বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগেও জাপানিদের আগ্রহ রয়েছে : শেখ মঞ্জুর মোরশেদ

প্রকাশিতঃ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, রবি, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আন্তর্জাতিক ফাইনান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান বিনিয়োগ ডায়লগ’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারে এ আগ্রহ প্রকাশের কথা জানানো হয়। জাপানের সুমিটোমা কর্পোরেশন, মারুবেণি কর্পোরেশন ও হোন্ডাসহ ২০০টির বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই অনলাইন কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও জাপানি গাড়ির বড় বাজার বাংলাদেশ। তাই এখানে গাড়ি তৈরির বড় কারখানা করতে চাইছে দেশটি। সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জানান, বাংলাদেশে অটোমোবাইল কারখানা স্থাপনের চিন্তা করছে তার দেশ। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) জাপান বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে। এটি হবে এশিয়ায় তাদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে জাপানের বিনিয়োগ এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদাসহ নানা বিষয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময় জার্নালের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন জাপানের (বিসিসিআইজে) সহ-সভাপতি এবং সাম্পান গ্রুপের সিইও শেখ মঞ্জুর মোরশেদপাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-

সময় জার্নাল : জাপান বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। কোন কোন সেক্টরে এ বিনিয়োগগুলো হবে?
শেখ মঞ্জুর মোরশেদ : যতটুকু জানা যায়, অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স সেক্টরে এ বিনিয়োগগুলো হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) হচ্ছে সেখানে জাপানিদের বিনিয়োগে অনেক উৎসাহিত করেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগগুলো জাপানিদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। বড় বড় বিনিয়োগের সাথে আমাদের জন্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগগুলোও খুবই প্রয়োজন। এজন্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগগুলোকে অন্যভাবে উৎসাহিত করা যেতে পারে। বাংলাদেশ এ্যাম্বাসীতে যদি জাপানিদের জন্য একজন কমার্সিয়াল কাউন্সিলর অথবা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধিকে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিযুক্ত করা যেতে পারে তা হলে আমরা আরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ পাবো।

সময় জার্নাল : অটোমোবাইল সেক্টরে আমাদের একটি সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু করোনার কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় গাড়ীর দাম বেড়ে গেছে। এছাড়াও পোর্টে যারা আছেন তারা চালান নিতে পারছে না। এক্ষেত্রে যারা বিনিয়োগ করবে তাদের লোকসানের কোন সম্ভাবনা আছে কি?
শেখ মঞ্জুর মোরশেদ : ক্ষতির চিন্তা করে বসে থাকলে তো চলবে না। আমাদের পরে স্বাধীনতা পেয়েও ভিয়েতনাম কতো এগিয়ে গেছে। ভিয়েতনাম জাপানে ৮০.৫১১ বিলিয়ন ডলার এক্সপোর্ট করে; অথচ বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করছে মাত্র ১,৩৬৫ মিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে আমাদের প্রায় ১২-১৩ গুন বেশি। অথচ তারা আমাদের ৫ বছর পরে স্বাধীন হয়েছে। সেজন্য আমাদেরকে সামনের দিকে তাকাতে হবে। ভবিষ্যৎকে নিয়ে ভাবতে হবে। করোনার ভয়ে জড়ো হয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। কিছুটা ঝুঁকি নিতে হবে।

সময় জার্নাল : জাপানে বাংলাদেশিরা কি ধরণের ব্যবসার সাথে যুক্ত আছে?
শেখ মঞ্জুর মোরশেদ : জাপানে বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যবসায়ী রিকুন্ডিশান গাড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত। এছাড়াও অন্যান্য ব্যবসার সাথেও কেউ কেউ জড়িত আছে। তবে আমি একটু ভিন্ন ধরণের ব্যবসার সাথে যুক্ত। আমি চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসা করি।

সময় জার্নাল : কোরবানির ঈদের সময় শোনা গেছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে ওয়েট-ব্লু চামড়া (প্রক্রিয়া করা) রপ্তানি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে যে এ উদ্যোগ খুব একটা সফল হতে পারেনি। এ বিষয়ে একটু জানাবেন?
শেখ মঞ্জুর মোরশেদ : এমন একটি সময় কোরবানির ঈদ এসেছে যখন শুধুমাত্র আমাদের দেশ না, সার্বিকভাবে পুরো বিশ্বের মানুষ শুধুমাত্র বাঁচার তাগিদটাকেই প্রাধান্য দিয়েছে; ব্যবসাকে নয়। এই সময়ে সরকারের এই উদ্যোগকে সফল হয়নি এটি বলা যায় না। ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানি করাটা সরকারের সিদ্ধান্ত; আমি সেখানে ভালো মন্দ কিছুই বলবো না। তবে আমি মনে করি আগে যেভাবে চলেছিলো সেটাই ঠিক ছিলো।

সময় জার্নাল : বাংলাদেশের তৈরি চামড়াজাত পণ্যে জাপানিদের আগ্রহ কতটুকু? সেখানে এর বাজার কেমন?
শেখ মঞ্জুর মোরশেদ : বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য সম্পর্কে বরাবরই জাপানিদের আগ্রহ ছিলো; এখনো আছে। তবে আমরা তা সেভাবে পুরণ করতে পারিনি। তাছাড়া রাজধানীর পরিবেশ দূষণের কারণে চামড়া কারখানাগুলোকে ঢাকার হাজারিবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরিত করা হলেও তা এখনো পুরোপুরিভাবে চালু করা যায়নি। আগে যে কারখানাগুলো সচল ছিলো সেগুলোও মুখ থুবড়ে পড়েছে। সরকার হয়তো সাভারে যাওয়ার জন্য কারখানা মালিকদের সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তবে আমি মনে করি প্রণোদনার টাকা সঠিকভাবে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা হয়নি।

সময় জার্নাল/শাহ্ আলম

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।