সাতক্ষীরায় বাড়িতে ডেকে এনে প্রেমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, শুক্র, ২৪ এপ্রিল ২০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মেয়ের প্রেমিক জনি নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের পিতাসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপতাল থেকে খুলনায় নেয়ার পথে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ছেলেটি মারা যায়। কলারোয়া উপজেলার যুগিখালী ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মেয়েটির মা, দাদা রিয়াজউদ্দীন ও একই গ্রামের মৃত রহিম বকস দফাদারের ছেলে ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মেয়ের পিতাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আদম ব্যাপারী নামে পরিচিত কামরুল ইসলামের দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেয়ে ময়না খাতুনের (১৬) সাথে একই গ্রামের বজলু রহমান শেখের ছেলে জনি’র প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বুধবার (২২ এপ্রিল) গভীর রাতে ময়না তার প্রেমিক জনির সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলছিল। এ সময় তার পিতা কামরুল পাশের ঘর থেকে বিষয়টি বুঝতে পারে। পরে ওই রাতে মেয়েকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে সে অস্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায় মেয়েটি ওই ছেলেটির নাম উল্লেখ করে বলে তাকে প্রায় সময় মোবাইল ফোনে সে বিরক্ত করে। পরে মেয়ের বাবা কামরুল বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। সকলের সিদ্ধান্তক্রমে মেয়েকে দিয়ে ওই রাতেই ছেলেটিকে তাদের বাড়িতে ডেকে এনে বেদম মারপিট করে তার হাত-পা ভাঙ্গাসহ মাথা থেথলে দিয়ে গুরুতর আহত করে।

জানতে পেরে ছেলের অভিভাবকরা মেয়ের বাড়ি থেকে আহত ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকলে চিকিৎস্যকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওযার পরামর্শ দেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পথে জনি মারা যায়।

এ বিষয়ে মেয়ের বাবা কামরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে ফোনটির সুইচ অফ পাওয়া যায়।

এদিকে খবর পেয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেয়ের মা, দাদা রিয়াজউদ্দীন ও একই গ্রামের মৃত রহিম বকস দফাদারের ছেলে ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলকে আটক করেছে। আটকের বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই তৌফিকুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩জনকে আটক করা হয়েছে। মেয়ের বাবাসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।

সময় জার্নাল/

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ