লাক্সারি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহতের ঘটনায় মামলা

প্রকাশিতঃ ১২:০৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১৭ ডিসেম্বর ১৯

নিউজ ডেস্ক: গাজীপুর সদর উপজেলায় কেশরিতা গ্রামে রোববার সন্ধ্যায় রওজা হাইটেকের লাক্সারি ফ্যান কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহতের ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় মামলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত রাশেদের বাবা কামাল হোসেন বাদী হয়ে সোমবার রাতে মামলাটি করেন।

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন ঢালীকে প্রধান আসামি করে জয়দেবপুর থানায় সাতজনের নামে মামলা হয়েছে।

জয়দেবপুর থানার ওসি মো. জাবেদ আলী জানান, সোমবার রাতে লাক্সারি ফ্যান কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন ঢালীকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ সাতজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলাটি করেছে নিহত শ্রমিক রাশেদের (৩৪) বাবা মো. কামাল হোসেন।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ১০ শ্রমিকের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

মরদেহ শনাক্তের পর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে সোমবার দুপুরে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ছাড়া মরদেহ নিয়ে পরে কোনো আপত্তি নিষ্পত্তিতে ১০টি মরদেহের এবং উপস্থিত স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষণ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিনুর ইসলাম ও সিআইডি ফরেনসিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুস সালামসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় দাফন ও পরিবহনের জন্য জেলা প্রশাসকের ঘোষিত জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা করে স্বজনদের কাছে প্রদান করা হয়েছে।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় পুরো হাসপাতাল এলাকায় নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

এ ছাড়া ওই অগ্নিকাণ্ডে কেশরিতা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (২০) ও জামুনা এলাকার আবদুল মোতালেবের ছেলে মো. হাসান (১৯) আহত হয়েছেন।

যাদের মরদেহ হস্তান্তর হয়েছে, তারা হলেন- গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মার্তা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে রাশেদ (৩৪), একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে শামীম (২২), গাজীপুর সদর উপজেলার কেশরিতা গ্রামের বীরবল চন্দ্র দাসের ছেলে উত্তম চন্দ্র দাস (১৮), একই উপজেলার কালনী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে ফয়সাল খান (২০), গাজীপুর মহানগরীর নোয়াগাঁও এলাকার লাল মিয়ার ছেলে পারভেজ (১৯), ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানার রাঘবপুর গ্রামের সেলিমের ছেলে তরিকুল ইসলাম (১৯), রংপুর জেলার হারাগাছ থানার কাচু বকুলতলা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে ফরিদুল (২৩), নরসিংদী জেলার বেলাব থানার চরকাশিনগর গ্রামের মাজু মিয়ার ছেলে সজল (২০), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্জারামপুর থানার মোরশেদ মিয়ার ছেলে ইউসুফ (৩০) ও দিনাজপুর জেলার কাহারোল থানার বারপাইটা গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে লিমন(১৯)।

জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশন অফিসার মো. জাকারিয়া খান জানান, তারা রোববার সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটে ওই কারখানার তিনতলা ভবনে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের স্টেশনের চার ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা আগুন নেভান। পরে তৃতীয় তলায় ১০ শ্রমিকের লাশ দেখতে পান এবং তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া কয়েকজন আহত হলেও তাদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা যায়নি। অন্যদিকে কারখানাটির কোনো ফায়ার লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. মামুন অর রশিদও।

লাক্সারি ফ্যান কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন ঢালী জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে এবং তারা যে উৎসব বোনাস ও বেতন পেতেন তাদের পোষ্যদের আজীবন তার সুবিধা প্রদান করা হবে।

তবে তিনি ফায়ার লাইসেন্স ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, সোমবার মরদেহ হস্তান্তরের সময় তার ঘোষিত ২৫ হাজার টাকা এবং মালিকের পক্ষ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা নিহতদের প্রত্যেকের স্বজনদের প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান ও গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুল ইসলাম জানান, সোমবার থেকে তাদের তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিহতদের স্বজনরা নিহতদের জামাকাপড়, হাতের ব্যাচলেট, জুতা, গলায় চেইন ইত্যাদি দিয়ে শনাক্ত করেন।

কমিটির অপর সদস্যরা হলেন– কারখানা পরিদর্শকের একজন, শিল্পপুলিশের একজন, জেলা পুলিশের একজন ও ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডিজি মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, তাদের তরফ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হোসেন ঢালীকে প্রধান আসামি করে জয়দেবপুর থানায় সাতজনের নামে মামলা হয়েছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ