লক্ষ্মীপুরে পাঠ্য তালিকার বাহিরে নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি

প্রকাশিতঃ ৪:১৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০

মো: ইউসুফ: শিক্ষকদের কাছে জিম্মি শিক্ষার্থীরা। লক্ষ্মীপুরে পাঠ্য তালিকার বাহিরে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, শ্রেনীকক্ষের শিক্ষকদের নির্দেশে বিভিন্ন কোম্পানীর গাইড বই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, সম্পূন্নরুপে গাইড বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে শিক্ষক এ গাইড কিনতে উৎসাহ বা বাধ্য করছেন,তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, গাইড বইয়ের নমুনা কপি (স্যাম্পল) ও বুকলিষ্ট বিভিন্ন লাইব্রেরী ও পাবলিকেসন্স তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলার সব কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিনামূল্যে দেয়া বইয়ের বাইরে চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ১ম শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত এবং মাধ্যামিক ৬ষ্ট শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত বোর্ড বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকাশনার গাইড বই বিদ্যালয়ে সয়লাভ হয়ে গেছে।

একই বইতে প্রতিবছর মোড়ক পরিবর্তন করে নিম্মমানের বই বাজারে বিক্রি করছে। বিভিন্ন প্রকাশনার মালিক ও এজেন্টরা স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষকদের কে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে এসব নিষিদ্ধ গাইড বই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীদের কিনতে বাধ্য করছে। যদি গাইড বই না কিনে ছাত্র/ছাত্রীদেরকে মানসিক ও শাররীক নির্যাতন করেন শিক্ষকরা। তাই বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা নোট বই কিনতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার বাংগাখাঁ,মান্দারী বহুমুখি,রসুলগঞ্জ ,দালাল বাজার এনকে উচ্চ বিদ্যালয়,কামালখোলা হাইস্কুল, শহীদ স্মৃতি একাডেমী, আদর্শ সামাদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় বিজয় নগর উচ্চবিদ্যালয়, প্রতাপ গঞ্জউচ্চবিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে-হাতে বিভিন্ন প্রকাশনা গাইড বই। এইভাবে শ্রেনীকক্ষে এসব নিষিদ্ধ গাইড বই নিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপপাশি শিক্ষকদের হাতেও একই চিত্র। শুধু যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়,তা নয়। প্রতিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ছাড়াও রয়েছে মাদ্রাসা ও বেসরকারী স্কুল।

এসময় শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিটি শ্রেনীকক্ষের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত প্রকাশনার গাইড কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। গাইড নিয়ে বিদ্যালয়ে না আসলে নানা অজুহাতে মানষিক চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা। তাই বাধ্য হয়ে গাইড বই নিয়ে বিদ্যালয়ে আসছি।

এ দিকে অভিভাবকরা জানায়, সন্তানদের চাপের কারনে প্রতিটি বিষয়ে একাধিক প্রকাশনার গাইড বই কিনে নিতে হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন সন্তানদের মানষিক চাপ বাড়ছে,অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে নিচ্ছে বিভিন্ন কোম্পনারী লোকজন। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সমিতির নেতা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা প্রকাশনার লোকজনের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে এসব গাইড বই শিক্ষার্থীদের নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে গাইড বইয়ের কথা স্বীকার করে শিক্ষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবী, সৃজনশীল প্রশ্নপত্র হওয়ার কারনে মূলত গাইড বই নিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু কোন চাপ দেয়া হচ্ছেনা। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য করা হচ্ছে।

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মুনছুল আলী চৌধুরী ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেব বলছেন, সম্পূন্নরুপে গাইড বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে শিক্ষক এ গাইড কিনতে উৎসাহ বা বাধ্য করছেন,তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, যেসব শিক্ষকরা অর্থের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। যদি এসব ঘটনার প্রমান পাওয়া যায়,তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ