সাঈদের উদ্যােগে কাজ পেতে পারে ১ কোটি মানুষ

প্রকাশিতঃ ৯:১৫ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০

করোনায় লাখো মানুষ কর্মহীন। বন্যায় ঘরবন্দি হাজারো পরিবার। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় গতানুগতিক ধারার অনেক লোক চাকরি হারা। আত্মসম্মানের কারণে মধ্যবিত্ত সমাজ কারো কাছে মুখ খুলছে না। এর মাঝে কারো কারো উদ্যোগ আমাদের আশার আলো দেখায়, সাহস দেয় এগিয়ে চলার। তেমনি যশোরের সাঈদের অসামান্য একটি উদ্যোগ। তার উদ্যােগে কচুরিপানাকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ফাইবার (সূতা) তৈরি করে বানানো হচ্ছে লেডিস হ্যান্ড ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ, ফুলদানি, পেন হোল্ডার, হ্যাটসহ নানা সুদৃশ্য পণ্য। যশোরের ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুরে চলছে এই কুটির শিল্পের কাজ। বেকারদের কর্মসংস্থানে সৃষ্টি হয়েছে নতুন ক্ষেত্র।

কচুরিপানা দিয়ে কুটির শিল্প তৈরির জন্য ২০১৭ সালে খুলনা বিভাগে শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবকের স্বীকৃতি অর্জনকারী, বাংলা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সাঈদ হাফিজ জানান, ‘বাংলাদেশে জলাশয়ের অন্যতম কচুরিপানা-সমস্যাকে সমাধানে আনার চিন্তা মাথায় ঘুরছিলো। ব্রিটিশ আমল থেকে কচুরিপানা নির্মূলে চেষ্টা চললেও তা সফল হয়নি। তাই এই কচুরিপানাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করি। সেখান থেকেই গবেষণা শুরু করি। বাংলাদেশে এই বিষয়টি প্রথম। আরও বিস্তারিত জানতে মুখোমুখি জেনারেশন ফর বাংলাদেশের সভাপতি ইমরান মাহফুজ

আপনার উদ্যোগ অসামান্য, করোনায় নিশ্চয় থমকে গেছেন। এখন কিভাবে গুছাচ্ছেন? মানে পুনরায় প্রস্তুতির বিষয় যদি একটু বলতেন?

সাঈদ : করোনা আমাদের অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে এটা সত্যি কিন্তু দিয়েছেও কম না। যেমন ধরুন, বেঁচে থাকার জন্য নির্মল প্রকৃতি ও পরিবেশ কতোটা জরুরী তা এখন মানুষ হাড়ে-হাড়ে টের পাচ্ছে। এখান থেকেই আবার শুরু করতে চাই। মানে, দূষিত প্লাস্টিকের কাছে পরাধীনতার যুগে পরিবেশ বান্ধব কচুরিপানার পণ্য সেই প্রয়োজন খানিকটা হলেও মেটাতে সক্ষম হবে বলে আশা করছি।

অনেক অনলাইন ব্যবসা ও উদ্যােক্তার ফারাকটা বুঝে না। কিন্তু আপনি উদ্যােক্তা হিসেবে একজন উদ্যােক্তার প্রধান সংকট ও সম্ভাবনা শেয়ার করতে পারেন।

সাঈদ : অনলাইন ব্যবসা উদ্যোগের একটা অংশ। উদ্যোগের বিস্তার ঘটাতে এটারও প্রয়োজন আছে। তবে উদ্যোগের আসল উৎকর্ষ উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল। আমার মতে একজন উদ্যোক্তার প্রধান সংকট হচ্ছে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। চাকরির কদম মোবারকে মাথা বিক্রির বাজারে লেখাপড়া শিখে উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করাটা রীতিমত একটা অন্যায় আবদার। সেটাকে অতিক্রম করার নামই সম্ভাবনা।

কচুরিপানা নিয়ে আপনার মতো এর আগে কেউ করেছে? আপনার শুরুটা কিভাবে…

সাঈদ: কচুরিপানা নিয়ে এর আগে বাংলাদেশে হস্তশিল্প তৈরির কোনো কাজ হয়নি। প্রয়োজন থেকে শুরু। আমি বড্ড ঠাকুর ভক্ত; তাই প্রচুরতম লোকের প্রভূততম উন্নতির কথা চিন্তা করে আমি একাজ শুরু করি। বর্তমানে আমার অধীনে ৫০ জন কাজ করছে। এটাকে যদি বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করা সম্ভব।

আপনার উদ্যোগের বর্তমান পরিস্থিতি কী? অবস্থান কেমন?

সাঈদ : আন্তর্জাতিক বাজারে হ্যান্ডিক্রাফটের ১৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজার রয়েছে। সেখান থেকে যদি মাত্র ১৭ কোটি মার্কিন ডলার আমরা বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পারি তাহলে আমাদের চেহারা পাল্টে যাবে। আমরা এখন কচুরিপানা দিয়ে তৈরি হস্তশিল্পকে রপ্তানিমুখি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছি।

আমাদের স্বাধীনতা এসেছে, সামাজিক মুক্তির জন্য উচ্চশিক্ষিত কর্মহীন তরুণদের জন্য আপনার ভাবনা জানাবেন।

সাঈদ : সামাজিক মুক্তির আগে মানসিক মুক্তিটা জরুরী। আমরা এখোনো নিজেদের ভালো করে চিনতে শিখিনি। তা না হলে আমরা অন্যের গোলামি করি কী সুখে? আমাদের নিজেদের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। চাকরি নামক চিলে নিয়ে যাওয়া কানের পিছনে ছুটতে ছুটতে আমরা নিজেদের সক্ষমতার কথা ভুলে গেছি। তাই চাকরির জন্য দেশময় ছুঁটে না বেড়িয়ে নিজের উপর আস্থা রেখে দেখুন সেখানে ‘একটি ধানের শিষের উপর একটি শিশির বিন্দু’ আপনার জন্য মুক্তা হয়ে অপেক্ষা করছে।

https://www.facebook.com/KochuriBazar/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।