সংকটকালীন শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে সময় জার্নাল

প্রকাশিতঃ ১০:৩১ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ৩০ এপ্রিল ২০

সময় জার্নাল প্রতিবেদক: মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লাশের মিছিল। ভেঙে পড়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপনা। লকডাউনে গৃহবন্দি হয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মক্ষম মানুষ। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও বাদ যায়নি এর ভয়াল থাবা থেকে। মহামারীর এই সময়ে আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময় জার্নাল। মেধাবী ও দারিদ্র্য শিক্ষার্থীদের নাম পরিচয় গোপন রেখে দিচ্ছে ‘সংকটকালীন শিক্ষাবৃত্তি’।

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেসব শিক্ষার্থী টিউশনি অথবা পার্ট টাইম চাকরি করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকে সহযোগিতা করতেন, লকডাউনের কারণে তারা এখন গৃহবন্দি। ফলে উপার্জন বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। আর্থিক সংকটে থাকা এসব শিক্ষার্থীর পক্ষে ভীড় ঠেলে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিজের প্রয়োজনের কথা অন্যের কাছে বলতেও লজ্জা পাচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় তাদের জন্য ‘সংকটকালীন শিক্ষাবৃত্তি’র উদ্যোগ নেয় সময় জার্নাল। সময় জার্নালের এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। শিক্ষাবৃত্তি পেতে ইতোমধ্যে কয়েক শত শিক্ষার্থী নির্ধারিত শর্ত পুরণ করে আবেদন করেছেন। তাদের মধ্য থেকে প্রথম ধাপে শতাধিক শিক্ষার্থীর বিকাশ নাম্বারে শিক্ষাবৃত্তির টাকা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বিত্তশালীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তায় বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে এই বৃত্তি দেওয়া হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আত্মসম্মানের কথা বিবেচনা করে তাদের নাম পরিচয় গোপন রেখেছে সময় জার্নাল কর্তৃপক্ষ।

সময় জার্নালের শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি টিউশনি করে নিজের খরচের পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করতাম। করোনার এ পরিস্থিতির কারণে টিউশনি না থাকায় খুবই সংকটে দিন পার করছি। লজ্জায় কারো কাছে বলতেও পারছি না। কিন্তু সময় জার্নাল ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রেখে যেভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এভাবে সব সময় আমাদের পাশে থেকে সামনে এগিয়ে যাক এই প্রত্যাশা করছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, করোনায় লকডাউনের কারণে হঠাৎ করে টিউশনি বন্ধ হয়ে যায়। বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সময় জার্নালের শিক্ষাবৃত্তির কথা জানতে পেরে আবেদন করি। তিন দিন পরে দেখি একটি বিকাশ নাম্বার থেকে টাকা এসেছে। পরে জানতে পারলাম এটাই সেই শিক্ষাবৃত্তির টাকা। এতো সহজে দ্রুত শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া যায় সেটা আগে কখনো ভাবিনি। সংকটকালে এই সহায়তায় কিছুটা দুশ্চিন্তা মুক্ত হলাম। এভাবে সবাই এগিয়ে আসলে আমার মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীর উপকার হতো।

শিক্ষাবৃত্তির পরিচালক কবি ইমরান মাহফুজ বলেন, করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যায়। মানবিক বিবেচনায় এই কঠিন মুহুর্তে তাদের পাশে দাঁড়াতে আমরা ‘সংকটকালীন শিক্ষাবৃত্তি’র উদ্যোগ নিই। এতে আমরা সারাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। কারণ প্রথমত, এটি ত্রাণ সাহায্যের মতো ছিলো না। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মানসূচক সম্বোধন করে নামকরণ করেছি। দ্বিতীয়ত, কলেজ মাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা না ভেবে সবাইকে শিক্ষার্থী হিসেবে সমান গুরুত্ব দিয়েছি। তৃতীয়ত, ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক কার্যক্রমের বাইরে আমাদের এই উদ্যোগ ছিলো দেশব্যাপী। যার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে সম্মানিত বোধ করে আমাদের এই শিক্ষাবৃত্তি গ্রহণে আগ্রহী হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে, আপনাদের শিক্ষার্থীদের একটু খোঁজ খবর নিন। আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।

শিক্ষাবৃত্তির আরেক পরিচালক সাংবাদিক ইয়াসির আরাফাত বলেন, আমরা ইতোমধ্যে শতাধিক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছি। আরও শতাধিক বৃত্তিপ্রার্থীর তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে। আশাকরি শীঘ্রই তাদেরকেও শিক্ষাবৃত্তি দিতে পারবো। এছাড়াও প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থী তাদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে আমরা আরও বৃহৎ পরিসরে অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারবো। দেশের এই ক্রান্তিকালে বিত্তবানদের একটু সাহায্য ও সহযোগিতায় অসহায় শিক্ষার্থীরা হয়তো এই দুর্যোগ সামলে নিতে পারবে।

সময় জার্নাল কর্তৃক ‘সংকটকালীন শিক্ষবৃত্তি’ প্রদানের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- যে সব শিক্ষার্থীর পিতা অথবা উপার্জনক্ষম অভিভাবক জীবিত নেই এবং আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল, যেসব শিক্ষার্থীর বাবা-মা কর্মহীন, যে সব শিক্ষার্থীর বাবা-মার উপার্জন অপ্রতুল, যেসব শিক্ষার্থী প্রতিবন্ধী ও পরিবার অস্বচ্ছল।

সংকটকালীন শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমে আপনিও অংশগ্রহন করতে পারেন। সহযোগিতা করতে চাইলে আপনার অনুদান পাঠিয়ে দিন

বিকাশ: ০১৭১৮-৪৮৩৬৫৮, ০১৯১৩-৩৭৩৫৮১।

ব্যাংক একাউন্ট
Somoyjournal, ০০০১০২১০০১৮২৫৫, যমুনা ব্যাংক, মহাখালী শাখা।
Yeasir Arafat, ০১৭০২৭১০৫০০৩১, আইএফআইসি ব্যাংক, কারওয়ান বাজার শাখা।

প্রয়োজনে যোগাযোগ: ০১৭১৮-৪৮৩৬৫৮ (ইয়াসির আরাফাত), ০১৭৬৫-৩০৭০৭০ (ইমরান মাহফুজ)।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ