বান্দরবানে আগুনে পুড়ে হোটেল ডিসকভারী থানচি’র ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিতঃ ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ২৮ এপ্রিল ২০

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের থানচি উপজেলা শহরের বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হোটেল ডিসকভারী থানচির অধিকাংশ পুড়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সম্মুখীন হয়েছে হোটেলটি। এছাড়াও দুই শতাধিক দোকান পুড়ে বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে বাজারটি।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোর পাঁচটার পর এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

আগুনের লেলিহান শিখায় মুহুর্তেই ঝলসে যায় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে পর্যটকদের জন্য নির্মাণাধীন বিলাসবহুল হোটেল ‘দ্যা হোটেল ডিসকভারী থানচি’। বর্তমানে হোটেলটি দেখলে মনে হয় যেন যুদ্ধবিদ্ধস্ত কোন ভবন।

এ ব্যাপারে হোটেল ডিসকভারী থানচির ম্যানেজার এম আসাদ নুর সময় জার্নালকে জানান, সোমবার আনুমানিক ভোর পৌঁনে পাঁচটার দিকে আমাদের হোটেলের দক্ষিণ পাশের একটি বন্ধ দোকান আগুনে জ্বলতে দেখি। লোকজনকে ডাকতে না ডাকতেই মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের জিনিসপত্র বের করার আগেই সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে আমাদের প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

হোটেল ডিসকভারী থানচির পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ সময় জার্নালকে জানান, দেশের পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আমরা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থানচিতে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক মানের হোটেলটি নির্মাণ শুরু করেছিলাম। এর নির্মাণ কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী দু এক মাসের মধ্যে এর বাকি কাজ শেষ হওয়ার কথা। আমরা হোটেলটি উদ্বোধনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এরই মধ্যে ভয়াবহ আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে আমাদের প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় টুরিস্ট গাইড ক্লেমেন্ট ত্রিপুরা  ধ্বংসস্তুপের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে লিখেছেন, প্রায় এক মাস আগে থানচির পর্যটন এলাকায় যারা সক্রিয়ভাবে পর্যটক গাইড পেশায় নিয়োজিত ছিলেন তাদের সকলের খবর নিয়েছিলেন এই ভবনের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ। সহযোগিতা ও সাহায্য করেছিলেন পর্যটক গাইডদের। আরও আশ্বাস দিয়েছিলেন পাশে থাকবেন বলে। কিন্তু আজ সেই ডিসকভারি হোটেল ও টংমাহাং রেস্টুরেন্ট ভবন থানচি বাজারের সাথে আগুনে পুড়ে যুদ্ধেরস্তুপে পরিণত হয়ে গেল।

থানচি উপজেলায় চেয়ারম্যান থোয়াই হ্লা মং মারমা বলেন, সকাল সাড়ে ৫টার দিকে আগুন লাগলে স্থানীয় সেনা, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হন। পরে বান্দরবান থেকে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি আরও জানান, থানচিতে ২০১৫ সালে একটি ফায়ার স্টেশন অফিস বানানোর কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু, কাজটি এখনও শেষ হয়নি। যদি নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ হতো তাহলে এত বড় ক্ষতি হতো না।

উল্লেখ্য, দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্য বান্দরবনের থানচিতে নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে অত্যাধুনিক সব সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ হোটেল ডিসকভারী থানচি। এই হোটেলটি ঘিরে স্থানীয় অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিলো। পর্যটকদের কাছে পাহাড়ি সংস্কৃতি তুলে ধরতে এখানে টং মা হাং নামে একটি রেস্টুরেন্ট চালু ছিলো। সেখানে পর্যটকদের নানা রকম পাহাড়ি খাবার সরবরাহ করা হতো।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ