মাদক না মাদকাসক্তি

প্রকাশিতঃ ৭:০৭ অপরাহ্ণ, শুক্র, ১৩ ডিসেম্বর ১৯

শিরীনা বিথী

সরকার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকাসক্তদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছে। আর এই জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও গণমাধ্যমসমূহ এ ব্যাপারে ধন্যবাদের পাত্র। দেখা গেছে বিভিন্ন বা ভিন্ন ভিন্ন নামের মাদকের মধ্যে কিছু রয়েছে কোমল, কিছু কিছু মধ্যম বা ঘোলাটে মাত্রার আর কিছু হচ্ছে হার্ড ড্রাগ বা কঠিন জাতীয় মাদক। নাম যাই হোক না কেন তাদের সেবক হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তরুণ বা যুবসম্প্রদায়। তারা হতাশার বশবর্তী হয়ে মাদকাসক্ত হয়েছে কিংবা হচ্ছে। এটা হয়ত অনেকাংশে ঠিক। হতাশার বহুবিধ কারণ থাকতেই পারে তার মধ্যে উচ্চাকাঙ্খা বা প্রত্যাশার হতে পারে। যার মাত্রা আবার উচ্চ শিক্ষিতদের মনে বেশি। উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বেশি আর বেকারত্বের প্রধান কারণ হচ্ছে বাজার বিমূখ নিম্নমানের শিক্ষা ব্যবস্থা।

মাদকের উৎস সম্পর্কে আমাদের নানা ধরনের মতামত রয়েছে। কেউ বলছে দেশে সীমিত আকারে মাদকের উৎপাদন হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত বিচারে দেখা গেছে ফেনসিডিল, হিরোইন, ইয়াবা বা অন্যান্য মাদক আসে সীমান্তের অপার থেকে। তার একটা হচ্ছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের সাথে আমাদের ইক্যুয়েশন বা সমতা বড্ড কঠিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা শুধু তাদের রোহিঙ্গা নাগরিকদের আমাদের মাটিতে ঠেলে দিয়ে উন্নয়ন সংকট সৃষ্টি করছে না, তারা আমাদের মূলে বিনাশের উপায় হিসাবে আমাদের তরুণ ও যুবাদের টার্গেট করছে। তাদের একাংশ অপরাজনীতির অপচ্ছায়ায় এই মাদক সরবরাহের কাজটা চালিয়ে যাচ্ছে। কারা এসবে জড়িত তাদের পরিচিতি উদঘাটিত হলে দেখা যায় কঠোরতা ছাড়া তাদের দমন কিংবা উৎখাত সম্ভব নয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় পোস্টিংপ্রাপ্ত কিংবা দেশের অভ্যন্তরে দুষ্টের দমনে নিয়োজিতদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও অন্যান্য পুরস্কার কিংবা স্বীকৃতি প্রদানের পূর্বে তাদের সম্পদের স্ফীতি যদি নির্মোহভাবে মনিটর করা হয়, তাহলে মাদক কেন আরও অনেক রকমের সামাজিক গলদ, সম্পূর্ণ উচ্ছেদ বা নিরাময় নিশ্চিত হবে।

ইয়াবা ব্যবসা করে যারা রাতারাতি দিনমজুর থেকে কোটিপতি বনে গেছেন তারা এখন ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান ও ক্রসফায়ারের ঘটনায় এখন গা-ঢাকা দিয়েছে ইয়াবা ডনরা। দুদক প্রায় ৩০০ কারবারীর অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে। প্রশাসনের সব পর্যায় থেকে মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইয়াবাসহ সকল মাদক কারবারীরা। এটা অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকে যায়, তা হলো রাজনীতি কিংবা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা দুর করার দায়িত্ব নেবে কে?

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ