লালমনিরহাটে তিস্তার পানির চাপ কমেছে, বেড়েছে দুর্ভোগ

প্রকাশিতঃ ৯:১২ অপরাহ্ণ, শনি, ১১ জুলাই ২০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : জেলায় তিস্তা নদীর পানি শনিবার সকাল থেকে কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাত ১২টায় জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে তা কমে বিপদসীমার ২০ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় পানির চাপ একটু কমলেও পানিবন্দি লোকজনের দুভোর্গ কমেনি। পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গোটা জেলার কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, এবারের ৩য় দফা এ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের। ওই ইউনিয়নের তালেব মোড় এলাকায় একটি বাঁধ ধসে যাচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় লোকজন বালুর বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টাও করছে।

বাঁধটি ভেঙে গেলে তিস্তা নদীর পানি হাতীবান্ধা শহরে ঢুকে পড়বে। ফলে ওই বাঁধটি সংস্কার করা জরুরি হলেও এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনের কোনো কার্যক্রম চোখ পড়ছে না বলে অভিযোগ করেন গড্ডিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান।

এদিকে পানিবন্দি লোকজনের মাঝে এখনো ত্রাণ বা কোনো খাবার বিতরণ করা হয়নি। তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু পানিবন্দি পরিবার গড্ডিমারী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন কলেজে আশ্রয় নিয়েছেন। ওই কলেজের অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল তাদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। গত রাতে পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করেছেন হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ইউএনও ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতির খবর নেয়া হচ্ছে। তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, এবারের বন্যা একটু স্থায়ী হতে পারে। ফলে কয়েক দিন তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।