বিবাহ বিচ্ছেদ সন্তানের ভবিষ্যতে হুমকিস্বরুপ

প্রকাশিতঃ ৯:২১ অপরাহ্ণ, বুধ, ৯ সেপ্টেম্বর ২০

জিসান তাসফিক

বিবাহ বিচ্ছেদ বর্তমান সময়ের বহুল প্রচলিত ঘটনা। বিবাহের অল্প সময় কিংবা দীর্ঘ সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলে তখন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিবাহ যেহুতু একটি চুক্তি সেহেতু চুক্তি পরিসমাপ্তির মাধ্যমে বিচ্ছেদ হয়ে থাকে। বাংলাদেশ আধুনিকায়নের সময় এর হার যতটা বৃদ্ধি পয়েছে পূর্বে ততটা ছিল না।

বর্তমান বাংলাদেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার পূর্বের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশের বেশি হার ঢাকা শহরে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তথ্য মতে, মাসে ৭৩৬ টি, দিনে ২৪ টি অর্থাৎ প্রতিঘন্টা একটি করে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করা হচ্ছে। আবার দেশের অন্যান্য জায়গার কথা উল্লেখ করলে তাতে সংখ্যা খুব কমে আসে না বরং দিনে দিনে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও বরিশাল অন্যতম যা আসলে চিন্তার কারণ হয়েছে। এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে এক সময় পরিবার তৈরির প্রতি মানুষের অনীহা এসে যাবে।

বাংলাদেশে বিয়ে এবং বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে কিছু আইন আছে এর মধ্যে অন্যতম হল- বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯৭৪ এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১। এসব আইন ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক গঠিত ও পরিচালিত। বিবাহ বিচ্ছেদ মুলত দুই ভাবে হয়ে থাকে- ১) কোন পক্ষের মৃত্যু হলে, ২) যে কোনো এক পক্ষের পদক্ষেপের মাধ্যমে। পদক্ষেপ আবার ৩ ভাবে হতে পারে- ক) স্বামী, খ) স্ত্রী ও গ) পারস্পরিক সমঝোতা।

বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে বিবাহ করার চুক্তিনামাতে উল্লেখ থাকে মোহরানা আর বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়ে। এছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে সমস্যা সমাধানে রয়েছে পারিবারিক আদালত। আদালতে রায়ই চুড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয় এবং এই সময়ের মধ্যে একত্রে থাকার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তখন আর বিচ্ছেদ হয় না। এমন সময় দেওয়ার কারণ একটি পরিবার এভাবে শেষ হয় যাবে তা সমাজপতিরাও চায় না তাই সময় দেওয়া হয়। একটি পরিবার সুগঠিত হওয়া সমাজ কাঠামোর অন্যতম অঙ্গ।

বর্তমানে নানান কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে। তার মধ্যে যে কারণগুলো অন্যতম তা হল স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল, পরকীয়া, যৌতুক, নারী নির্যাতন, চাকুরী সমস্যা, যৌনজীবনে সমস্যা, অপসংস্কৃতি, প্রেমঘঠিত বিবাহের জন্য পারিবারিক ভাবে সমস্যা ইত্যাদি। সামাজিক ভাবে কিংবা আইনের মাধ্যমে হলেও এই সকল সমস্যা সমাধান করা যায়। কিন্তু বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেলে ফেরানো অসম্ভব। সাধারণ দৃষ্টিতে বিচ্ছেদ পারিবারিক বিষয় হলেও সার্বিক দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করলে বিচ্ছেদ সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একাধিক সুগঠিত পরিবারের মিলে সুগঠিত সমাজ হয়। সেখানে একাধিক পরিবারের সুগঠনের অভাবে সুগঠিত সমাজ অন্তরায়। যারা পরিবার গঠনের উদ্দেশ্যে বিবাহ করেছে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে পরিবার গঠনের চেতনা নষ্ট হয়ে যায়।

আজকের শিশু আগামী দিনের দেশকে নেতৃত্ব দেবে। আর একটি শিশুর গঠন, আচরণ তৈরি হয় তার পরিবার থেকে। যদি পরিবারে বিশৃঙ্খলা, বিচ্ছেদ হয়, অযত্নে অবহেলালায় শিশু বড় হয়। আচরণগত বৈশিষ্ট্য বাবা-মায়ের মতই গড়ে ওঠে। বিবাহ বিচ্ছেদের পর ভরণপোষণ আইনের মাধ্যমে একটি শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক হবার জন্য ভরণপোষণের দায়ভার নেয় পিতা। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হলেই যে সমাজের উপযুক্ত হতে পারবে তার নিশ্চয়তা নেই। বাস্তবতা হল পিতামাতার সম্পর্কের অভাবের ফলে শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত হয়। এভাবে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধি পেতে থাকলে অনেক শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

zeesuntasfiq9314@gmail.com

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।