বিবদমান জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ছে চট্টগ্রামস্থ সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, রবি, ১৭ নভেম্বর ১৯

সময় জার্নাল প্রতিবেদন: হাইকোর্টের ৩ দফা নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিচারাধীন জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলেছে চট্টগ্রামস্থ সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। আবাসন কোম্পানী গ্রীণ চট্টলা লিমিটেডের ক্রয়কৃত ১ একর জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করে নেয় একটি কুচক্রি মহল। সেই কুচক্রি মহলের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে জমি দখলে নিয়েছে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন জালালাবাদ মৌজার আর.এস ৬৪৫ নম্বর খতিয়ানের আর.এস ১১১৫ দাগের সামিল বি.এস. ২৭০ নম্বর খতিয়ানের তৎসামিল ১৩৪১ নম্বর নামজারী খতিয়ানের সমুদয় সম্পত্তির বিষয়ে ৩ দফা স্থগিতাদেশ দিয়েছেন মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। অথচ বিবদমান জমিটির জাল দলিলের মাধ্যমে অবৈধভাবে মালিকানা দাবিদারদের হাত করে নামমাত্র মূল্যে কিনে সেটি দখলে নিয়ে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলছে প্রভাবশালী মহলটি।

হাউজিং কোম্পানী গ্রীণ চট্টলা লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজম চৌধুরীর দাবি, মালিকানা সংক্রান্ত চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্ন্ত বিবদমান জমিটির ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর ২০১৬ সালের ১৩ই জুলাই মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ স্থগিতাদেশ দেন। একই বছরের জানুয়ারিতে জমিটি ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরের ওপর ৬ মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন আদালত। তারও আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরেও আদালত কর্তৃক ৪ মাসের জন্য একই আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু কোনভাবেই আটকানো যায়নি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির আগ্রাসনকে।

মামলা চলমান অবস্থায় তফসিলোক্ত সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় বা যে কোন ধরনের দলিল সৃজন না করার জন্য বারংবার চট্টগ্রামের বহুল প্রচারিত দৈনিক আজাদী পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সর্বসাধারণকে অবগত করানো হয়েছে বলে জানান গ্রীণ চট্টলা লিমিটেড।

নিজেদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে হাউজিং কোম্পানী গ্রীণ চট্টলা লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজম চৌধুরী আরো জানান, বিবদমান জমিটি অত্র কোম্পানির পূর্ববর্তী কুমার শরৎ কুমার রায় গং এর নামে আর.এস রি-স্যাটেলম্যান খতিয়ান প্রচার করে যা চূড়ান্তভাবে অদ্যাবধি প্রচারিত আছে। উক্ত আর.এস রি-স্যাটেলম্যান খতিয়ানে স্বত্ববান ব্যক্তি কুমার শরৎ কুমার রায় এর তৎওয়ারিশগণ কর্তৃক উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি গ্রীণ চট্টলা লিমিটেডের নিকট হস্তান্তর করতঃ রেজিস্ট্রিযুক্ত দলিল সম্পাদন করে দেন।

গ্রীণ চট্টলা লিমিটেডের দাবি, তাদের কোম্পানীর মালিকানাধীন সম্পত্তির আর.এস ৬৪৫ নং খতিয়ান সমুদয় জমির জ্যোত নং-২৯ খাসমহল সদরের অধীনে ভূমি ছিল। জ্যোত সমূহে শৈলেন্দ্রকৃষ্ণ রায় গং স্বত্ববান মর্মে আর.এস. খতিয়ান প্রচারিত হয়।

উক্ত জ্যোত খতিয়ানটি সরকার কর্তৃক ১৯৪০-৪১ সনে বর্ণিত শৈলেন্দ্রকৃষ্ণ রায় গং বাতিল করে অত্র কোম্পানির পূর্ববর্তী কুমার শরৎ কুমার রায় গং এর নামে আর.এস রি-স্যাটেলম্যান খতিয়ান প্রচার করে। যা চূড়ান্তভাবে অদ্যাবধি প্রচারিত আছে।

উক্ত আর.এস রি-স্যাটেলম্যান খতিয়ানে স্বত্ববান ব্যক্তি কুমার শরৎ কুমার রায় এর তৎওয়ারিশগণ কর্তৃক উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি গ্রীণ চট্টলা লিমিটেডের নিকট হস্তান্তর করতঃ রেজিস্ট্রিযুক্ত দলিল সম্পাদন করে দেন।

কিন্তু কতিপয় কুচক্রী মহল আর.এস ৬৪৫ নম্বর খতিয়ান বকেয়া খাজনার দায়ে নিলাম হয়েছে মর্মে মিথ্যা, বানোয়াট নিলাম দলিল সৃজন করিয়া অশুদ্ধভাবে বি.এস খতিয়ান ও তৎপরবর্তীতে বি.এস নামজারী খতিয়ান সৃজন করেছেন।

অথচ, বিএস রেকর্ডীয় কামাল উদ্দিন সার্টিফিকেট (নিলাম) মামলা নং- ৩৪৯১/৬০-৬১ মূলে বিগত ২৮/০৬/৬১ ইং তারিখে নিলাম খরিদ্দার দাবি করিয়া ১৩/০১/৬৬ তারিখে বায়নামা ও দখলে দেওয়ানী জাল-জালিয়াতিভাবে সৃজন করিয়াছেন (যাহা সংশ্লিষ্ট অফিসে তল্লাসী করিয়া ইহার কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় নাই এবং ১৯৬০-৬১ সনের সার্টিফিকেট মামলা দায়ের রেজিস্ট্রার পর্যালোচনায় ৩৪৯১ নাম্বারের কোন মামলার তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় নাই মর্মে সংবাদ সরবরাহ করেছেন।

গ্রীণ চট্টলা লিমিটেডের চেয়ারম্যান জানান, মিথ্যা বানোয়াট নিলাম দলিল সৃজনের মাধ্যমে স্বত্বদখলহীন ব্যক্তি উক্ত ভূমি ক্রয়-বিক্রয়-হস্তান্তর বন্ধকসহ যে কোন ধরনের দলিল সম্পাদন করার আইনতঃ অধিকার নাই। অথচ, উক্ত অশুদ্ধ ও তর্কিতভাবে সৃজিত বিএস খতিয়ান ও বিএস মিউঃ খয়িানসহ অপরাপার সম্পত্তির বিরুদ্ধে অত্র কোম্পানির পূর্ববর্তী চক্রবর্তী গং বাদি হইয়া মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালত, চট্টগ্রামে অপর ৯৫১/১০ মামলা দায়ের করিলে তাহা বর্তমানে বিচারাধীন আছে।

সেই মামলায় বি.এস খতিয়ানে উল্লিখিত ব্যক্তিকে বিবাদী শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবং বিবাদী কর্তৃক অত্র মামলার সমনও রিসিভ করেছেন। পরবর্তীতে উক্ত বিবাদী মৃত্যুবরণ করায় তাঁর ওয়ারিশগণকে কায়মোকাম করে বিবাদী শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

তফসিলে উল্লিখিত আর.এস ১১১৫ দাগে সামিল বি.এস ২৭০ খতিয়ানের রেকর্ডীয় ব্যক্তি এবং তাঁর মৃত্যু পরবর্তীতে ওয়ারিশগণ উক্ত মামলায় বিবাদী শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত থাকা স্বত্বেও তারা তফসিলোক্ত সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বায়নামা বা হস্তান্তরনামা দলিল সৃজন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। ফলে বর্ণিত মামলায় নিষেধাজ্ঞা পিটিশন দাখিল করে পর্যায়ক্রমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট আদালত তফসিলোক্ত সম্পত্তির বিষয়ে ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তরসহ যেকোন ধরনের দলিল সৃজন না করাসহ বাদীগণের স্বত্বদখলীয় সম্পত্তিতে কোন প্রকারের বিঘ্ন না করার জন্য নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন।

উল্লেখ্য, যে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক কর্তৃক জাল-জালিয়াতিভাবে সৃজিত বি.এস ২৭০ নম্বর খতিয়ানটির সংশ্লিষ্ট বিএস ভলিয়ম জব্দও করেছিলেন বলে জানান গ্রীণ চট্টলা লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজম চৌধুরী।

আগামী প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোপরি দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু অন্যের জমি দখলের উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অন্যায় বলে মনে করেন দেশের সচেতন মহল। তারা এ ধরনের অন্যায় কর্মের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে জালদলিলের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে ভূমি দখলকারী ও আদালতের নির্দেশনা অমান্যকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ