সন্তানকে অধিক শাসনের কুফল

প্রকাশিতঃ ১:৩৮ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ৫ ডিসেম্বর ১৯

কামাল উদ্দিন :

অনেক বাবা-মা’ই সন্তানকে কঠিন শাসনে রাখতে গিয়ে কিংবা রাগের বশে মারধর করেন, এতে না হয় তাদের কোন উপকার, না হয় সন্তানের সঠিক শিক্ষা। মাঝখান থেকে সন্তানের আত্মবিশ্বাসে দেখা দেয় ঘটতি। বড় হয় দুর্বল আর ভীরু হয়ে। ফলত যে কোন কাজ করতে গেলেই দেখা দেয় দ্বিধা-দ্বন্দ আর অদক্ষতা।

সন্তানকে সারাক্ষণই চিন্তায় থাকতে হয় ভুল করলে মার খাওয়া নিয়ে আর এজন্য কাজের সময় সঠিক ভাবে মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এখানে, কাজ বলতে সেটা যে কোন কিছু হতে পারে। হতে পারে হোম ওয়ার্ক, দোকান থেকে কোন কিছু কিনে আনা কিংবা ঘরের জিনিসপত্র গোছগাছ করা।

নিয়মিত মারধর আর সারাক্ষণ হুমকি ধামকি সন্তান মানুষ করার ক্ষেত্রে কোন কাজেই আসে না।

আমি একটা হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতাম। এক দিন স্কুলের অফিস কক্ষে নানান হিসাব পত্র নিয়ে বসেছিলাম। আমার এক ছাত্রের মা অফিস কক্ষে আসল বেতন দেয়ার জন্য। আমার কলিগের কাছে বেতনের রসিদ নিচ্ছিলেন আর উনার ছেলের লেখাপড়ার বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন।

“এই পুলারে লইয়া কি করি ম্যাডাম কন, পড়াশুনা করতে চায় না, এত মারি তবুও ঠিক মত পড়ালেখা করে না। ”

আমার কলিগ বলছিলেন, “এত মারধর করেন কি কারণে, মাইরাই যদি পড়ান যাইত, তাইলে সব গার্জিয়েন নিজের ছেলে-মেয়েদের পিটাইয়া এত দিনে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানাইয়া ফালাইত। ”

– কালকা মারতে মারতে হাত ব্যাথা কইরা ফালাইছি। এর পর স্কেল দিয়া কতক্ষন পিডাইছি।

মহিলার কথা শুনে আমার লেখা থামালাম আর বললাম, দেখেন আপা আদব-কায়দা আর পড়াশুনা করানোর জন্য আমরা শিক্ষকরাই তো আছি। আপনারা কি কারণে মারধোর করতে যান। আপনারা দ্যাখবেন, ঠিক মত স্কুলে আসে যায় কিনা, কাদের সাথে চলাফেরা করে, সময় মত খাওয়া দাওয়া করে কিনা। মারপিট করে যা করবেন, তা হল শাসনের প্রতি ভয়-ডরটা উঠাই ফেলবেন। দ্যাখবেন, এক সময় আপনের আর কোন কথাই শুনব না।

– স্যার, আমি ও কই আর মারমু না, কিন্তু নিজের রাগ থামাইতে পারি না। আরেক বাড়ির পুলায় সারাডা দিন পড়ে, খালি আমার পুলাডায়ই পড়তে চায় না।

পাশ থেকে ম্যাডাম বলছেন, এই কারণেই আপনার ছেলেকে কোন কিছু লেখতে দিলে খাতা দেখা শেষে বলে, ম্যাডাম very very good দিয়া দ্যান, very very good দিয়া দ্যান। আমি জিজ্ঞেস করছি এত very good দিয়া কি করবা, আপনার ছেলে বলছে, আম্মায় খাতা চেক করে, খাতার লেখা ভাল না হইলে আম্মায় ধমকা-ধমকি শুরু করে।

ছাত্রটার জন্য বুকটা হাহাকার করে উঠল, ধরা যাক আমার সেই ছাত্রটার নাম “রুবেল”। এই ধরনের রুবেল কিন্তু একটা না, বাংলাদেশের অসংখ্য রুবেল প্রতিনিয়ত বাবা-মা’রা হাতে পড়াশুনার জন্য, চলা-ফেরার জন্য, প্রতিবেশির সন্তানের সাথে তুলনার জন্য প্রতিদিন মার খেয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেশির যে সন্তানটার সাথে তুলনা দেয়া হচ্ছে, সে যে খুব ভাল আছে তাও কিন্তু না, সেও হয়ত নিতান্তই গোবেচারা, সুকঠিন চাপে চুপসে থাকা ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই।

এভাবে কার কি লাভ হল? গায়ের রাগ না হয় মিটল; সন্তান কি আদৌ পড়াশুনায় বা কাজে-কর্মে দক্ষ এবং আগ্রহী হয়ে উঠছে?

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ