সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন

প্রকাশিতঃ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ২৮ এপ্রিল ২০

মুহা: জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা : জেলার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে ঘিরে থাকা ১৫ নম্বর পোল্ডারের উপকুল রক্ষা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে সংস্কার কাজ চলমান থাকা অবস্থায় নাপিতখালী ও জেলেখালী অংশে বাঁধের ফাটল মারাত্বক আকার ধারন করেছে।

এদিকে নদীতে জোয়ার বৃদ্ধিসহ ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে যে কোন মুহুর্ত্বে ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁধ ভেঙ্গে ইউনিয়নের বির্স্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়তে পারে। ফলে ভাঙ্গনমুখে বসবাসরত পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার নাপিতখালী এলাকায় উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধের প্রায় দুইশত ফুট এলাকাজুড়ে ফাটল মারাত্বক আকার ধারণ করেছে। জায়গা বিশেষ ফাটল এক ফুটেরও বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। পাশের কপোতাক্ষ নদের চর ভেঙ্গে যাওয়ায় ক্রমেই ফাটল আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। ভাঙ্গনমুখে বসবাসরত পরিবারগুলো রীতিমত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া জেলেখালী এলাকার বাঁধ ড্যাম হয়ে যাওয়ায় ঢেউয়ের আঘাতে প্রায় ২০০ মিটার জায়গাজুড়ে উপকুল রক্ষা বাঁধ সব আইলে পরিণত হয়েছে। যেকোন মুহূর্তে এসব অংশের বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গোটা ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার শংকা তৈরী হয়েছে।

ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন কবলিত অংশ পরিদর্শন করে এসেছেন। তারপর অদ্যবধি ভাঙ্গন প্রতিরোধে কোন উদ্যোগ না নেয়ায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বসবাসকারি জনসাধারণ আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নাপিতখালী গ্রামের আব্দুর রহমান জানান, তার বাড়ির পাশ থেকে জনৈক আব্দুল গফুরের বাড়ি পর্যন্ত,বেড়িবাঁধের ফাটল পাউবো কর্তৃপক্ষ কিছুদিন আগে স্বরেজমিনে এসে দেখে গেছেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ পরেও ভাঙ্গন ঠেকানোর কোন উদ্যোগ না নেয়ায় তিনিসহ আশপাশের প্রায় বিশটি পরিবার চরম ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন পার করছেন।

একই এলাকার ইব্রাহিম ও ইসমাইল গাজীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে নাপিতখালী এলাকায় ফাটল দেখা দেয়া বেড়িবাঁধে কাজ না করা হলে যেকোন সময়ে গোটা গাবুরার চল্লিশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। কপোতাক্ষ নদের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে এলাকার ফসলি জমি ও সহাস্রাধিক বিঘা জমির চিংড়ি ঘের।

একই এলাকার ফজলুল হক ও আমিনুর রহমানসহ কয়েকজনের অভিযোগ, ঘুর্নিঝড় আইলার পর কোন মতে সংস্কার করা হলেও টেকসইভাবে বাঁধ মেরামত করা হয়নি। তাছাড়া পাশের কপোতাক্ষ নদ এবং খোলপেটুয়া নদীর চর ভেঙ্গে যাওয়ায় সংলগ্ন অংশের বাঁধ জীর্নশীর্ন হয়ে পড়েছে। সময়মত মাটির কাজসহ জিও ব্যাগ ‘প্লেসিং’ না করার কারনে এসব জায়গার বাঁধ ফের ভাঙ্গতে শুরু করেছে। অতিসত্ত্বর জিও ব্যাগ ‘প্লেসিং’ এর পাশাপাশি নদ-নদীর স্রোতের গতিপথ পরিবর্তনে কৌশল নির্ধারণের দাবি জানান একাধিবার ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানো এসব ব্যক্তি।

গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, তার ইউনিয়নটি কপোতাক্ষ নদ ও খোলপেটৃয়া নদী দ্বারা বেষ্টিত। আইলার পর বিধ্বস্থ উপকূল রক্ষা বাঁধ গত কয়েক বছরে মারাত্বক অবস্থায় পৌছেছে। হঠাৎ করে নদ-নদীতে জোয়ার বৃদ্ধিসহ ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার চল্লিশ হাজারেরও বেশি মানুষ উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে বেড়ি বাঁধের ভাঙ্গন কবলিত অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া না হলে আইলার সময়কার মতো ভয়ংকর পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হতে পারে আমাদের।

নাপিতখালীর ভাঙ্গন ভয়ংকর পর্যায়ে পৌছেছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট পোল্ডারের দায়িত্বে থাকা সেকশন অফিসার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, গাবুরার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ৭ টি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ‘প্লেসিং’সহ মাটির কাজ শুরু হয়েছে। তবে নাপিতখালী ও জেলেখালী অংশের বাঁধের ভয়াবহতার বিষয়ে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ভাঙ্গন কবলিত উক্ত দুটি অংশ মেরামত জরুরী হয়ে পড়েছে বেল মন্তব্য করেন তিনি।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ