বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ যে কোন কাজ করবে সেনাবাহিনী : সেনা প্রধান

প্রকাশিতঃ ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ১১ জুন ২০

মুহা. জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা : সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, দেশের যেকোন দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। জাতীয় যেকোন কাজে আমরা না বলি না। সেনাবাহিনীর উপর জনগনের ও সরকারের আস্থা রয়েছে। তাই আমরা গর্বের সাথে সরকারের দেয়া নির্দেশনামত বিশেষ পরিস্থিতিতে কাজ করে যাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে এসে সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদী স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এজন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ সেনাবাহিনীর দায়িত্বে দিলে আগ্রহসহকারে সেনাবাহিনী করবে। দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ যে কোন কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর ১৬টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট রয়েছে। এর মধ্যে উপকূলে পানি সংকট নিরসনের জন্য তিনটি ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। আরও লাগলে সেটি আমাদের কাছে চাইতে হবে। ২১ জুন থেকে এ পর্যন্ত সেনাবাহিনী ৪৬০টি ঘর সংস্কার করেছে। সেনাবাহিনীর নিজস্ব তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজার দুস্থ পরিবারকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা অসহায় দুস্থদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। জলাবদ্ধতা নিরসনেও সেনাবাহিনী কাজ করছে। জামালপুর ও সিরাগঞ্জে সেনাবাহিনী বাঁধরক্ষায় কাজ করে সফল হয়েছে।

সেনা প্রধান বলেন, করোনা মহামারিতে আমরা মানুষের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। এটা চলমান থাকবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গর্ভবর্তী মায়েদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। করোনার কারণে যারা হাসপাতালে যেতে পারেন না তাদেরকে আমরা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। ডাক্তারও এ সময় চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। যশোরের ঝিকরগাছায় চিকিসা সেবার কথা উল্লেখ করে সেনা প্রধান আরও বলেন, আমরা সেখানে দুই হাজারেরও বেশি গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছি। এ সেবা অব্যহত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করবে সেনাবাহিনী।

করোনা ভাইরাস ও উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, লকডাউন স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়। স্থানীয় প্রশাসন সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করবো। সরকারের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাঁধ রক্ষার কাজ সেনাবাহিনীকে দিলে সেনাবাহিনী করবে কী না? আমরা বলেছি, সরকারের দেয়া যে কোন কাজ করতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এটিকে আমরা গর্ব মনে করি। কীভাবে কাজগুলো করলে সুন্দর হবে এখন সেটি আমরা পরিকল্পনা করছি। বাঁধ রক্ষায় এই মুহূর্তে লোক ও বাঁশসহ অন্যান্য সারঞ্জামাদি দরকার হবে। সবকিছু পর্যাপ্ত পাওয়া নাও যেতে পারে। তবুও আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা। সেটি যদি আমরা পাই তাহলে কাজটি ভালোভাবে করতে পারবো। সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়কেও সেটি নিয়ে ভাবতে হবে।

এর আগে তিনি হেলিকপ্টার যোগে সাতক্ষীরা ষ্টেডিয়ামে অবতরণ করে প্রথমে সার্কিট হাউসে যান। সেখানে সেনাবাহিনীর চীফ ইঞ্জিনিয়ার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চীফ ইঞ্জিনিয়ারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় অম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহয়তা দিতে আমরা এসেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করতে আসিনি। এখানে কারো উপর চড়-থাপ্পড় দেয়া যাবে না। সকলের সঙ্গে বিনয়ী হতে হবে। মনে রাখতে হবে আমরা মানবিক কাজে এখানে এসেছি। ক্রান্তিকালে যে সকল সেনা জনগণের পাশে রয়েছে জনগণ তাদের মনে রাখবে। তিনি আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আগে নিজেকে সুস্থ রাখতে হবে। একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে আমরা কাজ করছি। করোনার কারণে সকলকে প্রটেকশন নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন, সেনাবাহিনীর কোয়াটার মাস্টার জেনারেল লে. জেনারেল শামসুল হক, যশোর সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল হুমায়ুন কবির, সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুম, আইএফসিআর এর পরিচালক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জিয়াদসহ পদস্থ কর্মকর্তাগণ।

মতবিনিময় শেষে সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ হেলিকপ্টার যোগে আকাশ পথে অম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগর এবং খুলনার কয়রা এলাকা পরিদর্শন করেন।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।