ভয়াবহ এই প্রবণতা বন্ধ হোক

প্রকাশিতঃ ৬:১৫ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ২৬ ডিসেম্বর ১৯

সিরাজুল ইসলাম :

কোন বিবেকবোধে আপনারা এগুলো করতে পারেন?

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান না। বরং এগুলো স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। তাহলে কেন যোগ্যতা-দক্ষতা বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়ভাবে কোনো একজন শিক্ষককে ভিসি বা প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে? কেন সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ই বড় হবে? এ প্রবণতা জাতির জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর।

যতদিন এই প্রবণতা জারি থাকবে ততদিন পর্যন্ত নুরুল হক নুরু এবং অন্য আরো বহুসংখ্যক সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী মার খেতেই থাকবে, আর অনিবার্যভাবে সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হবে। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-সহিংসতাও অব্যাহত থাকবে। নুরুদের মতো ছাত্ররা মার খাওয়ার পর ‘হয়ত’, ‘সম্ভবত’, ‘যেহেতু’, ‘সেহেতু’, ‘সুতরাং’, ‘কিন্তু’ এসব চলতেই থাকবে।

এর ফল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাত্রদের পিতৃসম হতে পারবেন না। ছাত্রের হাতে ছাত্র মার খেলে এইসব শিক্ষক আহত/নিহত ছাত্রের পরিচয় খুঁজবেন আগে। দলের সঙ্গে, আদর্শের সঙ্গে সর্বোপরি মনের সঙ্গে মিললে তবেই পাবে দরদ-সান্ত্বনা এবং প্রতিকার, নয়তো না। কিন্তু এইরকম প্রেক্ষাপট কী গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে ভর্তি হয়ে ছাত্ররা মার খেয়ে খেয়ে একদিন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র হবে, মনের মাঝে‍ দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াবে- এটা কী ভাবা যায়? কোন বিবেকবোধে আমাদের সরকার, রাজনৈতিক নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এমন প্রেক্ষাপটকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সচেতনভাবে কাজ করেন? এই অপরাজনীতিকে ধিক্কার জানাতেই হয়।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ