শিখা রানির এগারো বছরের শেষ সম্ভলটুকুন কেঁড়ে নিল!

প্রকাশিতঃ ৯:২৩ অপরাহ্ণ, শুক্র, ২৯ মে ২০

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট : অন্যের বাড়িতে ঝিঁ’র কাজ করতেন শিখা রানি। ১১ বছর ধরে জীবনের সাথে সংগ্রাম করে স্বামীর বসত ভিটাতেই মাথাগোঁজার জন্য করেছিলেন ঘর। দিয়েছেন ২ মেয়েকে বিয়ে। বড় ছেলে বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এমএস সি প্রথম বর্ষের ছাত্র, ছোট ছেলে নয়ন বিশ্বাস নবম শ্রেনীতে পড়ছে। করোনার এ সময়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় খাবার জুটছে। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো অন্য জায়গায়। মুহূর্তেই আকস্মিক ঝড়ে চুরমার করে দিল মাথা গোঁজার শেষ সম্ভলটুকুন। হায় বিধাতা!

শুক্রবার এমন একটি হতদরিদ্র পরিবারের দেখা মিলে জেলার মোরেলগঞ্জে জিউধরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামে গিয়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একদিকে করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া অন্যদিকে বুধবার রাতে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে শেষ সম্ভলটুকু মাথা গোজার ঠাই বসতঘরটি কেড়ে নিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন শিখা রানি বিশ্বাস ও তার পরিবার।

গৃহহীন শিখা রানির সাথে কথা বলতে গেলে তিনি শুধু মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। ভাষা যেন কেউ কেড়ে নিয়েছে তার। কি করুণ দৃশ্য। কিছুক্ষণ পর পর কাপড়ের আচঁল দিয়ে চোঁখ মুছছেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে জানান, ১১ বছর পূর্বে স্বামী সুবোধ চন্দ্র বিশ্বাস মৃত্যু-বরণ করেন। ছোট ছোট ৪ ছেলে মেয়ে রেখে যান। সম্ভল শুধু ৬ শতক বসত ভিটা।

তিনি আরও জানান, অন্যের বাড়িতে কাজ করাসহ রাস্তার কাজেও নিয়োজিত ছিলেন। এভাবেই ১১ বছর হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ঘর করেন। ২ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন আর ২ ছেলেকে পড়া লেখা করাচ্ছেন। ঝড়ের কারণে তার মাথা গোঁজার ঠাই আর রইল না। দুইদিন ধরে খোলা আকাশের নিচেই বাস করতে হচ্ছে।

শিখা রানি বলেন, বড় ছেলে বিশ্বজিৎ বিশ্বাস খুলনা বিএল কলেজে এমএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র। সামনে ছেলের পরীক্ষা। ঘরে নেই খাবার বই কেনার চিন্তাই করছেন না আপাতত তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান সময় জার্নালকে বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বর কেহই তাকে অবহিত করেননি। ওই পরিবারের খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।