‘সম্পূরক শিক্ষাবৃত্তি’-কি ভাবছে জবিয়ানরা?

প্রকাশিতঃ ৮:৪৭ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১৬ জুন ২০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের চলমান সংকটে সবচেয়ে মানবিক সংকট বাড়িভাড়া সংক্রান্ত বিষয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে ব্যয় বহুল শহর রাজধানী ঢাকাতে অবস্থিত দেশের একমাত্র অনাবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যদিয়ে শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করতে হয়। চলমান করোনা পরিস্থিতি সেই সংকটকে আরও বেশী ঘনীভূত করেছে। টিউশন বা কোচিং ক্লাস করে যারা ঢাকা শহরে জীবিকা নির্বাহ করতো বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের জীবনধারণ এক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংকট অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে মেস মালিকদের সাথে শিক্ষার্থীদের ভাড়া নিয়ে বিরোধ তৈরী হয়েছে। এর মূল কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের মেসভাড়া পরিশোধের আর্থিক সক্ষমতা নেই। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চলমান থাকায় এটি এক মানবিক সংকট তৈরী করেছে। শিক্ষার্থীদের বাড়ি ভাড়া ও শিক্ষা সংকট নিরসনে সম্পূরক শিক্ষাবৃত্তির দাবি করছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী  ও শাখা ছাত্রলীগ কর্মী মো. দেওয়ান মাসুদ খান সময় জার্নালকে বলেন, “আমাদের প্রশাসন সব সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের তুলনা করে কথা বলেন। অথচ তারা যা পায়, আমরা তার তুলনায় কতটা পাচ্ছি। তাদের সুযোগ সুবিধাগুলো দেখুন এবং নিজেদের প্রশ্ন করুন। তাদের মাথাপিছু ব্যয় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০২ টাকা আর আপনাদের জন্য বরাদ্দ থাকে ৫৪ হাজার টাকা। আপনারা কি পাচ্ছেন? এরপরেও কি আপনাদের মনে হয় না এই মহামারীর সময়ে আপনাকে অর্থ সহায়তা দিতে বাঁধ্য প্রশাসন এবং সেই অর্থ আপনার প্রাপ্য? আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫ এর ২৭(৫) ধারা অনুযায়ী সরকার বা অন্যান্য বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত অনুদান বা আয় থেকে প্রয়োজনের নিরিখে বৃত্তি বা উপবৃত্তি দেয়ার কথা আছে। করোনা মহামারীর এই ভয়াবহ সংকটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেই আমাদের পাশে দাঁড়াতে পারে। শিক্ষা উপবৃত্তি শিক্ষার্থীদের সবার অধিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ সুবিধা থেকে আমরা সবাই বঞ্চিত।”

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী অভিজিত বিশ্বাস বলেন, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও আবাসন ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবুও দাঁতে দাঁত চেপে কষ্ট সহ্য করে চালিয়ে যাচ্ছেন পড়াশোনা। যে সময়টা গবেষণাভিত্তিক পড়াশোনার জন্য ব্যয় করার কথা, সেই সময়ে বাসাভাড়া মিটাতে টিউশন করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় জবি শিক্ষার্থীদের। কিন্তু করোনা মহামারীতে বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাদের উপার্জনও। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন পারে না শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটকে অগ্রাহ্য করতে। সম্পূরক শিক্ষাবৃত্তি হয়ে উঠেছে সময়ের দাবী৷ এবং শুধুমাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী না, সকল শিক্ষার্থীরই অধিকার আছে সম্পূরক শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার । কারন, করোনা মহামারীতে বাংলাদেশের ৭৪% মানুষের আয় কমে এসেছে। পূর্বে যেসকল শিক্ষার্থীর সামর্থ্য ছিল, এমতবস্থায় তারা ও সংকটের মুখোমুখি। তাই, সম্পূরক শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হোক সকল শিক্ষার্থীকে।”

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম হিমু বলেন, “বাংলাদেশে যতগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে
তার মধ্যে সম্পূরক শিক্ষাবৃত্তি সব থেকে বেশি দরকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষার্থীদের হল দিতে পারে না, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাও দিতে ব্যর্থ। তবুও এই মহামারীর মধ্যে সম্পূরক শিক্ষাবৃত্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রদান করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই তাদের সমস্যার সমাধান করার পথ নেই।”

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এমএইচ মুসা বলেন, “জবিয়ান ছাত্র-ছাত্রী যারা আছেন অল্প কয়েকজন ছাড়া সবাই মোটামোটি বাসা ভাড়া নিয়েই থাকতে হয়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী পিতা-মাতা থেকে টাকা এনেই পড়াশোনা চালায়, এছাড়া আমাদের একটা অংশ টিউশনি করে পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি বাড়িতেও টাকা পাঠাতো। এই করোনাকালীন সময়ে সবাই বাড়িতে থাকার কারণে বাসায় না থেকেও ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে মালিকরা। বাসায় না থেকেও এ ভাড়াটা পুরোপুরি দিতে গলায় লেগে যাবে সবার। এর জন্য যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে সহযোগিতা করে তাহলে সহজেই এর সমাধান সম্ভব। এখানে সম্পূরক শিক্ষাবৃত্তি যে দাবি রাখা হয়েছে তা পূরনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সাথে থাকতে পারে এবং আমরা এই দাবি জানাই।”

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।