সপ্তাহধরে পথ কুকুরের কাছে খাবার পৌঁছাচ্ছে দেবকান্ত

প্রকাশিতঃ ৪:০৭ অপরাহ্ণ, শুক্র, ১৭ এপ্রিল ২০

মো: মঈন উদ্দিন রায়হান, ময়মনসিংহ : বিশ্বজুড়ে করোনা ত্রাস। পৃথিবীর প্রায় সবদেশেই করোনা বসিয়েছে তার থাবা। করোনার মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। ফলে করোনার প্রাদুর্ভাবে এই সময় সব শ্রেণিপেশার মানুষ নিজের ও পরিবারের প্রাণ বাঁচাতে ঘরে অবস্থান করছেন। এই সময়টাতে মানুষের পাশাপাশি সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছে কথা বলতে না পারা বোবা প্রাণীগুলো। রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো শত শত কুকুর-বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর দিন কাটছে চরম খাদ্য সঙ্কটে। ফলে অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটছে রাস্তায় থাকা প্রাণীদের। বিশেষ করে পথ কুকুরদের।

ঠিক এ মুহূর্তে রাস্তায় থাকা অভুক্ত প্রাণী তথা বিশেষ করে কুকুরদের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন ময়মনসিংহের এক প্রাণী প্রেমিক তরুণ দেবকান্ত বনিক রাজন। ইতোমধ্যে সে তার সাধ্যমত খাবার নিয়ে বোবা প্রাণীগুলোকে বাঁচাতে নিজেই রাস্তায় নেমেছে।

ময়মনসিংহ নগরীর প্রায় ৩ সপ্তাহ যাবত অচল অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ফলে নগরীর খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ অন্যদিকে ডাস্টবিনেও তেমন একটা ময়লা, আবর্জনা ফেলছে না কেউ। ফলে অনেকটা অনাহারেই দিন কাটছে কুকুরগুলোর। প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই প্রাণী প্রেমিক তরুণ দেবকান্ত বনিক রাজন ব্যাগ ভরে খাবার নিয়ে রাতের বেলায় নগরীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে পথে থাকা অভুক্ত কুকুরদের খাবারের ব্যবস্থা করছে।

(এমনকি করোনা পরিস্থিতিতে সন্ধ্যা ৬ টার পর বাসার বাইরে বের হলে আইনগত ব্যবস্থা জারির পর একদিন খোদ প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী স. ম. রেজাউল করিমের মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে রাস্তার কুকুরদের খাওয়ানোর অনুমতি চাইলে, মন্ত্রী সাহেব পাল্টা ম্যাসেজে ওকে বার্তা পাঠায়। তাই নিজের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করে ধারাবাহিকভাবে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।)

প্রাণী প্রেমিক দেবকান্ত বনিক রাজন সময় জার্নালকে জানান, ‘এক সময় আমি বাসায় ৭টি বিড়াল পুষতাম। আমি বুঝি বোবা প্রাণীগুলো খিদে পেলে কি করে বা কি করতে চায়। আমি নিয়মিত ওদের খাবারের ব্যাপারে সচেতন থাকতাম এবং ওদের জন্যে আলাদা বাজার করে আমার বাসায় আমার মা আলাদা রান্না করে দিতেন।’

প্রাণী প্রেমিক দেবকান্ত আরও জানান, ‘এখন এই করোনার পরিস্থিতির কারণে রাস্তায় থাকা কুকুর বিড়ালরা ক্ষুধার যন্ত্রণায় যে কষ্টটা পাচ্ছে তা আমাকে অনেক চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। তাই রাস্তায় অভুক্ত থাকা এই প্রাণীদের আমার সাধ্যমত খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে ৭ দিন নগরীর বড় বাজার, ছোট বাজার, স্বদেশী বাজার, দুর্গা বাড়ি, শিব বাড়ি, গাঙিনারপাড়়সহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ঘুরে ঘুরে রাস্তায় থাকা কুকুরগুলোকে মাছ বা মাংসের ঝোল দিয়ে ভাত বা মুরগী দিয়ে খিচুড়ি, বিস্কুট ও পাউরুটিসহ অন্যান্য খাবার সামগ্রী বিতরণ করছি।’

দেবকান্ত বনিক রাজন বলেন, ‘আমার এই কাজটি করার উদ্দেশ্যে হলো একটি কুকুর বাঁচলে, একটি প্রাণ বাঁচবে। তাই আমার নিজ এলাকা ছাড়াও প্রাণীদের নিয়ে কাজ করে ঢাকার ১টি সংগঠন PAWS “পিপলস ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন” এবং ব্যক্তিগতভাবে মডেল ও অভিনেত্রী নাইলা নাঈম আপুকে কিছু টাকা পাঠিয়েছি প্রাণীদের খাবারের উদ্দেশ্য। নাইলা নাঈম আপু প্রতিদিন রাস্তায় খাবার নিয়ে যায় এই প্রাণীদের জন্যে। প্রতিদিনের যে খাবার দেয়া উৎসাহ বা অনুপ্রেরণা সেটা এই নাইলা নাঈম আপুর কাছ থেকেই নেয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখন চিন্তা করে দেখলাম ঢাকায় তো অনেক সংগঠন রয়েছে কিন্তু ময়মনসিংহ নগরীতে এমন কোন সংগঠন নেই যে এই অসহায় প্রাণীগুলোকে সাহায্য করার। তখন আমি একা নিজ থেকেই উদ্যোগ নিলাম আমার শহরে কিছু করা দরকার । তখন থেকেই নেমে পড়লাম আমার বাসার আশে পাশে এলাকার ওদের খাবার দেবার উদ্দেশ্যে। আর আমি অন্যদের কাছে অনুরোধ করবো সবাই যদি যার যার নিজ এলাকার অন্তত কয়েকটা প্রাণীদের (কুকুর) খাবারের দায়িত্ব নেয় তাহলে এলাকার বোবা প্রাণীরা আর না খেয়ে থাকবে না । ওদেরও অধিকার আছে এই পৃথিবীতে বাঁচার!’ আর সব শেষে একটা কথা বলি যে কোন পশু বা পোষা প্রাণী থেকে কোভিড-১৯ ছড়ায় না, যা অনেকের ভুল ধারণা ! আপনারা কখনো এটা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিবেন না। অনুরোধ রইলো সবার কাছে।

সময় জার্নাল/আরইউটি/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ