বিজেপির জয় বাঙালির উচ্ছাস ও বাস্তবতা

প্রকাশিতঃ ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ২৮ মে ১৯

মানিক মুনতাসির : ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপির টানা দ্বিতীয় জয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিলুপ্ত প্রায় বিএনপি উচ্ছাস প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা অবশ্য মিশ্র মন্তব্য করেছেন। মোদি দ্বিতীয়বার শপথ নেবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর কংগ্রেস এখন বিএনপির মত পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণে ব্যস্ত। বিষয় সেটাও না। তবে আলোচনা হওয়া উচিত আমাদের লাভ কিংবা ক্ষতি নিয়ে।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বিশ্বের প্রাচীন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্যতম। যার যাত্রা মুলত ১৮৮৫ তে। ভারতের স্বাধীনতার যূদ্ধে যে দলটি নেতৃত্ব দিয়েছে। ঠিক যেমন বাংলাদেশের বেলায় আওয়ামীলীগ। এ দলে গান্ধী আর নেহেরুর মত বিজ্ঞরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তামনে তাদেরই বংশধররাই নেতৃত্বে। কংগ্রেস ভারত শাসন করেছে নয়/দশবার।

অন্যদিকে বিজেপির জন্ম ভারতের স্বাধীনতার পর। দলটি শাসন ক্ষমতায় এসেছে হাতে গুনা কয়েকবার।

অটলবিহারি বাজপেয়িরর পর নরেন্দ্র মোদি যে কট্টর হিন্দুত্ববাদী এক সময়ের মুসলিম বিদ্বেষী সে ইতিহাস নতুন করে জানানোর দরকার নেই। কিন্তু এবারের ভোটে তার প্রতিফলন কম।

এবার আসুন অন্য কথা বলি।ভারত আমাদের স্বাধীনতার বন্ধু। তারা শুধু আমাদের সহযোগিতাই করেনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণও দিয়েছে। কিন্তু গত চার দশকে তারা আমাদের কি দিয়েছে আর কি নিয়ে গেছে, সে হিসাব করা প্রয়োজন। তাদের পণ্যে আমাদের বাজার ভরা কিন্তু আমদের কয়টি পণ্য সেখানে যায়? টিভি চ্যানেলের কথা না হয় বাদই দিলাম। দীর্ঘদিনের জমে থাকা শুল্ক অশুল্ক বাধা দুর করতে পেরেছি কতটা।

ট্রানজিটের নামে তারা আমাদের বন্দর ব্যবহার করছে ইচ্ছেমত। রেলের উন্নয়নের নামে ঋণ দিচ্ছে। সে ঋণের অর্থে আবার তাদেরই পণ্য কিনতে বাধ্য করছে। বিদ্যুৎ খাতেও একই অবস্থা। সে অনেক কথা। এবার আসুন সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা ইস্যুর কথা বলি, এতবড় বন্ধু এমন একটা বিপদে কোন কথাই বলেনি আজ অবদি। মিয়ারমারের মত দেশ বাংলাদেশকে হুমকি দেয়। ১০ লাখ মানুষকে ঠেলে ঢুকিয়ে দিল। অসংখ্য মানুষকে হত্যা করল। কিন্তু ভারতের মানবতা ঘুমিয়েই থাকল। কারণ ব্যবসা। অস্ত্র ব্যবসা ছাড়াও অন্য ব্যবসা। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দুদেশের বাজারেই ভারতীয় পণ্যের রাজত্ব।

বিজেপির জয়ে সম্ভবত সবার আগে অভিনন্দন জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। যেটি মুলত একটি সন্ত্রাসের রাজরাস্ট্র। যাই হোক বন্ধুত্ব কিস্তু মজসিদ কিংবা মন্দিরে হয় না। মদের টেবিল কিংবা যুদ্ধের ময়দান কিংবা কুপরিকল্পনার টেবিলেই হয়। ফলে ইসরাইল যার বন্ধু হবে সেও তার বন্ধুই হবে নিশ্চই। কথায় বলে, আমেরিকা/ভারত/ ইসরাইল যার বন্ধু হয় তার আর শত্রুর প্রয়োজন হয় না।।অবশ্য ভারত বাংলাদেশের বেলায় এর ভিন্নতাও থাকতে পারে।

এবার আসুন তিস্তা চুক্তির কথা বলি, এটা একটা ঝুলন্ত রাজনৈতিক মুলা। যা বাংলাদেশ বহু বছর ধরে দেখে আসছে। আরো কতদিন এ মুলার পেছনে দৌড়াতে হবে তা বোধ হয় এ জাতি জানেও না। এবার হয়তো এটা আরো লম্বা হবে। কেননা মমতা যে হারে ধরা খেয়েছে। তাতে তার মন ভাল হতে হয়তো কয়েক বছর লেগে যাবে।

আমার এ লেখা পড়ার পর কেউ কেউ আমাকে কট্টর মুসলিম ভাবতে পারেন। তাতে অবশ্য আমার কোন প্রতিবাদ নেই। কারণ আমি তা নই। তবে আমি মুসলিম এটা আমার অহংকার। আসুন নিজ নিজ ধর্মকে আর দেশকে ভালবাসি। অন্য ধর্মকে সম্মান করি। ভাল কাজ করি। দেশ গড়ি।

লেখক : সাংবাদিক

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ