বাবা

প্রকাশিতঃ ৮:২৬ অপরাহ্ণ, রবি, ২১ জুন ২০

বাবা

বাবার হাতে হাত রেখে হাইওয়ে রোড
পার হতাম ছোট বেলায়।
বড় বড় গাড়ি দেখে খুব শখ হতো গাড়িতে চড়ার।

ছোট বেলায় সেই সুযোগ বেশি একটা হয়নি।
ভাবতাম বড় হলে বাবার সাথে বড় গাড়িতে চড়বো।
বাবা খুব সাবধানে পার করাতেন রোড।
আজীবন এই আঙ্গুল ছাড়বো না বলে প্রতিজ্ঞা করতাম।
কিন্তু, বড় হয়ে আর তাঁর আঙ্গুলে হাত রেখে হাইওয়ে রোড পার হতে পারি না।
এই বিষাদ আমাকে অসহায় করে তুলে।
ভাবনায় ছোট হয়ে যাই।

তবে, তিনি কিন্তু অদৃশ্যভাবে ধরে আছেন আমার হাত।
যেন আমার এক্সিডেন্ট না হয়।
পার করিয়ে দিচ্ছেন আমার জীবনকে।
আমার স্বপ্নকে।
নিবিড়ভাবে চেয়ে দেখি বাবার নিজস্ব কোনো ইচ্ছে নেই।
ব্যক্তিগত কোনো জীবন নেই।
এই পথচলা যেন শুধু নিয়মের জন্যই।
পরিশ্রমের ঘাম তাকে ক্লান্ত করে না।

মধ্যবিত্তদের বাবারা বোধহয় সংসারের ঘানি টানতে টানতে ভুলে যায় তার শৈশবের কথা, কৈশোরের কথা।
মনের আনন্দের কথা।
দামি একটা শার্টের কথা।
নতুন একটা পাঞ্জাবির কথা।

জীবনের আনন্দ ফিরে আসতে-আসতে তাঁদের জীবনটা কখন যে খসে যায় তা কেউ টের পায় না।
তাঁরা অশ্রুর নামতা মুখস্ত করে
পার করে দেয় বাকি জীবনটা।
বাবাদের জীবন আটকে যায় অন্ধকার বৃত্তে
তারপর একদিন বাবারা চলে যায় আকাশে।
পাতালে রেখে যায় নিথর মৃত দেহ।

আঙ্গুল ছেড়ে দেওয়ার পর
হঠাৎ জ্ঞান ফিরে আসে ছেলেদের;
ততদিনে নিজেরাও যে বাবা হয়ে উঠেছে!
বাবা হয়ে উঠেছে!

লেখক ও কবি : সাইফুল ইসলাম।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।