রাষ্ট্রের সংকট ও সামাজিক মুক্তি (পর্ব-১)

প্রকাশিতঃ ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, বুধ, ৪ নভেম্বর ২০

ইমরান মাহফুজ

হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত কর্মহীন শিক্ষার্থী। করোনায় তাদের সংসারে বেড়েছে হাহাকার। এককথায় রাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সংকট চলছে ঘরে বাহিরে। বলা যায় দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে চরম এক নৈরাজ্য পরিস্থিতির বিরাজমান চেহারা।

যে চেহারার ছায়া সরাসরি প্রভাব পড়ছে তরুণদের ওপর। ফলে হতাশ তরুণরা মিশে যাচ্ছে বিভিন্ন অসামাজিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আবার কখনো সাধারণ চিন্তা ও কাজ থেকে হয়ে পড়ছে নিষ্ক্রিয়।

কারণ উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যতটা আগ্রহী, কারিগরি বা কর্মদক্ষতা বাড়ানোর শিক্ষা নিতে তরুণরা ততটা আগ্রহী নন। দ্বিতীয়ত, খুব কম ক্ষেত্রেই কাউকে উদ্যোক্তা হতে দেখা যায়। সবাই চাকরি প্রত্যাশা করেন, কেউ চাকরি সৃষ্টির কথা ভাবেন না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে চাকরির আশায় দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করা এখন সাধারণ বিষয়। সরকারের উচিত বছর বছর নতুন প্রতিষ্ঠান না করে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করে দক্ষ জনসম্পদ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে জোরালো ভূমিকা রাখা।

সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের জানিয়ে দেয়া উচিৎ—
চাকরির লোভ ত্যাগ করা উচিৎ শিক্ষিতদের। এতে তাদেরই মঙ্গল।

মনে রাখবেন, রাষ্ট্র এগিয়ে যাচ্ছে। এক সময় ১০০% মানুষ শিক্ষিত হবে। কিন্তু সবাই তো সরকারি জব পাবে না। কাউকে ঠেলা চালাতে হবে, কাউকে ধান রোপণ করতে হবে, কাউকে ইলেক্ট্রিশিয়ান হতে হবে। তো, কারা হবে এসব? এক সময় মাস্টার্স পাশ করেও আপনাকে ধান লাগাতে হবে, জুতো সেলাই করতে হবে। আরো মনে রাখা ভালো, জ্ঞানদরিদ্র সমাজে চারিত্রিক ও মানসিক; জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি করতে হলে সত্যিকারের শিক্ষা আমাদের লাভ করতে হবে৷ আর এই বাস্তবিক বোধ শিক্ষক ই রুয়ে দিবেন শিক্ষার্থীদের মনের জমিনে।

এটাই আজকের শিক্ষকদের কাছে প্রত্যাশা।

লেখক : কবি ও গবেষক; সভাপতি, জেনারেশন ফর বাংলাদেশ।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।