লাখ লাখ বেকারের দেশে ৩ জন যোগ্য প্রার্থী পাইনি: কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ৭:১৬ অপরাহ্ণ, রবি, ২৭ অক্টোবর ১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে লাখ লাখ শিক্ষিত ছেলে মেয়ে বেকার। অথচ কৃষি মন্ত্রণালয়ে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরি দেয়ার জন্য আমরা তিন জন যোগ্য প্রার্থী পাইনি। যে কারণে আমাদেরকে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়েছিল। এটা খুবই দু:খজনক।

রোববার (২৭ অক্টোবর) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘জিএমও ক্রপস: পলিসি অ্যান্ড প্র্যাক্টিস ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নোবেল বিজয়ী রিচার্ড ডে রবার্ট।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সে পরিচালক প্রফেসর তৌফিক এম হক। সমাপনী বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কমিউনিকেশন স্কিল কম। কমিউনিকেশন নিয়ে কোনো পাঠ্যবিষয় না থাকায় তারা কমিউনিকেট করতে পারছে না। দ্যাটস ইজ এ সিরিয়াস প্রবলেম।

শিক্ষার্থীদেরকে আবেগি না হয়ে ইংরেজি ভাষা শেখার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইংলিশ ইজ নট এ ল্যাংগুয়েজ। ইংলিশ ইজ এ ইন্সট্রমেন্ট টু কমিউনিকেট। জাতি হিসেবে আমাদের যে সুযোগ ছিল তাতে আমরা অনেক ক্ষতি করেছি। ইংলিশ হচ্ছে আমাদের কমিউনিকেশন টুলস। এটা আমাদের বাচ্চাদের কিন্ডারগার্টেন থেকে শেখাতে হবে। কীভাবে প্রেজেন্টেশন দিতে হয়, স্লাইড তৈরি করতে হয়, সেগুলোর ওপর জোর দিতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ডক্টর অব ফিলোসফির (পিএইচডি) কোনো মান নেই উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এক সময় আমার ধরণা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির পিএইচডি ডিগ্রির মান অনেক ভাল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখলাম এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মান এত নিচু, যেটা কল্পনাই করা যায়নি।

এখনো জাবিতে পিএইচডির জন্য কোর্স করায় না। সারা বছর ছুটি নিয়ে চার বছর ঘুরে বেড়ায়। তারপর একটা পিএইচডি ডিগ্রি দিয়ে দেয়। এই পিএইচডির কোনো মান নেই। অথচ আমরা আমেরিকাতে পিএইচডি করেছি ল্যাংগুয়েজের উপরে, প্রেজেন্টেশনের উপরে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার অধিকাংশ ইউনিভার্সিটিতে অ্যাডুকেশন ডিপার্টমেন্ট আছে। তারা রিচার্স করে ছেলে-মেয়েদের কী কী পড়ালে ভালো হবে সেটা শেখায়। এ কারণে সব নোবেল প্রাইজ আমেরিকাতে যায়। আমাদের দেশে সেটা হয় না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স ওয়ার্ক নেই। সেখানে কোর্স ওয়ার্ক করতে হবে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে কোর্স ওয়ার্ক, সেমিস্টার ও গ্রেডিং সিস্টেম ইত্যাদি আমেরিকানরাই এনেছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনও বৃটিশ ক্যারিকুলাম অনুসরণ করা হয়। অথচ বৃটিশরাও এখন আমেরিকানদেরকে অনুসরণ করে তাদের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন করেছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকেও তাদেরকে অনুসরণ করে সাজাতে হবে।

দেশে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থাকার পরও সেরাদের তালিকায় না থাকা খুবই দুঃখজনক মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বুয়েটের শিক্ষার মান নিয়ে কোনো সন্দেহ না থাকলেও বিশ্বের সেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইবিএও খুবই ভালো করছে। কিন্তু আমরা কেন সেরাদের তালিকায় আসতে পারছি না সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।

শিক্ষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো ভালো ফ্যাকাল্টি খেলার আহ্বান জানিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) উদ্দেশ্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এখানে সম্পদশালীদের সন্তানরা পড়ালেখা করতে আসে। আপনারা যদি তাদের চাপ দেন, অবশ্যই ভালো করবে। ক্যাম্পাস বাড়ানোর মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই। কত ভালো ছেলে-মেয়ে বের হলো, কতটা স্কিল নিয়ে বের হলো সেদিকে গুরুত্ব দেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ