রোগীদের দুর্ভোগ চরমে স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

প্রকাশিতঃ ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, রবি, ১৬ জুন ১৯

নিউজ ডেস্ক: রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পোহাতে হচ্ছে স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। রোগী রাখার স্থান সংকুলানে হিমসিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। পুরুষ, মহিলা ও ডায়রিয়ার তিনটি ওয়ার্ডে ১৯ শয্যার ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী আছে ১৪0 জন। শনিবারে বিপুল সংখ্যক রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। শনিবারে ভর্তি রোগীর মধ্যে শিশুসহ ডায়রিয়ার রোগী ছিল ৩১ জন। শনিবারে ওই কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায় মেঝে, করিডোর কোথাও পা ফেলার মত যায়গা ফাঁকা ছিল না। তাছাড়া চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। ওই কমপ্লেক্সে ২১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মোট ৬ জন চিকিৎসক রয়েছেন।
স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনটি ১৯৬২ সনে নির্মিত হয়। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ওই ভবনটি অকেজো হয়ে যাওয়ায়। ছাদ থেকে পানি পড়া, ছাদের প্লাষ্টার ভেঙে পড়াসহ কংক্রিট ধসে পড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে ব্যবহার অনোপযোগী হয়ে পড়ে ৩১ শয্যার মূল ভবনটি। ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে ওই ভবনের পাশে ১৯ শয্যা বিশিষ্ট আর একটি তিন তলা ভবন নির্মান করা হয় যা ২০১২ সালে উদ্বোধন করা হয়। ১০১৪ সালে পুরাতন ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়। ১৯ শয্যার ওই ভবনেই ৫০ শয্যার কাজ চালানো হচ্ছে।
পৌনে ৩ লাখ জনসমষ্টির স্বরূপকাঠি উপজেলা সদরে অবস্থিত ওই কমপ্লেক্স হাসপাতালটিতে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নেন। পার্শবর্তী নাজিরপুর, বানারীপাড়া ও কাউখালী উপজেলার অনেক রোগী ওই কমপ্লেক্সে (হাসপাতাল) চিকিৎসা নিতে যায়। সবসময় হাসপাতালটিতে ৬০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকে। বেডে সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে রোগী রাখা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভির আহমেদ সিকদার বলেন, দীর্ঘদিন লেখা লেখির পর ২০১০ সালে ১৯ শয্যার ভবনটি নির্মান করা হলেও ৩১ শয্যার পরিত্যাক্ত মূল ভবনটির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ না দেওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ লাঘব করার কোন পথ নেই। অবশেষে সম্প্রতি পরিত্যাক্ত ওই ভবনের মূল্য নির্ধারনের কাজ শেষ হয়েছে। ভবনটি অপসারন করে আর একটি ভবন নির্মান করা জরুরী। তিনি আরো বলেন ২১ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে তিনিসহ ৬ জন চিকিৎসক রয়েছে। এর মধ্যে একজন চিকিৎসক ২৪ ঘন্টা জরুরী বিভাগে কাজ করার পরের দিন তার ডে অফ থাকে। সে কারনে চিকিৎসক থাকেন ৫ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অফিসিয়াল কাজ, সরকারী কর্মসুচি,সভা, প্রশিক্ষন নিয়ে সার্বক্ষনিক ব্যস্ত থাকতে হয়। তাছাড়া চিকিৎসকদের ছুটি-ছাটার বেপারত আছেই। সব মিলিয়ে ৩ জন চিকিৎসক নিয়মিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলো জানিয়ে বার বার তাগিদ দেওয়া সত্তেও কোন সুরাহা করা সম্ভব হচ্ছে না।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ