সমতার দৃষ্টিভঙ্গি এখন সময়ের দাবি: শিরিনা বিথী

প্রকাশিতঃ ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, রবি, ৮ মার্চ ২০

শিরিনা বিথী। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এর আগে সাভার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগে ৬ বছর শিক্ষকতা করেন তিনি। এছাড়া স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তিনি। ২০০২ সালে জাতীয় পর্যায়ে বাংলা কবিতা আবৃত্তি করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। এরপর একটি একক এবং দুটি দ্বৈত কবিতার এলবামে কাজ করেন তিনি। সফল এই নারী বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বেশ কিছু বেসরকারি টেলিভিশনে আবৃত্তি, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা এবং সংবাদ পাঠক হিসেবে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। গত কয়েক বছর ধরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এশিয়ান টেলিভিশনে জানা উচিত নামে একটি সাপ্তাহিক মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করছেন তিনি। বর্তমানে দ্যা এন্টি ড্রাগস ফেডারেশন অব বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। সামনের দিনগুলোতে সমাজের জন্য আরও ভাল কিছু কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি। 

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সময় জার্নাল’র মুখোমুখি হন শিরিনা বিথী। কথা বলেন সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে। সমস্যাগুলো চিন্হিত করে বাতলে দেন সমাধানের পথও। একদিন এদেশের নারীরা বিশ্বে নেতৃত্ব দিবে এমন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহ্ আলম।

ময় জার্নাল: যে বৈষম্য দূর করার উদ্দেশ্যে নারী দিবস পালন করা হয় তা বাস্তবে কতটুকু সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন?

শিরিনা বিথী: প্রতি বছরের ৮ মার্চ দিনটিকে বিশ্বে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার’। একজন নারী হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল নারীর প্রতি শুভকামনা। ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির যে ধারা চলছে তা আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি বেগবান হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের নারী সমাজ দীর্ঘ সংগ্রামের ভিতর দিয়ে ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে এসেছে এবং আলোর পথ দেখতে পেয়েছে। তবে প্রতি মূহুর্তে প্রতিবন্ধকতার আগ্রাসন থেকে মুক্ত হতে পারেনি। এই ভাবছি অমাবস্যা বুঝি দূরীভূত হলো জোসনা আলো ছড়ালো।

সময় জার্নাল: নারী দিবস পালনের মূল লক্ষ্য কি হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

শিরিনা বিথী: নারীর প্রতি সামাজের উদার দৃষ্টিভঙ্গি এখনো ভীষণ অভাব। নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক অধিকারগুলো বাস্তবায়ন যেন দূরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পুরুষের সমান অধিকার থাকা সত্ত্বেও নারীরা অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হচ্ছেন। নারীরা সহিংস অপরাধের শিকার হলে তার যথাযথ প্রতিকার পাওয়ার আইনি বিধান থাকা সত্ত্বেও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।

সময় জার্নাল: পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী দিবস পালন কতটুকু কার্যকর বলে মনে করেন?

শিরিনা বিথী: ‘নারী পুরুষ সমান নাগরিক সমান মানুষ’ মানব সভ্যতার এই চরম সত্যটিকে উপলব্ধী করাটা বোধ করি সমতা ও উন্নয়নের। সকলকে সমান ভাবলেই হতে পারে চলার পথ প্রশস্ত। খুলে যেতে পারে সমাজ বদলের জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবনের জানালা। আর সেজন্য দরকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির জাগরণ। যেটি আমাদের সমাজকে সব ধরণের অন্ধত্ব, অনাচার ও কূপমণ্ডুকতা থেকে মুক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’ জনগোষ্ঠীর সেই অর্ধেক অংশকে পেছনে ফেলে রেখে আমরা কি কখনো সামনে এগিয়ে যেতে পারি?

শিরিনা বিথী

সময় জার্নাল: বর্তমানে যেভাবে নারী দিবস পালন করা হয়ে থাকে এভাবে নারীদের মুক্তি কি সম্ভব?

শিরিনা বিথী: নারী মুক্তি কখনোই শুধুমাত্র বিশেষ দিনে সভা, সেমিনার, টক শো করে সম্ভব নয়। সব সময়ই নারীকে সমান মর্যাদা দিয়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সকল কাজে অংশগ্রহণ করবার সুযোগ করে দিতে হবে। সেই সাথে এখন সব থেকে জরুরি যে বিষয় সেটি হলো নারীর নিরাপত্তা। আমি বোধ করি নারীরা এই জায়গাটিতে বেশি হুমকির মধ্যে রয়েছেন।

সময় জার্নাল: নারী দিবসে বিশ্বের নারীদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

শিরিনা বিথী: আপনারা যারা নারী আপনি আপনার অধিকারটুকু নিজে জানুন এবং সেটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝে নিন। অধিকার আদায় করতে শিখুন। কেউ নিজে এসে আপনার প্রাপ্যতা বুঝিয়ে দিয়ে যাবে না। আর সেজন্য বেশি দরকার নিজেকে যোগ্য করে তোলা।

সময় জার্নাল: একজন সফল নারী হিসেবে আপনার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা কি?

শিরিনা বিথী: জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যদি সুস্থ রাখেন কাজের ভেতর দিয়েই নিজেকে জড়িয়ে রাখতে চাই।

সময় জার্নাল/এসএ

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ