মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ৫:৩০ অপরাহ্ণ, রবি, ১৪ জুন ২০

দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। তাকে গোপালঞ্জ সদর উপজেলার কেকানিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে বিকাল সাড়ে ৫টায় দাফন করা হয়।

দাফনের আগে তাকে জাতীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এর আগে বিকাল ৫টায় সুলতানশাহী মাদ্রাসায় নামাজের জানাজা অনুিষ্ঠত হয়।

জানাজায় অংশ নেয় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী ইমদাদুল হক, সাধারন সম্পাদক মাহাবুব-আলী খান, পৌর-মেয়র কাজী-লিয়াকত আলী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফার রহমান বাচ্চুসহ জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও জানাজায় প্রায় ৫শতাধিক লোক অংশ নেয়।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে গোপালগঞ্জের সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে।

সকাল থেকেই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শুভাকাঙ্খী ও স্বজনরা শহরের কলেজ রোডের তাঁর বাসভবনে এসে খোঁজ খবর নিতে আসেন। কিন্তু বাড়িতে কেউ না থাকায় সেখানে কেউ অবস্থান করেননি।

রোববার সকাল ৮টায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর গোপালগঞ্জের বাড়িতে বসবাসকারী তাঁর অত্যান্ত স্নেহধন্য দীপক সরকার (৩২) সাথে কথা হলে তিনি বলেন, রাতে মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই আমরা নির্বাক হয়ে গেছি। শনিবার সকালে ফোনে মন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়। তখন তিনি তার শারীরিক অবস্থা একটু খারাপ বলে জানান। ওই সময় তিনি আমাকে সবকিছু খেয়াল রাখার কথাও বলেন। এভাবে উনি চলে যাবেন, তা বিশ্বাস করতেও কস্ট হচ্ছে বলে কান্না বিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন।

দীপক সরকার আরও বলেন, রাতেই মন্ত্রীর ছোট ভাই শেখ মোহাম্মদ আবু দাউদসহ নিকট আত্মীয়রা ঢাকার উদ্যেশে রওনা হয়ে গেছেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সহকারি শেখ নাজমুল হক সৈকত বলেন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে ঘন্টাখানেকের মধ্যে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত একটি এ্যাম্বুলেন্স যোগে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মরদেহ গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়।

গোপালগঞ্জে পৌঁছে বাদ আসর সদর উপজেলার মধূমতি বিধৌত কেকানীয়া গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।

মৃত্যুকালে শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ দুই স্ত্রী, ৯ মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ রুহুল আমিন সময় জার্নালকে বলেন, “শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ছিলেন আওয়ামী লীগের মাঠের একজন ত্যাগী নেতা ও দুঃসময়ের কাণ্ডারী। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে সকল লোভ, লালসার উর্ধ্বে থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যু গোপালগঞ্জের রাজনীতের বিশাল শুন্যতা নেমে আসবে।”

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল বশার খায়ের বলেন, “শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে হারিয়ে আমরা হতবিহব্বল হয়ে পড়েছি। তিনি ছিলেন আমাদের নেতা ও অভিভাবক। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘসময় তার সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সুখে ও দুঃখে সবসময় পাশে পেয়েছি। পেয়েছি সহযোগিতা ও পরামর্শ। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “রাজনৈতিক কারনে ছোট বেলা থেকে শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সান্নিধ্য পেয়েছি। তিনি ছিলেন দক্ষিণবঙ্গের আওয়ামী লীগের নেতা এবং একজন গুনী মানুষ। কোটালীপাড়ার রাজনীতিতে তাঁর অবদান আমরা সারাজীবন স্মরণ করব। মহান আল্লাহ তায়ালা এ মহান নেতাকে বেহেশত্ বাসী করবেন এ দোয়া করি।”

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।