শিগগিরই আমরা ভোলা-বরিশাল ব্রিজ দেখতে পাব: তোফায়েল

প্রকাশিতঃ ১১:৩৫ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ৫ ডিসেম্বর ১৯

নিউজ ডেস্ক: সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভোলা-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে খুব শিগগিরই আমরা ভোলা-বরিশাল ব্রিজ দেখতে পাব। সেদিন বেশি দূরে নয়। তখন আর ভোলা যে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ থাকবে না। মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে।

তিনি বলেন, এর পর ভোলা-লক্ষ্মীপুর ব্রিজ হবে। এতে চট্টগ্রাম থেকে পায়রা ও মোংলা বন্দর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। সে লক্ষ্য নিয়েই প্রধানমন্ত্রী কাজ করে চলেছেন। আমরা দোয়া করি আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখুক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা জেলা প্রশাসক হল রুমে ভোলা-বরিশাল ব্রিজ নির্মাণ প্রস্তাবনার অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভোলা-বরিশাল ব্রিজ হলে ভোলা হবে একটি শিল্পায়নের যায়গা। এখানে পর্যাপ্ত গ্যাস আছে। এখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। এক কথায় ভোলা হবে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী জেলা।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জীবনে অনেক জেল-জুলুম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন। বার বার মৃত্যুর কাছ থেকে তিনি ফিরে এসেছেন। ২০০৪ সালে হাওয়া ভবন থেকে নির্দেশ দিয়ে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ওই মামলায় জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর তার দুই কন্যা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। আমরা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার হাতে আওয়ামী লীগের পতাকা তুলে দিয়েছি। সে পতাকা হাতে নিয়ে তিনি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ সব বিচার শেষ করে দেশকে বিশ্বে মর্যাদার আসনে আসীন করেছেন। তার নেতৃত্বেই ভোলা-বরিশাল ব্রিজ হবে। এবং একদিন ভোলা-লক্ষ্মীপুর ব্রিজও নির্মাণ করা হবে।

সভায় সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ইতিমধ্যে ভোলা-বরিশাল ব্রিজের ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তার চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিবে কমিটি। তার পর আমরা সেটি পর্যালোচনা করে দেখবো।

২০২৫ সালের মধ্যে ভোলা-বরিশাল ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে জার্মানি ও চাইনিজসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি আবেদন জমা দিয়েছে। সাড়ে ৯ কিলোটির দৈর্ঘের এ ব্রিজটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আঁড়িয়াল খাঁ-কালাবদর নদীর ওপর সাড়ে তিন কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়া-ইলিশা নদীর উপর দেড় কিলোমিটার মোট দুইটি ব্রিজ এবং বাকী সাড়ে চার কিলোমিটার এ্যাপ্রোস সড়ক হবে।

ব্রিজের একটি স্প্যান থেকে অন্যটির দুরুত্ব হবে ২০০ মিটার। নদীর ১২০ মিটার গভীরে গিয়ে পিলার বসাতে হবে। ১২০ মিটার গভীরে গিয়ে কাজ করাটা কষ্টের, তবে একটি করা সম্ভব। কেন না পদ্মা ব্রিজ করতে গিয়ে আমরা ১২৮ মিটার গভীরে গিয়েও কাজ করতে হয়েছে।

মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ২০৪১ সালের আমাদের যে রূপকল্প আছে তাতেও ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর ব্রিজের কথা উল্লেখ আছে। ইতিমধ্যে ভোলা-লক্ষ্মীপুর ব্রিজের ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিটিও শুরু করা হয়েছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা-৩ (লালামোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাহাবুদ্দিন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুর রহমান পাটওয়ারী, ভোলা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ