সংকটে দেশ: বিপর্যস্ত মানবতা

প্রকাশিতঃ ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ, বৃহঃ, ২ এপ্রিল ২০

মেহেদী হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী :

আকাশ,বাতাস আর পাখি, তরু-লতা
এক সাথে কাঁদে আজ, কাঁদে মানবতা
তবে আজ বেঁচে রই কিসের আশায়
কি করে এমন হয় আসে না মাথায়।
মানুষের অবয়বে তাণ্ডব পশুর
মানুষই হত্যা করে মানুষের কলি
নিষ্পাপ শিশু তাই হিংসার বলি
মানুষ – মানুষ নেই হয়েছে অসুর।

কবি সম্ভবত এই অসুস্থ্য মানবতার কথা চিন্তা করেই এভাবে জানান দিয়েছিলেন তার অনুভূতি।
মানবতা হচ্ছে…অচেনা কোন ব্যক্তি বা মানব সম্প্রদায়কে সাহায্য করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করাকে বুঝায়। কিন্তু মানবতা আজ বড় অসহায়। অর্থের প্রতি সীমাহীন মোহ থেকেই হারিয়ে আজ মানুষ নামের যন্ত্রগুলো বড় অপরিচিত হয়ে উঠছে! হারিয়ে যাচ্ছে আন্তরিক মানবতার সমৃদ্ধ ইতিহাস। হারিয়ে না গেলে হয়তো অসৎ ব্যবসায়ীরা জনগনকে ঠকাতে পারতো না। পূঁজিবাদীরা পারতো না প্রয়োজনের অধিক সম্পদ গোগ্রাসে গিলতে। মানবতা যদি ভিতরে থাকতো তাহলে ২ টাকার পণ্য ৫ টাকা বিক্রয় করার আগে হাজারবার ভাবতো !

পরিসংখ্যান বলছে- আমাদের দেশের ২৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে, একইসাথে ১৩শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে। তারা হয়তো দিনে আনে দিনে খায় তাদের কাছে যদি একটি ৫০টাকার মাস্ক ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়, যদি ৭০ টাকার হ্যান্ড স্যানেটাইজার হয় ২০০ টাকা তবে তারা কি এই এই সেবা গ্রহন করতে পারবে ? একটি পন্য নেয়ার আগে দুই থেকে তিনবার ভাববে এই ১০০ টাকা দিয়ে হয়তো আমি দুই বেলা আরো ভালো করে পরিবারসহ খেতে পারবো। তখন সে মাস্ক ছাড়াই চলাফেরা করবে। পরস্থিতি তাকে বাধ্য করবে৷ তাদের মধ্যে যদি একজনের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে ভাবুন পুরো পরিবার টাই শেষ হয়ে যাবে। আসুন এরকম বিবেকহীন কাজ না করি, মানবতা মনের ভিতর নিয়ে আসি এবং মাস্ক সহ সকল পণ্য নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করি।

মানবতা যে সবার ঊর্ধ্বে আবারো প্রমাণ করে গেলেন ইতালির একজন বৃদ্ধ লোক। এই মহামানবদের গল্প সবার জানা দরকার।

ইতালির প্রিস্ট জসেপে বেরার ডেলি যখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন, কিন্তু তিনি বুঝতে পারলেন এই যুদ্ধে তিনি জিতবেন না। তাই ডাক্তারদের তিনি অনুরোধ করলেন তার রেস্পেরেটরি সাপোর্ট যেন খুলে নেয়া হয়, কারণ তার পাশে তিনি দেখেছিলেন অল্প বয়সের একজন যুবক যাকে তিনি চেনেন না, জানেন না, যার বাঁচার সম্ভাবনা তার চেয়ে বেশি কিন্তু রেস্পেরেটরির স্বল্পতার জন্য তিনি হয়তো মারা যাবেন!

জোসেপের অনুরোধেই তার রেস্পেরেটরি সাপোর্ট খুলে ওই যুবককে পড়িয়ে দেয়া হয় এবং জসেপেও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আমাদের সবার জানা ও বুঝার দরকার আমরা এই দুর্যোগের মুহূর্তে একেকজন বিবেকহীন ও অবুঝ না হয়ে যায়! বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ PPE এর অভাবে করোনাতে আক্রান্ত হচ্ছে । তাই নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি জিনিসও না নেই। কারণ কালকে যে আমি বা আপনি বাঁচব তার ভরসা নেই। তাই আসুন আজ আমরা শপথ করি, আমরা সবাই সবার প্রতি সচেতন ও মানবিক হই।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ