্টিকর খাবার খাবে, পর্যাপ্ত পানি পান করবে, মুখে মাক্স ব্যবহার করবে এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

বাগেরহাট কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক গুরুপ্রসাদ ঘোষ বলেন, বাগেরহাট জেলার ৯ উপজেলায় ৮ হাজার ৪৩১ জন মা গর্ভবতি রয়েছেন। এদের সেবা দিতে আমাদের মাঠ পর্যায়ে ৩৪৫ জন কর্মী নিয়োজিত আছেন। এই গর্ভবতি মায়েরা কিন্তু এখন স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাই আমরা এইসব গর্ভবতি মায়েদের ঘরবন্দি থেকে সাবধানে চলাফেরা করতে পরামর্শ দিচ্ছি। এই সময়টাতে কোন অবস্থাতে তারা যেন ঘরের বাইরে না আসেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের যেসব ক্লিনিকগুলো আছে আমাদের মাঠ কর্মীরা গর্ভবতি মায়েদের সেবা দিয়ে আসছেন। এই গর্ভবতি মায়েদের কাছে আমাদের মাঠকর্মীদের ফোন নাম্বার দেয়া আছে তারা কোন সমস্যায় পড়লেই যেন আমাদের কল করে সেই আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ