সরকারি ঋণের চাপ ব্যাংকিং খাতে বাড়ছে

প্রকাশিতঃ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, শনি, ১৮ মে ১৯

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের ঋণ গ্রহণের কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে সেটি নানান আর্থিক থাত থেকে নিশ্চিত করা হলেও এবার তা পুনরায় ব্যাংকিং খাতের ওপরই বেশি চাপ বাড়াচ্ছে।

এমনিতেই খেলাপী ঋণ ও তারল্য সঙ্কট ইস্যুতে এই খাত সবচাইতে বেশি আলোচিত ছিল। কেননা এরই মধ্যে খেলাপীদের নিয়মিত হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন একটি সুবিধা চালু করেছে।

তা সত্ত্বেও এখাত থেকে ঋণ গ্রহণ বেড়ে গেছে সরকারের। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে ৫৬৬ কোটি টাকা বেড়েছে সরকারের মোট ঋণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে সরকারের যে পরিমাণ ব্যয় বেড়ে গেছে সেই হারে আয় বাড়েনি। এতেই সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের ব্যয় মেটাতে গিয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনা বেশ চাপে পড়েছে। যার ফলে ঋণ গ্রহণ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারের রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক অনুদানও কমে গেছে।

অন্যদিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না সরকারের। জাতীয় রাজস্ব বোডর্ (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, চলতি অথর্বছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ হাজার কোটি টাকা কম ছিল রাজস্ব আদায়। ডিসেম্বরের তথ্য আরও হতাশাজনক। জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে ছিল এনবিআর।

কত টাকার ঋণ সরকারের রয়েছে?

গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংক খাত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ৮৮ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। গত ৩০ জুনে যার পরিমাণ ছিলো ৮৮ হাজার ২৫৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ ১০ মাসের ব্যবধানে উল্লেখিত খাত থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৫৬৬ কোটি টাকা।

৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৭০ হাজার ১২৯ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছ সরকার। গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই ঋণের পরিমাণ ছিলো ৬৪ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১০ মাসের ব্যবধানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সরকারে ঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া ঋণ পুরোটা পরিশোধ না করলেও বাংলাদেশ ব্যাংকে অতিরিক্ত রাখায় সার্বিক ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে সরকারের।

আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে ৪ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করেছে সরকার। ২০১৮ সালের ৩০ জুলই পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে সরকারের ঋণ ছিণ ২৩ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। যা এবছরের এপ্রিল মাস শেষে ছিল ১৮ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজ ও ট্রেজারি বিল খাতে। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী এখাতে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। ১০ মাসের ব্যবধানে এর পরিমাণ ৩ হাজার ১১২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ৫ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। যেখানে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরে সরকারের বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারকে কোনো ঋণই নিতে হয়নি। বরং ওই অর্থবছরে আগের বাকি থাকা ১৮ হাজার ২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছিলো সরকার।

ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ

২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এর বাইরেও প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা হিসাব থেকে বাদ দিতে অবলোপন করেছে ব্যাংকগুলো। এগুলোও খেলাপি ঋণ।

এ ছাড়া গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এদিকে, মোট খেলাপি ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ৪৮ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা।

সরকারি বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের খেলাপি ৪ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ৩৮ হাজার ২২৫ কোটি টাকা, বিদেশি ব্যাংকগুলো খেলাপি ২ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে বড় বড় শিল্পগ্রুপ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ফেরত দিচ্ছে না, এতে ব্যাংকের ঋণ আদায় কমে গেছে। সামগ্রিক খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ ব্যাংকই নগদ টাকার সঙ্কটে রয়েছে। এতে ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তহবিল কমে গেছে। বছরখানেক আগেও যেখানে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল সোয়া লাখ কোটি টাকা, সেটি এখন কমে নেমেছে ৭৫ হাজার কোটি টাকায়। যার বেশির ভাগই সরকারি কোষাগারে ট্রেজারি বিল ও বন্ড আকারে রয়েছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ