শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ

প্রকাশিতঃ ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ, বৃহঃ, ১৬ জুলাই ২০

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস আজ। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী পরিস্থিতে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেফতার করে।

ওই বছর ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এর পর কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়।

সেদিন গভীর রাতে শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধাসদন ঘিরে ফেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য। খুব সকালে তাকে গ্রেফতার করে সুধাসদন থেকে গাড়িতে তোলা হয়।

গ্রেফতার হওয়ার আগে শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি বলেন, “আমাকে সরকার গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় জানি না। আমি আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যেই সারাজীবন সংগ্রাম করেছি। জীবনে কোনও অন্যায় করিনি। তারপরও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও আপনারা দেশবাসীর ওপর আমার ভরসা।

আমার প্রিয় দেশবাসী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে আবেদন কখনও মনোবল হারাবেন না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। যে যেভাবে আছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন। মাথা নত করবেন না। সত্যের জয় হবেই। আমি আছি আপনাদের সঙ্গে, আমৃত্যু থাকব। আমার ভাগ্যে যা-ই ঘটুক না কেন আপনারা বাংলার জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যান। জয় জনগণের হবেই।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়বই। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবই।”

গ্রেফতারের পর বেশ কয়েকটি দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয় এবং দীর্ঘ ১১ মাস সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে বন্দি রাখা হয় বঙ্গবন্ধুকন্যাকে।
পরে জরুরি অবস্থার মধ্যেই দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে। এ সময় তিনি কারাগারে অসুস্থও হয়ে পড়েন।

আন্দোলের মুখে এক পর্যায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের ১১ জুন ৮ সপ্তাহের জামিনে মুক্তি পান তিনি। মুক্তি পেয়েই পর দিন উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে যান শেখ হাসিনা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই তার অস্থায়ী জামিনের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর দেশে ফিরলে স্থায়ী জামিন দেওয়া হয় তাকে। পরে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগসহ মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গও সহযোগি সংগঠন দিনটি ‘শেখ হাসিনা’র কারাবন্দি দিবস’ হিসাবে পালন করে থাকে। কৃষক লীগ দিনটি ‘গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস’ নামে পালন করে।

দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন এবং বিভিন্ন সংগঠন স্বাস্থ্য বিধি মেনে আলোচনা সভা ও সমাবেশসহ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এ উপলক্ষে আগামীকাল সকাল ১১ টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ২য় তলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

এদিকে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে বেলা ১২ টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

এছাড়াও কৃষক লীগ ‘গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস’ পালন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ৪র্থ তলায় এক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।