বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই বেতন নিচ্ছেন এক শিক্ষক!!

প্রকাশিতঃ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ, সোম, ৪ নভেম্বর ১৯

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ১০২ নং বর্ণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ে না গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। তিনি শিক্ষক নেতা ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক অনেকটাই নিরুপায় এবং নিশ্চুপ ওই শিক্ষকের আচরণে। এই প্রভাবে ম্যানেজ করেছেন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদেরও। এমন সব অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

জানাগেছে, ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল ওই স্কুলে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন আসাদুজ্জামান। এর কিছুদিন পর তিনি শুরু করেন শিক্ষক রাজনীতি। বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সমাজ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিন ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ২০১৫ সাল থেকে সংগঠনের নানা কাজের অজুহাতে বছরের বেশিরভাগ সময়ই রাজধানী ঢাকাতে থাকতেন । মাসে একবার এসে জোর করেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতেন তিনি। বিষয়টি স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে তাতে কোনো কাজ হয়নি।

একাধিক অভিযোগের পর ২০১৬ সালে ওই শিক্ষকের বেতন বন্ধ হয়ে যায়। আবারও প্রভাব খাঁটিয়ে ফিরে আসেন পূর্বের অবস্থানে। ওই সময়ে বিএড কোর্স করার জন্য ঢাকায় যান তিনি। বিএড শেষ করে আসলেও তার আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এভাবে চলেছেন আরো দু’বছর।

নতুন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঘটনাটি জানতে পেরে আসাদুজ্জামানকে ছুটি না দেয়ার মৌখিক নির্দেশ দেন প্রধান শিক্ষককে। তাতেও কাজ হয়নি খুব একটা। হাজিরা খাতায় দেখা যায় গত ২২ আগষ্ট থেকে পরপর ৪ দিন অনুপস্থিত থাকেন তিনি। এরপর দুই দিন স্কুলে আসার পর ১৩ দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন ওই শিক্ষক। সেপ্টেম্বর মাসেও প্রায় একই অবস্থা। অক্টোবর থেকে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের চাপে স্কুলে আসলেও কোন ক্লাসই করাননি তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, আসাদুজ্জামান স্যার স্কুলে আসে না। স্কুলে আসলেও আমাদের ক্লাস নেন না। হয় তিনি মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত, না হয় ঘুমিয়ে থাকেন।

অভিভাবক সদস্য ওসমান মোল্লা বলেন, আসাদুজ্জামান শিক্ষক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। তিনি এতো অনিয়ম করায় আমাদের সন্তানরা পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়ছে, রেজাল্টও খারাপ করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক শংকর প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, আমি আসাদুজ্জামানের কাছে নিরুপায়। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েও খুব একটা সুফল পাইনি। নতুন ডিপিইও স্যার এসে চাপ সৃষ্টি করলে আসাদুজ্জামান স্কুলে আসলেও ক্লাস করান না।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এ স্কুলে ২৫৪ জন শিক্ষার্থীর পরিবর্তে আমিসহ শিক্ষক রয়েছে মাত্র ৩ জন। এদের মধ্যে একজনকে ডেপুটিশনে আনা হয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও আসাদুজ্জামানের অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদানে চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যার ফলে স্কুলের রেজাল্টও খারাপ হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লিয়াকত হোসেন ওই সহকারি শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার কথা অকপটে স্বীকার করেন। এসময় তিনি স্কুলকে বাঁচাতে স্বেচ্ছাচারি ওই শিক্ষককে অপসারণের দাবি জানান উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনন্দ কিশোর সাহা জানান, বর্ণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামানের বিষয়টি জানার পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেই। নোটিশে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ