বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ ম্যাচ

প্রকাশিতঃ ৬:০৬ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ৩০ মে ১৯

ক্রীড়া ডেস্ক: অমুক লিগ, তমুক টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ। সারা বছরই মাঠেই পড়ে থাকেন ক্রিকেটাররা। সামান্যতম ফুসরতও নেই। তবে বিশ্বকাপ এলে অন্য কথা। আবেদন ও জনপ্রিয়তায় বিশ্বকাপের সমকক্ষ হতে পারেনি আর কোনো টুর্নামেন্টই। আজ শুরু হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর বিশ্বকাপ। প্রায় দেড় মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্ট উপভোগ করতে মুখিয়ে আছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিশ্বকাপ নিয়ে সংবাদমাধ্যম, অনলাইন স্পোর্টস পোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আয়োজন।

অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা, সেমিফাইনাল, ১৯৯৯

বিশ্বকাপের ইতিহাস যতো বছরেরই হোক না কেন, সেরা ম্যাচের তালিকায় ১৯৯৯ সালের বিখ্যাত সেই সেমিফাইনালটির কথা রাখতেই হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেবার দুরন্ত ফর্ম। হার্শেল গিবস, ল্যান্স ক্লুজনার, হ্যান্সি ক্রোনিয়ে, শন পোলকসহ একঝাঁক তারকা ক্রিকেটার। আগের বছর, ১৯৯৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মিনি বিশ্বকাপে কাউকেই পরোয়া করেনি দলটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে সরব ছিল ক্রিকেট বিশ্ব। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপেও কাউকেই গা করেনি ক্রোনিয়ের দল। জিম্বা্বুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত হার বাদে গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচেও হারেনি দলটি। সুপার সিক্সে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে উঠে যায় সেমিফাইনালে।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় প্রোটিয়ারা। সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচে অসিদের বিপক্ষে হারলেও সেমিফাইনালে দক্সিণ আফ্রিকাকেই সবাই এগিয়ে রেখেছিল। ম্যাচের শুরুটাও দারুণ করেছিল প্রোটিয়ারা। মার্ক ওয়াহকে প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন শন পোলক। একটা পর্যায়ে ৬৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে দলটি। সেখান থেকে মাইকেল বেভান (৬৫) ও স্টিভ ওয়াহ (৫৬) টেনে তোলেন অস্ট্রেলিয়াকে। শেষ পর্যন্ত ২২৩ রানের মাঝারি স্কোর গড়তে সক্ষম হয় ক্যাঙারুরা। ৫ উইকেট নেন শন পোলক।

২১৪ রানে লক্ষে খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ভালোই হয়েছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ রান করেন গিবস ও কারস্টেন। এরপরই শেন ওয়ার্নের ঘূর্ণির সামনে অসহায় হয়ে পড়েন দলটির ব্যাটসম্যানরা। স্কোরে আর ১৩ রান যোগ করতেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান উদ্বোধনী জুটিসহ হ্যান্সি ক্রোনিয়ে ও ড্যারেল ক্যালিনান। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যে কাজটি করেছিলেন বেভান-স্টিভ ওয়াহ, দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সেই কাজটি শুরু করলেন জ্যাক ক্যালিস ও জন্টি রোডস। দলীয় ১৪৫ রানে রোডস ও ১৭৫ রানে ক্যালিস ফিরে গেলে চাপে গড়ে যায় প্রোটিয়ারা। শেষের দিক ঝড় তোলেন ল্যান্স ক্লুজনার।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ৯ রান, হাতে রয়েছে এক উইকেট। প্রথম দুই বলে দুটি চার মেরে সকল উত্তেজনায় পানি ঢেলে দেন ক্লুজনার। তৃতীয় বলে অবশ্য রান আউট থেকে বেচে যান মার্ক বাউচার। মিড অনে দাঁড়ানো ড্যারেল লেহমেন যদি ভালোমতো থ্রো করতে পারতেন তাহলে তখনই জয় নিশ্চিত হয়ে যেত অস্ট্রেলিয়ার। চতুর্থ বলে এবার সেই একই ভুল করলেন কালুজনার। ফ্লেমিংয়ের বলটা মিড অফে ঠেলে দিয়েই দৌড় দিয়েছিলেন ক্লুজনার। তবে এবার আর প্রস্তুত ছিলেন না বাউচার।

এবারও থ্রো করে উইকেটে ভাঙতে পারেননি শেন ওয়ার্ন। ততক্ষণে অবশ্য দুই ব্যাটসম্যান একই প্রান্তে। বোলার ফ্লেমিং বলটা এগিয়ে দিলেন উইকেটরক্ষক গিলক্রিস্ট এর দিকে। বল পেয়েই উইকেট ভেঙে দিলেন গিলি। ম্যাচ টাই!  সুপার সিক্সে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকায় ফাইনালে ওঠে গেল অস্ট্রেুিলয়া। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথম টাই ম্যাচ।

ভারত-জিম্বাবুয়ে,গ্রুপ পর্ব ১৯৮৩

ক্রিকেট ইতিহাসের তৃতীয় বিশ্বকাপ সেটা। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ভারত তখন পুচকে একটা দল। বিশ্বকাপ খেলতে আসা ভারতীয় দলটির কাছে তখন ইংল্যান্ড দূর আকাশের কোনো বস্তু। মাসখানেক আগে বিলেতে আসা দলটির কাছে তখন সাদা চামড়ার নারী আর বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। তবে সব হিসেব বদলে যায় আসরের প্রথম ম্যাচেই। আগের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেয় কপিল দেবের ভারত। বিস্ময় শেষ না হতেই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় দলটি।

এর আগের ম্যাচটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে নামে ভারত। টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন কপিল। তবে জিম্বাবুয়ের বোলারদের অসাধারণ বোলিংয়ের সামে টপাটপ করে  আউট হতে থাকেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই আউট হন সুনীল গাভাস্কার। দলীয় ৬ রানে তাকে অনুসরণ করেন শ্রীকান্ত। স্কোরে ৯ রান যোগ হতেই রনেই আরো দুজন ব্যাটসম্যান। কপিল দেব যখন মাঠে নামেন ভারতের স্কোর তখন ৯/৪। খানিকবাদে কপিলকে একা রেখে ফিরে যান যশপাল শর্মা (১৭/৫)।

রজার বিনিকে নিয়ে ইনিংস গড়ার কাজে মন দেন অধিনায়ক। এই জুটিতে আসে ৫০ রান। ২২ রান করে ফিরে আসেন বিনি। স্কোরে আর এক রান যোগ হতেই রবি শাস্ত্রীও নেই ৭৮/৭। কপিল তখন ৩৩ রানে অপরাজিত।

এদিন বাকি সতীর্থদের ওপর আর ভরসা না রেখে নিজের ব্যাটটাকে গদা বানিয়ে ফেললেন ভারতের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। ফ্লেচার, কারেনদের আছড়ে ফেলতে লাগলেন মাঠের ওপারে। মদল লালের সাথে গড়লেন ৬২ রানের জুটি। মদন করেন ২২ রান। মদন যখন আউট হন ভারতের রান তখন ৮ উইকেটে ১৪০। দেড়শ হবে কিনা এমন সংশয়ে সমর্থকরা।

সবাই হাল ছাড়লেও কপিল তার বিশ্বাস হারান নি। সৈয়দ কিরমানিকে নিয়ে যা করলেন সেটা একটা ইতিহাস। কিরমানি কেবল তার প্রান্ত আগলে রাখার কাজটি করলেন অন্যদিকে ততক্ষণে রুদ্রমূর্তি ধারণ তরেছেন কপিল। ৪৯তম ওভারে মাত্র ৭২ বল খেলে কপিল পৌঁছান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে। ওয়ানডেতে ভারতের প্রথম সেঞ্চুরিও সেটা। পরের ১১ ওভারে কপিল একাই করলেন ৭৫। ১৮১ মিনিট, ১৩৮ বল খেলে ১৬ চার ও ৬ ছক্কায় ১৭৫ রানে অপরাজিত থেকে গেলেন কপিল। ভারতের রান তখন ৮ উইকেটে ২৬৬। কিরমানি করেন ৫৬ বলে ২৪। ৯ম উইকেটে জুটিতে তাদের করা ১২৬ রান ভাঙতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০১০ সাল পযংর্ন্ত। কপিল সেদিন একাই করেছিলেন দলের ৬৫.৭৮ শতাংশ রান। জবাবে ২৩৫ রানে শেষ হয় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া ও একাই কিভাবে ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়া যায় সেদিন সেটাই করে দেখান হরিয়ানার হারিকেন খ্যাত কপিল দেব। ১৯৮৩ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের আত্মবিশ্বাসের  বুনিয়াদটা সেদিন কপিলই গড়ে দিয়েছলেন।

অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ,সেমিফাইনাল, ১৯৯৬

চন্ডিগড়ের উইকেট স্লো,সেখানে স্পিনাররা সহায়তা পাবেন। ম্যাচ শুরুর আগে বারবারই এমন ভবিষ্যতবাণী করছিলেন ধারাভাষ্যকাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে ভালো স্পিনার নেই এটা ভেবেই হয়তো টস জিতে ব্যাটিং নিতে ভুল করেননি স্টিভ ওয়াহ। তবে ম্যাচের প্রথম পৌনে এক ঘন্টাতেই অসি অধিনায়কের মুখটা বির্বন হয়ে যায়। ১৫ রানেই ফিরে যান টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যান। তারপরও সেই ম্যাচটা জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। সেই কারণেই সেরা ম্যাচের তালিকায় এই ম্যাচটাকে তিনে রাখা হয়েছে।

মোহালির সেমিফাইনাল জিতে ১৩ বছর পর ফাইনালে ওঠার স্বপ্নে বুদ লারা-চন্দরপলরা। পুরো আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে আপসেট ছাড়া বাকি দলগুলোকে বলে কয়ে হারিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেমিফাইনালে শুরুটাও হয়েছে দারুণ। অসি স্কোরবোর্ডে ১৫ রান তুলতেই মার্ক ওয়াহ, স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিং ও মার্ক টেলর।  দুটি করে উইকেট নিয়ে দলকে দারুণ জায়গায় নিয়ে চলে যান কার্টলি অ্যামব্রোস ও ইয়ান বিশপ।

দলের হয়ে প্রতিরোধ পর্বটা শুরু করেন মাইকেল বেভান ও স্টুয়ার্ট ল। এই জুটিতে আসে ১৩৮ রান। ১০৫ বলে ৭২ রান করে ফিরে যান ল। বেভান ও ইয়ান হিলি মিলে দলে স্কোরটাকে ২০৭ ও টেনে নিয়ে যান। বেভান ৬৯ ও হিলি করেন ৩১ রান।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দারুণভাবে টিকে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একটা সময় ৩ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে ফেলে ক্যারিবীয়রা। ব্রায়ান লারা ৪৫ ও রিচি রিচার্ডসন করেন ৪৯ রান। তবে শিবনারায়ন চন্দরপল (৮০)আউট হবার পরই বদলে যায় ম্যাচের গতিপ্রকৃতি। শেন ওয়ার্নের ঘূর্ণি ও গ্লেন ম্যাকগ্রা ও ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের গতির সামনে নতজানু হয়ে যায় দুবারের চ্যাম্পিয়নরা।  ওয়ার্ন চারটি, ম্যাকগ্রা ও ফ্লেমিং নেন দুটি করে উইকেট। শেষের দিকে ব্যাটসম্যানরা বাজেভাবে ব্যর্থ হলে ৫ রানে ম্যাচটি হেরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তখনো বল ছিল ছিল তিনটি। ম্যাচ সেরা হন শেন ওয়ার্ন।

ফাইনালে অবশ্য জয়ের ধারাটা বজায় রাখতে পারেনি অজিরা। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অরবিন্দ ডি সিলভার দুর্দান্ত এক শতকের কাছে হেরে শিরোপাবঞ্চিত হয় স্টিভ ওয়াহর দল।

অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড,ফাইনাল, ১৯৮৭

সেবারই প্রথম ইংল্যান্ডের বাইরে কোনো দেশ বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পায়। ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে। সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত পাক-ভারত ছাড়া আর কোনো দেশকে শিরোপা প্রত্যাশী মনে করছিলেন না কেউই। গ্রুপ পর্বে স্বাগতিকরা যেভাবে খেলছিলেন তাতে পাক-ভারতের ফাইনাল ধরেই ছক কষছিলেন সবাই। তবে বিধিবাম। সেমিফাইনালে ইমরান খানের অনবদ্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্স (৫৮ রান ও তিন উইকেট) ও জাভেদ মিয়াদাদের দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ের পরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তান হেরে যায় ১৮ রানে। ক্রেইগ ম্যাকডারমট নেন ৫ উইকেট। অন্য সেমিফাইনালে গ্রাহাম গুচের অসাধারণ শতকের কাছে ৩৫ রানে হেরে যায় কপিল দেবের ভারত।

ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে দারুণ সূচনা দেন মার্শ পরিবারের সিনিয়র জিওফ মার্শ। উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ৭৫ রান। এরপর মাইক ভেলেত্তার ৪৫, ডিন জোন্সের ৩৩ ও অ্যালেন বোর্ডারের ৩১ রানের বদৌলতে ২৫৫ রানের সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া। কে না জানে ২৫৫ রান ইডেনের মাটিতে কত বড় সংগ্রহ!

শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। টিম রবিনসনকে প্রথম ওভা্রেই ফেরত পাঠান ক্রেইগ ম্যাকডারমট। এরপর অবশ্য গ্রাহাম গুচ (৩৫) ও ও টিম অ্যাথের (৫৮) ব্যাটে ভালোই জবাব দিচ্ছিল ইংলিশরা। মনে হচ্ছিল, এবার হয়তো ভাগ্যদেবতা আর তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। ভালো ব্যাটিং করলেও বল বেশি খরচ করে ফেলেছিলেন অ্যাথে।

মাইক গ্যাটিং (৪১) ও অ্যালেন ল্যাম্ব (৪৫) মিলে অ্যাথের ভুল শোধরানোর কাজটা দারুণভাবেই করছিলেন। তবে ইংলিশদের জন্য কাজটা কঠিন করে তুলেন সাইমন ও’ডনেল ও স্টিভ ওয়াহর কিপটে বোলিং। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত রান তুলতে না পারায় দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেও শিরোপা হাতছাড়া হয় ইংল্যান্ডের। ম্যাচটি ৭ রানে জিতে নিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড,সেমিফাইনাল, ২০১৫

দক্ষিণ আফ্রিকা বড় আসরের দল নয়! ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে কথাটা আরো একবার প্রমাণ করে ছাড়ল প্রোটিয়ারা। ১৯৯২ সালের পর ২৩ বছর পর আবার বিশ্বকাপ আয়োজন করে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড। পুরো আসরে দাপটের সাথে খেলে স্বাগতিকরা। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা এবার খুব করে চাইছিল হলুদ রঙা ট্রফিটা যেন এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়। পুরো আসরে দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দেন ডি ভিলিয়ার্স-ডু প্লেসিস-আমলারা। সব ভালোর শেষটা যেমন ভালো হয় না, শেষটা ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকারও।

অকল্যান্ডে শেষ চারের লড়াইয়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেও শেষ পর্যন্ত হার স্বীকার করতে হয় এবির দলকে। এদিন অদ্ভূত কিছু ঘটনা ঘটে। পুরো ক্যারিয়ারে অসাধারণ ফিল্ডার হিসেবে সুনাম কামানো ডি ভিলিয়ার্স সহজ রান আউটের সুযোগ মিস করেন। কোরি এন্ডারসন তখন আউট হলে নিশ্চিতভাবে ম্যাচটা পকেটে পুরত দক্ষিণ আফ্রিকা। উইকেটের পেছনে আরেকটি রান আউটের সুযোগ মিস করেন কুইন্টন ডি কক। শেষ দিকে বেহারদিন ও ডুমিনি বোঝাপোড়ার অভাবে মিস করেন গ্রান্ট এলিয়টের ক্যাচ। প্রোটিয়া শিবিরের সেরা দুই ফিল্ডার যখন এলিয়টের ক্যাচ মিস করেন কিউইদের জয়ের জন্য তখন দরকার ৬ বলে ১২ রান!

অকল্যান্ডে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩১ রানের মধ্যে আমলা ও ডি কক ফিরলেও ডু প্লেসিস (৮২), রুশো (৩৯) এর ব্যাটে ম্যাচে ভালোভাবে টিকে ছিল প্রোটিয়ারা। ভিলিয়ার্স যখন উইকেটে আসেন সফরকারীদের রান তখন ৩ উইকেটে ১১৫।

ব্যাট করতে নেমেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন এবি। ৩৮তম ওভারে কিউই বোলারদের জন্য রহমতের বর্ষণ করে অকল্যান্ডের আকাশ। প্রোটিয়াদের রান তখন ৩৮ ওভারে ২১৬/৩। দুই ঘন্টা পর বৃষ্টি থামলে আবার ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসে ৪৩ ওভারে। শেষ পাচটি ওভার বেধড়ক পিটিয়ে মিলার-ভিলিয়ার্স-ডু প্লেসিসরা নেন ৬৫ রান।

ডিএল মেথডে নিউজিল্যান্ডের জন্য জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩ ওভারে ২৯৮ রান। ডি ভিলিয়ার্স ঝড় তুলতে ব্যর্থ হলেও সুযোগটা নিতে ভুল করেননি ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ২৬ বলে ৮টি চার ও ছয়টি ছয়ে ৫৯ রান করে কিউইদের ফাইনালে ওঠার পথটা মসৃন করে দেন অধিনায়ক ম্যাককালাম। মরকেলের বলে ম্যাককালাম আউটি হওয়ার পরই ম্যাচে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর কেন উইলিয়ামসনকেও ফিরিয়ে দেন মরকেল। দলীয় রান দেড়শ পার হওয়ার আগেই রস টেলর ও মার্টিন গাপটিল ফিরলে চাপে পড়ে যায় কিউইরা।

এদিন যেন অসুর ভর করে গ্রান্ট এলিয়টের ওপর। পুরো আসরে ফ্লপ শো দেখানো এই ব্যাটসম্যান নিজেকে চেনানোর জন্য সেমিফাইনালটিকেই বেছে নেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৭৩ বলে করেন ৮৪ রান। অন্যপ্রান্তে কোরে অ্যান্ডারসন করেন ৫৭ বলে ৫৮ রান। প্রোটিয়া ফিল্ডাররা এদিন হাতে তেল না মাখলে অনেক আগেই ফিরতে পারতেন এই দুজন। শেষ পর্যন্ত এক বল হাতে রেখেই ম্যাচটা জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। ফাইনালে অবশ্য আর পেরে ওঠেনি কিউইরা। মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সহজ ফাইনালে ৭ উইকেটে আত্মসমর্পণ করে ম্যাককালাম-ভেট্টরিরা। এই ম্যাচ দিয়েই ১৯ বছরের শিরোপা খরা মোচন করে অজিরা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ