বিশ্ব বই দিবস আজ

প্রকাশিতঃ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৩ এপ্রিল ২০

মেহেরুজ্জামান সেফু : বই মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, বই মানুষকে এগিয়ে নিতে শেখায়, বই মানুষের জীবনকে অনুধাবন করতে শেখায়। বই মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়। বই মানুষকে তার করনীয় সম্পর্কে জানায়। বই মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝায়। বই যেন মানুষের সুন্দর একটি সাজানো জীবন অতিবাহিত করার পরম মন্ত্র।

আজ ২৩ এপ্রিল ( বৃহস্পতিবার) বিশ্ব বই দিবস। ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার এ দিনটি আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করা হয়নি। বিশ্ব ব্যাপি ছড়িয়ে পরা করোনা ভাইরাসের প্রকোপে স্তব্ধতা বিরাজ করছে বিশ্ব জুড়ে। তাই ঘরে থেকেই দিনটি উদযাপনের আনন্দ নিতে হচ্ছে।

বই পড়া কারো কাছে শখ, আবার কারো কাছে হয়েছে অভ্যাসে পরিনত । সারাদিনের ধ্যানে জ্ঞানে যেন বই। বই ছাড়া তাদের জীবনটা এক প্রকার মূল্যহীন। এমনই বই পাগল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কাছে এই দিবসটি সম্পর্কে জানতে চাইলে সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র এস,কে সাগর বলেন, বই আমাদের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, বই একসময় জীবন্ত মানুষ হিসেবে কাজ করে।

সবকিছু ভাগাভাগি করা যায় কিন্তু বইয়ের ভালোবাসা ভাগাভাগি করা যায় না। ইন্টারনেটের যুগে কিছুটা পিছিয়ে পরলেও এখন আট থেকে আশির মন জুড়ে রয়ে গেছে বই কারন,বইয়ের গন্ধ অনুভূতি যে যন্রে মেলে না। তাই আজও অত্যাধুনিক পৃথিবীতে রমরমিয়ে টিকে আছে বই পড়া। আসুন বই পড়ি সবসময় শুধু বই দিবসে নয়।

তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্রী বর্ষা বলেন, বই দিবস বলতেই মনে হয় যেন একটা বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এর সুন্দর একটি সুযোগ বা সময়। যে বন্ধু ছোটবেলা থেকে সারাজীবন আমাদের সাথে থাকে। ভালোবাসার অন্য নাম বই

বিশ্ব বই দিবসের সূচনা হয় স্পেনের লেখক ভিসেন্ত ক্লাভেল আন্দ্রেসের কাছ থেকে। আন্দ্রেস ছিলেন স্পেনের আরেক বিখ্যাত লেখক মিগেল দে থের্ভান্তেসের ভাবশিষ্য। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিল মারা যান স্পেনের সেই বিখ্যাত লেখক মিগেল দে থের্ভান্তেস। তাই নিজের প্রিয় লেখককে স্মরণীয় করে রাখতেই ১৯২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে আন্দ্রেস স্পেনে পালন করা শুরু করেন বিশ্ব বই দিবস। এরপর দাবি ওঠে প্রতিবছরই দিবসটি পালন করার। তারপর অবশ্য বহুদিন অপেক্ষা করতে হয় দিনটি বাস্তবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য।

অবশেষে ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং পালন করতে শুরু করে। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর ২৩ এপ্রিল বিশ্ব বই দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল শুধুমাত্র বিশ্ব বই দিবসই নয়, শেক্সপিয়র, সত্যজিৎ রায়, ইনকা গার্সিলাসো ডে লা ভেগাসহ প্রমুখ খ্যাতিমান সাহিত্যিকদের জন্ম ও প্রয়ান দিবসও। আর এ কারণেও ২৩ এপ্রিলকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।

লেখক : সংবাদ পাঠক রেডিও আমার ৮৮.৪ এফ এম।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ