বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরা একটি পরিবারের আর্তনাদ

প্রকাশিতঃ ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১২ নভেম্বর ১৯

চাঁদপুর প্রতিনিধি: ফারজানাকে শেষবারের মতো দেখতে প্রবাস থেকে রওয়ানা দিয়েছেন বাবা বিল্লাল বেপারী। আদরের ছোট মেয়ের সাথে আর কথা হবে না। প্রবাস থেকে ফরাজানার বাবার ইচ্ছেটা প্রকাশ করায় মৃতদেহ দাফন করা হয়নি।

এদিকে ফারজানার মা বেবী বেগম (৪০), মামাতো ভাই ইউছুফ ওরফে জুবায়ের বেপারী (২৮), নানী ফিরোজা বেগম (৭০), মামি শাহিদা বেগম (৪০), মামাত বোন মিতু (১৭), ইলমা (৭) তারা সবাই রাজধানীর বার্ণ ইউনিট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বালিয়া গ্রাম। নিহত ফারজানা বিবাহিত। সে শহরের নাজির পাড়া দেওয়ান বাড়ীর মোহন দেওয়ানের স্ত্রী।

জানা গেছে, জাঁকজমক বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ক্লান্ত হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে সকলে। ফেরার পথে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথার ধাক্কায় পুরো পরিবার এখন চুরমার হয়ে গেল। কারো পা, কারো হাত, কারো কোমার ভেঙ্গে গেছে। আবার কারো মাথায় কাঁচের টুকরা ঢুকে গেল।

সিলেটের শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন থেকে লাকসাম রেল জংশনের উদ্দেশ্যে আন্ত:নগর উদয়ন এক্সপ্রেসে যাত্রা শুরু করে পুরো পরিবার। সেই যাত্রা শেষ রজনীতে ছত্রভঙ্গ হয়ে সঙ্গী এখন দুঃখ-যন্ত্রণাময় বাঁচার লড়াই।

নিহত ফারজানার পরিবারের সদস্য সাবেক ইউপি সদস্য মুনাফ খাঁন। তিনি খবর পেয়ে রাজধানীর হাসপাতালে হাজির। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রান্ত বদল করে ছুটে চলছেন। তিনি সময় জার্নালকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার সিলেটে ফারজানার খালাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছে। সেখান থেকে চাঁদপুরে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে ফারজানার নানী ফিরোজা বেগম (৭০), ভাই ইউছুফ ওরফে জুবায়ের বেপারী (২৮), মামি শাহিদা বেগম (৪০), মামাত বোন মিতু (১৭) অবস্থা আশংকাজনক।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মন্দবাগ নামক স্থানে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোর ২টা ৫৬ মিনিটে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্ত:নগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুটি ট্রেনে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ১৬ যাত্রী। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩জন নিহত হয়েছেন। চাঁদপুরে নিহতরা হলেন- হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের বেপারী বাড়ীর মৃত আব্দুুল জলিলের চেলে মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪২)। অপর নিহত ফারজানা আক্তার (২০)।

সময় জার্নাল/ মনিরুজ্জামান বাবলু

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ