সিইসি নূরুল হুদার বিরুদ্ধে একজোট চার কমিশনার

প্রকাশিতঃ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ, সোম, ২৫ নভেম্বর ১৯

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে নিয়োগ ইস্যুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন চার কমিশনার। তারা সম্মিলিতভাবে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে চিঠি লিখেছেন সিইসির কাছে। রোববার চার কমিশনারের দপ্তর থেকে  চিঠির কপি গণমাধ্যমকর্মীদের সরবরাহ করা হয়।

ইসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ৩৩৯ কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই পদের বিপরীতে ৮৫ হাজার ৮৯৩ জন আবেদন করেন। এ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনায় ইসির ব্যয় হয় চার কোটি আট লাখ টাকা। জালিয়াতির দায়ে মৌখিক পরীক্ষা থেকে ১৩৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়। যুগ্ম সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ইসির জনবল শাখা এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এসব নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চার কমিশনার।

বর্তমান সিইসি কে এম নূরুল হুদার কাছে লেখা চার কমিশনারের চিঠির শিরোনাম হচ্ছে ‘ইসি সচিবালয়ের কার্যক্রমে ইসির এখতিয়ার প্রসঙ্গে’। ওই চিঠিতে সম্প্রতি এক সভায় নিয়োগ সম্পর্কিত আলোচনার ঘটনা তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনারের প্রশ্নের উত্তরে ইসি সচিব কমিশন সভায় বলেন, নিয়োগের বিষয় এবং এ-সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারবহির্ভূত। বিষয়টি সিইসিও সমর্থন করেন।

সিনিয়র সচিব আরও জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শুধু নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে; কমিশনের অন্যান্য বিষয়ে সিইসির অনুমোদন নিয়ে ইসি সচিবালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।’

কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী ইসি সচিবালয়ের এই ‘কর্তৃত্ববাদী’ পদক্ষেপকে সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন। লিখিত অভিযোগে তারা এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন সিইসিকে।

চিঠিতে বলা হয়, কমিশন সচিবালয়ের জন্য বাজেটে নির্ধারিত খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদনের ব্যাপারে কমিশনই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ। বরাদ্দের অর্থ যেসব খাতে ব্যয় হবে, তা কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত এবং কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। মাঝেমধ্যে নির্বাচন প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত কোনো কোনো বিষয় উপস্থাপন করা হলেও অন্য কোনো আর্থিক বিষয়ে কমিশনকে অবগত করা হয় না। এটা ‘নির্বাচন কমিশন আইন, ২০০৯’-এর ১৬ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এতে বলা হয়, ইসি সচিবালয় আইন অনুযায়ী সব কাজে কমিশনের সংশ্নিষ্টতা রয়েছে। তারপরও সচিবালয় এককভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আইনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ সিইসির ওপর ন্যস্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। একই আইনে অন্য ধারায় ইসি সচিবালয় যাবতীয় দায়িত্ব পালনে সিইসির মাধ্যমে কমিশনের কাছে ইসি সচিব দায়ী থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। একই আইনে ইসি সচিবালয়ের জন্য অনুমোদিত বাজেট নির্ধারিত খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদন ব্যাপারে কমিশনই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবে- এ কথাও উল্লেখ রয়েছে।

 

লকডাউন পরিস্থিতিতে পাঠকদের অবস্থা, সমস্যায় পড়া মানুষদের কথা সরকার, প্রশাসন এবং সকল খবরাখবর আমাদের সব পাঠকের সামনে তুলে ধরতে আমরা মনোনীত লেখাগুলি প্রকাশ করছি। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের পাঠাতে ক্লিক করুন

স্থান, তারিখ ও কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই লিখে পাঠাবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মতামত জানানঃ