মেঘনার ভাঙন থেকে বাঁচতে কমলনগরে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

প্রকাশিতঃ ৩:০৮ অপরাহ্ণ, রবি, ৯ জুন ১৯

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলাকে রক্ষা করতে নদীতে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী।

গত ২০ বছর ধরে মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙন থেকে ৭ লক্ষ মানুষের ভিটে-বাড়ি রক্ষায় নদীতে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবিতে ‌‌‘কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চ’ এর উদ্যোগে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।

একই দাবিতে গত দু’দিন ধরে টানা বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা শেষে আজ (রোববার, ৯ জুন) দুপুরে কমলনগরের হাজির হাট বাজারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে রামগতি-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়ক দুই ঘন্টাব্যাপী অ‌বরোধ করে রাখে নদী ভাঙন কবলিত বিক্ষুব্ধ জনতা।

কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ানের সভাপতিত্বে উক্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. আবদুল মতলব, হা‌জিরহাট বাজার ব‌ণিক স‌মি‌তির সভাপ‌তি সৈয়দ আইয়ুব আলী, সেক্রেটারী ইসমাইল হো‌সেন বিপ্লব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লী‌গের শিক্ষা ও সাংস্কৃ‌তিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান দিদার, যুবলীগ নেতা মির‌াজ হো‌সেন শান্ত, ছাত্রলীগ নেতা রা‌কিব হো‌সেন লোটাস, সমাজ‌ সেবক মাহবুবুল ইসলাম দোলন, আমজাদ হো‌সেন আমু, ইসলামী আ‌ন্দোলন কেন্দ্রীয় নেতা শরীফুল ইসলাম, কমলনগর-রামগতি বাঁচাও মঞ্চের অন্যতম সংগঠক শা‌হিনুর ইসলাম সুমন, আফজল হো‌সেন অ‌নিক হাওলাদার, ইমরান হো‌সেন শা‌কিল সহ মঞ্চের অন্যান্য সংগঠকরা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালের ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমলনগর-রামগতি রক্ষায় দ্রুত বাঁধ নির্মাণের জন্য আদেশ দেন। পরে ৩৭ কিলোমিটার বাঁধের প্রকল্প অনুমোদন করলেও কর্তৃপক্ষ ১০ বছরে মাত্র ৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করেছেন। প্রথম ধাপে ৫ কিলোমিটার নির্মাণ কাজ ২০১৭ সালে শেষ হয়। রামগতি অংশের ৪ কিলোমিটার কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দিয়ে নির্মাণ করায় তা টিকে যায়। কিন্তু কমলনগর অংশের ১ কিলোমিটার কাজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দিয়ে নির্মাণ করলে তা ১ বছরে ৮ বার ভেঙে যায়।

বক্তারা বলেন, গত ২ বছরেও ২য় ধাপে বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় আসন্ন বর্ষায় ইতোমধ্যে ৩২ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ২ লক্ষ মানুষ ভিটি-বাড়ি হারিয়ে মানববেতর জীবন যাপন করছে। বাকি ৫ লক্ষ মানুষ তাদের ভিটে-বাড়ি হারানোর হুমকির মুখে, ঈদের দিনেও তাদের ভেঙে যাওয়া বাড়ি ঘর সরাতে ব্যস্ত ছিল বলে ঈদের আনন্দও মলিন হয়ে গিয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে কমলনগরের ১ কিলোমিটার বাঁধ রক্ষার্থে তৎসংলগ্ন পৌনে ১ কিলোমিটার জিও ব্যাগ ড্যাম্পিং ও আলেকজান্ডার এলাকায় পৌনে এক কিলোমিটার ব্লক বসানোর বাজেট দিলেও তা কোন কাজেই আসবে না। কেননা কমলনগরের মূল বাঁধটি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে।

তাই দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ৩২ কিলোমিটার ভাঙন এলাকার জন্য দেড় কিলোমিটারে বরাদ্দ ভাঙন ঠেকাতে কোন কাজেই আসবে না।

বক্তারা আরও দাবি করেন, একত্রে ৩২ কিলোমিটার জুড়ে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না করলে বাংলাদেশের মূল ভূখন্ড থেকে এ দু’টি উপজেলা নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে।

যদি বর্ষার আগে বাঁধের কাজ শুরু করা না যায়, তাহলে দ্রুত বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ড্যাম্পিং করে বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা ও ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনার জোর দাবি জানান তারা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ