বিশিষ্ট সাংবাদিক কথাসাহিত্যিক ফাইজুস সালেহীনের জন্মদিন আজ

প্রকাশিতঃ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ, শনি, ১৭ অক্টোবর ২০

আশরাফুল ইসলাম :

বিশিষ্ট সাংবাদিক কথাসাহিত্যিক সংগঠক আমার লেখালেখি জগতের গুরু ফাইজুস সালেহীনের জন্মদিন আজ। ১৯৫৭ সালের এই দিনে ব্রহ্মপুত্র বিধৌত ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার শাঁখচূড়া গ্রামের এক অভিজাত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে দৈনিক সংবাদ-এর খেলাঘর পাতায় শিশুতোষ গল্প লেখার মাধ্যমে জনাব ফাইজুস সালেহীনের লেখালেখির সূত্রপাত।

১৯৮০ সালে দৈনিক আজাদে যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর তিনি সাপ্তাহিক সচিত্র স্বদেশ, দৈনিক জনতা, দৈনিক বাংলা ও দৈনিক ইত্তেফাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। সাংবাদিক ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৯২ সালে তিনি ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য এবং ১৯৯৮ সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। সাংবাদিক হিসাবে তার বহুদেশ ভ্রমণেরও অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ফাইজুস সালেহীনের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাঁতার (গল্প), বাম রাজনীতির ৬২ বছর (গবেষণা), সাঁকোর পরে সবুজ গ্রাম (গল্প), রক্তে ভেজা ভালোবাসা(গল্প), বিরহ বিজয় (মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস), মাওলানা তর্কবাগীশ (জীবনী), জাদুর পাহাড় (কিশোর অ্যাডভেঞ্চার), বাঁশি বাজে পরী নাচে (কিশোর উপন্যাস)। সময়ের কাঠগড়া (কলাম সংকলন), দখিনের জানালা(কলাম সংকলন)।

সম্ভবত ১৯৯৭ সালে পল্টু ভাইয়ের দৈনিক প্রভাতের শান্তিনগর অফিসে জনাব ফাইজুস সালেহীনের সঙ্গে আমার পরিচয়। পরিচয়ের শুরু থেকেই কাউকে আপন করে নেওয়ার যে অসাধারণ ক্ষমতা তা আমাকে বিমোহিত করে। তারপর দীর্ঘ এ পথচলায় কখনও তিনি আমার নেতা, কখনও অভিভাবক, কখনও বন্ধু-সহকর্মী সুখ-দুঃখে কথা বলার সাথী। সদা হাস্যোজ্জ্বল পরোপকারী, প্রচার বিমূখ ও অসম্ভব মোহনীয় শক্তির অধিকারী সালেহীন ভাইয়ের কাছে গেলেই যেন ফিরে পেতাম মানসিক এক প্রশান্তি।

তাইতো চাকুরি ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে দূরুত্ব বাড়লেও কখনও মানসিক দুরুত্ব বাড়েনি। মুক্তকন্ঠ, ইউএনবি, ভোরের কাগজ, ইনকিলাব যখন যেখানে চাকুরি করেছি সময় পেলেই ছুটে গেছি সালেহীন ভাইয়ের কাছে। ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডায় সমসাময়িক আলোচনায় মেতেছি। আর কে মিশন রোড়ের ইত্তেফাক অফিসের সম্পাদকীয় বিভাগে এসব আলোচনায় মরহুম কথাশিল্পী রাহাত খান, ইউসুফ শরীফ, সাংবাদিক নেতা হাবিবুর রহমান মিলন, কবি মহাদেব সাহা, আল মুজাহিদী, প্রাবন্ধিক জিয়াউল হক, গবেষক হাসান ইকবাল, কথাশিল্পী মণ্জু সরকার, কবি মিনার মনসুর ছিলেন মধ্যমনি। আর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ আমি ছিলাম নিতান্তই শ্রোতা। এরপর সাংবাদিক অধিকার ফোরাম, কথাসাহিত্য কেন্দ্র করতে গিয়ে ওনার অসম্ভব সৃষ্টিশীলতার পরিচয় পেয়েছি।

অতিথিবৎসল সালেহীন ভাইয়ের কাছে না চাইতেই অনেক কিছু পেয়েছি। স্নেহ ভালবাসার পাশাপাশি পেয়েছি জীবন সংগ্রামের মানসিক শক্তি। তাইতো সময়ের ব্যবধানে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন ঢাকায় আমার একমাত্র পিতৃতুল্য অভিভাবক ও দীক্ষাগুরু। ইত্তেফাক থেকে অবসর গ্রহণের কারণে এখন হয়তো বেশকিছু দিন পর পর দেখা হয় কিন্তু তিনি সর্বদা রয়েছেন আমার মনের মনিকোঠায়। আত্মমর্যাদায় আপোসহীন সালেহীন ভাইয়ের অনেক স্মৃতিই এখনও আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। তাই আজ এই শুভ জন্মদিনে বলতে চাই যেখানেই থাকেন ভালো থাকুন প্রিয় সালেহীন ভাই। আল্লাহ যেন মহৎ প্রাণ এই মানুষটিকে শতায়ূ দান করেন। আমিন।

লেখক : কবি ও সাংবাদিক।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।