সম্মেলন ঘিরে বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না : কাদের

প্রকাশিতঃ ৩:২৪ অপরাহ্ণ, শুক্র, ৮ নভেম্বর ১৯

নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় সম্মেলনে নেতাকর্মীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে সুশৃঙ্খলতা বজায় রেখে নির্ধারিত তারিখেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে করণীয় নিয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সেই তারিখ অনুযায়ী সম্মেলন করতে হবে। কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা হবে সুস্থ। অসুস্থ প্রতিযোগিতা কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না।

এক প্রতিনিধি সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা প্রতিনিধি সম্মেলনে গিয়েছিলাম। তারপরও পত্রপত্রিকাগুলোতে রাজশাহীর খারাপ খবরে ভরে গেল। এটি আমাদের জন্য দুঃখজনক। এ সম্মেলনে সব তিক্ততার অবসান ঘটবে বলে আমি আশা করি।

বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সম্মেলন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের শাখা সংগঠনগুলোর জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠিত হচ্ছে এবং সেসব বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দলের অনুপ্রবেশকারীদের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের পার্টিতে যারা এসেছেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন। অনেক ক্লিন ইমেজের লোকও আমাদের পার্টিতে এসেছেন। তাদের সাম্প্রদায়িক সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড যদি না থাকে এবং কোনো মামলা মোকদ্দমা বা অপরাধমূলক কাজে যদি সংশ্লিষ্টতা না থাকে; তাহলে তারা অবশ্যই অনুপ্রবেশকারী নন। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদেরই অনুপ্রবেশকারী হিসেবে সিলেক্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা।
বিতর্কিতরা ছাড়া কেউ আওয়ামী লীগ থেকে বাদ পড়েন না। শুধু দায়িত্বের পরিবর্তন হয়।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পদত্যাগ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির অনিবার্য পরিণতি।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, উপ দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিতি ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শুরু করার আগে আগে কৃষক লীগের নতুন নেতৃবৃন্দ ওবায়দুল কাদের ও দলের শীর্ষ নেতাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় কৃষক লীগের নব নির্বাচিত সভাপতি সমীর চন্দ চন্দ্র এবং উম্মে কুলসুম স্মৃতিসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে রাজশাহী বিভাগের সম্মেলন উপলক্ষে করণীয় ও তারিখ নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও রাজশাহী বিভাগের শীর্ষ নেতারা।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ